magazine_cover_12_january_19.jpg

Tolly Interview

দেব-জিতের সঙ্গে অন-স্ক্রিন প্রতিযোগিতা তো রয়েছেই: সোহম

soham-big কাজ থেকে শুরু করে নতুন বছরের রেজ়োলিউশন… সেই সঙ্গে বাংলা সিনেমা ও টলিউড নিয়ে নিজের মতামত খোলাখুলি জানালেন সোহম চক্রবর্তী। শুনলেন ইন্দ্রাণী ঘোষ

 

নতুন বছরের রেজ়োলিউশন কী-কী নিলেন?
এই রে… নতুন বছরে নিজেকে আরও ঠিকঠাক রাখতে হবে, আরও সুস্থ থাকব, যাতে শুধু নিজে নয়, অন্যকেও ভাল রাখার মানসিকতা তৈরি হয়, সবাই মিলে একসঙ্গে থাকতে পারি। আরও ভাল ছবি যেন সবাইকে দিতে পারি…

 

‘জামাই বদল’-এ কৌশানীর সঙ্গে আপনার প্রথম কাজ…
কৌশানীর সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা কিন্তু দারুণ। হাসি-মজার মধ্যে দিয়ে দারুণ কাজ হয়েছে.

 

রবি কিনাগির সঙ্গে তো পরপর অনেক কাজই করে ফেললেন…
হ্যাঁ, প্রায় চারটে। ওঁর সঙ্গে কাজ করার একটা মজা আছে। স্যার ফ্লোরে প্রচণ্ড ডিসিপ্লিনড, পুঙ্খানুপুঙ্খ গোটা ব্যাপারটার মধ্যে ঢোকেন। রবিদার সঙ্গে থেকে অনেক কিছু শিখেছি… আমরা স্বার্থপর হয়ে শুধু নিজের চরিত্রটাকে দেখি, কিন্তু একজন পরিচালক তো গোটা ছবিটাকেই একসঙ্গে দেখেন, তিনি যখন এসে বলেন যে গোটা বিষয়টা কীভাবে চাইছেন, সেটা অনেকটাই সাহায্য করে।

 

এত নায়িকার সঙ্গেই তো কাজ করে ফেলেছেন। কার সঙ্গে কাজ করতে স্বচ্ছন্দ?
এই রে… সব নায়িকার সঙ্গেই… তারপর কাকে বাদ দিয়ে দেব… পাগল নাকি!

 

এটা কিন্তু পলিটিকালি কারেক্ট উত্তর হয়ে গেল…
না না, প্রত্যেকের সঙ্গেই তো কাজ করা উচিত… এখন তো আর সেই ব্যাপারটা নেই যে উত্তম-সুচিত্রা, ঋতুপর্ণা-প্রসেনজিতের মতো জুটি হবে। চরিত্র ও গল্প যাকে চাইবে, সে সেটাই করবে।

 

‘বাঘ বন্দি খেলা’য় তিনজন সুপারস্টার একসঙ্গে কাজ করলেন। তাও বক্স অফিসে তো সেভাবে সাফল্য এল না…
দেখুন, আশা করা গিয়েছিল যে, তিনজন স্টার আছে মানেই উপচে পড়বে ভিড়। তবে রেসপন্সটা ভালই ছিল। আসলে অনেক সিঙ্গল স্ক্রিন গড়ে তুলতে হবে। দর্শকরা তো সবসময়ই ভাল ছবি দেখতে চান। আমাদেরই দায়িত্ব বাংলা ছবির দর্শককে আবার হলমুখী করে তোলা।

 

কিন্তু সিঙ্গল স্ক্রিন কি সত্যিই আর মাল্টিপ্লেক্সের সঙ্গে পাল্লা দিতে পারবে?
নিশ্চয়ই পারবে। মাল্টিপ্লেক্সে পাঁচশ বা হাজার টাকা দিয়ে সিনেমা দেখার ক্ষমতা কিন্তু খুব কম সংখ্যক দর্শকেরই আছে। সিঙ্গল স্ক্রিন বাঁচানোর জন্য সরকারের তরফ থেকে কিছু স্টেপ নেওয়া হচ্ছে, নানা পরিকল্পনা রয়েছে। বাংলা ছবি কিন্তু কোনও দিক থেকেই পিছিয়ে নেই। দক্ষিণের ছবি বা বলিউডের ছবি কেবল বাজেটের দিক থেকেই আমাদের টেক্কা দিতে পারে, আমরা কিন্তু চেষ্টা করি কম বাজেটে সেই একই আউটপুট দেওয়ার।

 

তা তিনজন সুপারস্টারকে ‘বাঘ বন্দি খেলা’র সেটে পরিচালক সামলাতেন কীভাবে?
একটা সুবিধা হয়েছে, তিনটে গল্প আলাদা-আলাদা। ফলে একটা গল্প শেষ হয়ে আর একটা গল্প শুরু হচ্ছে। আর তিনজন একসঙ্গে খুব কমই ছিলাম।

 

তবে মাল্টি-স্টারার ছবি মানেই সাফল্য, এটা খাটল না…
না। আর এটা শুধু এখন কেন, আগেও হয়নি। মাল্টি-স্টারার ছবির ক্ষেত্রে আসলে দর্শকদের প্রত্যাশাটা বেশি থাকে। আমার ব্যক্তিগত ভাবে মনে হয় যে, যত স্টার থাকবে, তাদের প্রত্যেককেই আলাদা-আলাদা করে জায়গাটা দিতে হবে। আর সেই জায়গাটা দিতে গিয়ে যদি কোনও কারণে মূল গল্পটাই সরে যায়, তখনই বিপদটা ঘটে। সেটা মাথায় রেখে, গল্পের বাঁধুনি ঠিক রেখে, প্রত্যেকটা চরিত্রকে ঠিকঠাক মর্যাদা দিয়ে যদি গল্প বানানো যায়, তা হলে সে ছবি হিট করবে।

 

এরপরে মাল্টি-স্টারার ছবির অফার পেলে করবেন?
হ্যাঁ, কেন করব না! আমার এর পরের ছবি ‘ভূত চক্র প্রাইভেট লিমিটেড’ কমেডি ছবি। সেখানে আমি রয়েছি, বনি রয়েছে, গৌরব রয়েছে।

 

বলিউডে তো তিন খানের অবস্থাই খুব খারাপ…
হ্যাঁ, ওঁরা আমার থেকে অনেক বেশি বুদ্ধিসম্পন্ন। তবে সেখানে কিন্তু ‘অন্ধাধুন’ বেরিয়ে যাচ্ছে, ‘বধাই হো’ বেরিয়ে যাচ্ছে… বলিউডও কিন্তু পালটাচ্ছে।

 

আপনি তো ছবি প্রযোজনাও করেছেন। অভিনয় আর প্রযোজনা কতটা আলাদা?
অবশ্যই আলাদা। যখন আপনি প্রযোজক, তখন গোটা ব্যাপারটা একসঙ্গে দেখতে হবে। আর যখন আপনি অভিনেতা, ক্যামেরার সামনে দাঁড়াতে হবে, তখন চিন্তাটা থাকে অন্য। প্রযোজনা কঠিন। তবে আমি সেখানে ঢুকি না, পুরো দায়িত্বটাই ছেড়ে দিই অন্যের উপর।

 

সুরিন্দর ফিল্মসের সঙ্গে পরপর ছবি করছেন। এদিকে অন্য একটি প্রযোজনা সংস্থার সঙ্গে তো কোনও ছবিই অনেকদিন হয়ে গেল দেখতে পাচ্ছি না…
কই! এই তো এস কে মুভিজ়ের কাজ কাল থেকে শুরু হবে। ক্যামেলিয়ার সঙ্গে… তবে এস ভি এফ-এর সঙ্গে এখনও কোনও প্ল্যান হয়নি। এটা ঠিক যে বেশিরভাগ ছবিই করছি সুরিন্দর ফিল্মসের সঙ্গে। এটা প্রায় একটা হোম প্রডাকশনই হয়ে গিয়েছে।

 

আচ্ছা, একটা জিনিস কিন্তু শোনা যায় যে সিনেমায় সোহমের চরিত্রগুলো বড্ড বেশি একঘেয়ে হয়ে যায়… অন্যরকম চরিত্র কিছু করবেন না?
আমি যে প্রত্যেকটা ছবিতেই চেষ্টা করি আলাদা রকম কিছু করার! হ্যাঁ, পরপর অনেকগুলো কমেডি সিনেমা হয়তো হয়েছে, তার বাইরে তো ‘পিয়া রে’ও করেছি, সেটা তো খুব সিরিয়াস ছিল। ‘রং বেরংয়ের কড়ি’ করেছি… আমি আমার তরফ থেকে চেষ্টা করি। আর আমি সিরিয়াস চরিত্র করতে ভালবাসি। এরপরে আসছে শ্রাবন্তীর সঙ্গে ‘গুগলি’, সেটা খুব সিরিয়াস ছবি। সেখানে নায়ক-নায়িকা দু’জনেই আবার তোতলা।

 

এতদিন ইন্ডাস্ট্রিতে কাটিয়ে ফেলার পর কোন পরিচালকের সঙ্গে কাজ করতে ভাল লাগে?
সবার আগে বলব রাজ চক্রবর্তীর নাম। কারণ রাজ চক্রবর্তীই কিন্তু আজকের সোহমের জন্ম দিয়েছেন ‘প্রেম আমার’ থেকে। এছাড়াও হরনাথ চক্রবর্তী… রাজাদা, রাজীবদা। রাজীবদার সঙ্গে কাজ করলে তো বোঝাই যায় না যে কাজ করছি না পিকনিক করছি! রবিদা আবার আলাদা। এর আগে কৌশিকদার সঙ্গে অনেক আগে টেলিফিল্ম করেছিলাম। কৌশিকদার সঙ্গে বড় পরদায় কাজ করতে চাই। কমলদার সঙ্গে কাজ করার ইচ্ছে আছে, শিবুদার সঙ্গে কথা হচ্ছে…

 

এত ব্যস্ততার মধ্যে বাড়ির লোককে সময় দিতে পারেন?
সেটাই তো হয়ে উঠছে না এখন। তবে যখনই সময় পাই চেষ্টা করি দেওয়ার। কাজ সামলে যে সময়টা থাকে, ওটা পুরোটাই পরিবারের। ফোনও থাকে সাইলেন্ট।

 

দ্বিতীয়বার বাবা হওয়ার অভিজ্ঞতা কেমন?
দারুণ! এটাকে ভগবানের আশীর্বাদই বলব। বাবা হওয়ার পর দায়িত্বও অনেক বেড়ে গিয়েছে।

 

আপনি নিজে তো শিশুশিল্পী হিসেবে কাজ শুরু করেছিলেন। আপনার ছেলেরা যদি আসতে চায় সিনেমার জগতে?
হ্যাঁ, আমার তো খুব ইচ্ছে যে আসুক। ব়ড় ছেলে এখন সেটে আসে, বুঝতে চায় যে কী হচ্ছে… সেদিনই তো ‘মিসকল’ বলে একটা ছবির শুটিং চলছিল। ওদিকে ক্যামেরার সামনে আমি ফাইট করছি, আর এদিকে ছেলেও আমাকে দেখে ফাইট করছে… ও খুব ইন্টারেস্ট নিয়ে গোটা বিষয়টা দেখে।

 

রাজনীতিতে পুরোদস্তুর আসতে চান তো? কিন্তু রাজনীতির জন্য আপনার কেরিয়ারের কি খানিক ক্ষতি হয়ে যায়নি?
রাজনীতিতে তো এখনও আছি। কিন্তু আমি কখনওই বলব না যে রাজনীতি আমার কেরিয়ারের ক্ষতি করেছে। রাজনীতি আর সিনেমা সম্পূর্ণ আলাদা জায়গা। আমি রাজনীতিতে গিয়েছিলাম এটা ভেবেই যে, মানুষ ওখানে ঘরের ছেলে বিট্টুকে পাবেন। আর সোহমকে তাঁরা দেখবেন পরদায়, সিনেমার হিরো হিসেবে।

 

এতদিন টলিউডে কাটিয়ে ফেলার পর কোন জিনিসটা সবচেয়ে খারাপ লাগে?
সত্যি বলতে কী, নতুন যারা আসছে, বিশেষ করে ছোট পরদার বেশ কিছু শিল্পী, তাদের সম্মান জ্ঞানটা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। সিনিয়রদের দেখলে যে সম্মান করা উচিত, সেটা তাদের মধ্যে থেকে হারিয়ে যাচ্ছে। এই শিক্ষাটা অন্তত তারা নিয়ে চলুক।

 

প্রতিযোগিতাকে কীভাবে দেখেন?
প্রতিযোগিতা থাকা তো খুব দরকার। আর সেখানে সবচেয়ে বড় প্রতিযোগী কিন্তু নিজেকেই হতে হয়। নিজেকে ঠিকঠাক করে রাখতে পারলেই দর্শকের মধ্যে থাকতে পারব, ভাল কাজের মধ্যে থাকতে পারব।

 

দেব বা জিতের সঙ্গে প্রতিযোগিতা?
দেব-জিতের সঙ্গে অন-স্ক্রিন প্রতিযোগিতা তো আছেই। একজন ভাল করলে আর একজনকে তো ভাল করতেই হবে। এই স্বাস্থ্যকর প্রতিযোগিতাটা যে-কোনও ক্ষেত্রেই থাকা উচিত। তবে এই প্রতিযোগিতাটার বাইরে ভাল বন্ধুত্বও রয়েছে।

Our Recent Interviews

cc

ছোট পর্দায় ‘অদ্বিতীয়া’র পর, বড় পর্দায় সবে পা রেখেছেন সোহিনী সরকার। জার্নির শুরু বলেই হয়তো কথাবার্তায় সাবধানী তিনি। তবুও তারই মাঝে কেরিয়ার থেকে পার্সোনাল লাইফের নানা কথা বললেন ঋষিতা মুখোপাধ্যায়কে

cc

ছোটপর্দায় ১৬ বছরের অভিনয় জীবন পেরিয়ে এসে দেবলীনা দত্ত আজও অভিনয় করছেন কেন্দ্রীয় চরিত্রে। একঘেয়েমি কাটাতেই নাকি টানা দু’বছর ক্যামেরামুখো হননি তিনি। কেরিয়ার, চরিত্র ও বিয়ে নিয়ে দেবলীনা দত্ত কথা বললেন ঊর্মি নাথের সঙ্গে।

cc

‘রূপকথা নয়’-তে তাঁর অসামান্য অভিনয় আরও একবার সকলের মনে দাগ কেটেছে। কলকাতায় নিজের হোটেলে বসে, রাধিকা আপ্টে মন খুলে কথা বললেন আসিফ সালামের সঙ্গে

1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 >