magazine_cover_12_january_18.jpg

Tolly Interview

আমি আমার লিমিটেশনস জানি: অরিন্দম শীল

arindan-sil-big
সামনেই মুক্তি পাবে তাঁর ছবি ‘আসছে আবার শবর।’ সেই ছবি নিয়ে কথা বলতে বসে উঠে এল সিনেমায় মনোপলি থেকে সমসাময়িক পরিচালকদের কথা। অরিন্দম শীল-এর ভাবনাচিন্তার কথা শুনলেন ঋষিতা মুখোপাধ্যায় ।

ফেলুদা, ব্যোমকেশ, কিরীটী… বলতে গেলে সাহিত্য জগতের প্রায় সব গোয়েন্দায়ই পরদায় এসে গিয়েছেন। এঁদের মাঝে শবর দাশগুপ্তকে আপনি নিয়ে এলেন। তা এত গোয়েন্দার ভি়ড়ে কাজ করতে ভয় করেনি?
প্রথম শবরের ছবিটা করার সময় তো কিছুই মনে হয়নি। তার আগে ‘আবর্ত’ করেছিলাম। সকলে প্রশংসা করলেও, ছবিটা ফ্লপ। আমার ঘর থেকে ২৫ লক্ষ টাকা বেরিয়ে গিয়েছিল। এক আত্মীয় বলেছিলেন, ‘ভবিষ্যতে ভাল কাজের জন্য এটা তোমার ইনভেস্টমেন্ট’। যাই হোক, এরপর যখন শবরের কাজ শুরু করলাম, সকলেই বারণ করেছিল। আমার কিন্তু ভয় করেনি। ভয়টা এখন! পরপর দুটো ছবি করার পর চাপ বেশ বেড়ে গিয়েছে। প্রথম শবর দেখে আসার পর সকলে বলতে শুরু করল, বাংলায় এমন ছবি এই প্রথম। স্টাইল, মেকিং… সবকিছুতেই নতুনত্বের ছোঁয়া। এইগুলো আমি কমপ্লিমেন্ট হিসেবেই নিয়েছিলাম। এখন তিন নম্বর ছবিতে এসে ভয় করেছে, নতুন কী করব, সেটা ভাবতে হয়েছে। এই জার্নিটা এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। সেই কারণেই এবারের শবর অনেক বেশি ডায়নামিক। গল্পে ভায়লেন্স বেশি, পরিধিও। চন্দননগর, লখনউ, কলকাতা, নানা জায়গায় শুট করেছি। গল্পের নাম ‘প্রজাপতির মৃত্যু এবং পূর্ণজন্ম’। তবে গল্প পড়ে ছবিটা না দেখাই ভাল।

আচ্ছা, সাহিত্যনির্ভর ছবি করাটা কি সেফ বেট? ভাল খেলা যায়?
দেখুন, আমরা কেউই সত্যজিৎ রায় নই। যিনি কিনা একাই লেখক, চিত্রনাট্যকার, পরিচালক, মিউজ়িক ডিরেক্টর। কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায় বা সৃজিত মুখোপাধ্যায় ভাল গল্প বলতে পারেন। আমার অত ক্ষমতা নেই। আমি আমার লিমিটেশনস জানি, স্ট্রেংন্থ কী, জানি। মাথা নিচু করে কাজটা করতে ভালবাসি। পরের পর ছবি নিজের গল্প নিয়ে করার সাহস আমার নেই। আসলে ফাঁদা গল্প থেকে আমি ছবি দেখতে পেলে তবেই এগোই। পুরো ছবিটা ক্লিয়ার না হলে ছবিই করব না। স্ক্রিপ্ট করেও বাতিল করি। এই তো কিছুদিন আগেই করলাম। তাড়াহুড়ো করে কাজ করতে পারি না। সেইজন্যই পরের ছবিটা মার্চে শুরু হবে। আমাদের এত ভাল-ভাল গল্প আছে। একা শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়কেই তো শেষ করা যায় না। এই তো পরের ছবিটা সুচিত্রা ভট্টাচার্ষের ‘ঢেউ আসে, ঢেউ যায়’ নিয়ে করব। একটা সেন্টিমেন্টও আছে। শীর্ষেন্দুদা, সুচিত্রা ভট্টাচার্যর গল্প নিয়ে কাজ করব, সেন্টিমেন্ট তো থাকবে। না হলে শিবু (শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়) কেন বারবার সুচিত্রা ভট্টাচার্যর গল্প নিয়ে কাজ করে?

একটা কথা মানবেন, আপনার ছবি করার আগে শবর এতটাও জনপ্রিয় গোয়েন্দা চরিত্র ছিল না। এটা কি কোথাও একটা আত্মশ্লাঘার জন্ম দেয়?
(খানিকটা চুপ করে) না। বরং কৃতজ্ঞতা জন্মায়। আমি আমার কাজ মন দিয়ে করেছি, সেটাই ফল দিয়েছে। কাঁধটা ভারী হয়। আজকে আমার প্রযোজক বলছে ‘অরিন্দম শবর করে যেতে হবে।’ এটা একটা চাপ তো বটেই। এই প্রসঙ্গে একটা কথা বলতে চাই, শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যোমকেশ কিন্তু একটি প্রজন্মকে আকর্ষণ করে। কিন্তু এখন যাদের বয়স ২০ থেকে ২৬ বছরের মধ্যে, তারা কি সেই ব্যোমকেশের সঙ্গে খুব বেশি পরিচিত? আমি তাদের সঙ্গে ব্যোমকেশকে আমার মতো করে পরিচিত করাতে চাই। অনেকে হয়তো গল্পে বদল পছন্দ করবেন না, আবার কিছু মানুষ সেটাকেই ভাল বলে সিনেমা দেখবেন। আমার ক্ষেত্রে এটা হয়েছে। এমন একটা স্মার্ট ছবি বানাতে চাই যে, আমার পাশের স্ক্রিনে ‘টাইগার জ়িন্দা হ্যায়’ চললেও, তাঁরা যেন আমার ছবিটা দেখতে আসেন।

পরিচালক অরিন্দম ঝুঁকি নিতে ভয় পান?
তাহলে ‘ধনঞ্জয়’ করলাম কী করে! সাফল্যের তোয়াক্কা না করে এমন ঝুঁকি কে নিয়েছে? এত কম সময়ে আমার মতো সাফল্য ক’জন পেয়েছে? সৃজিত আছে অবশ্য। তবে বয়সে অনেক ছোট। আমি মধ্যবয়সে এসে পরিচালনা শুরু করেছি। যে সময়ে আমি কেরিয়ারে ভাল সাফল্য পাচ্ছিলাম, সেসময়ে হঠাৎ করে নিজের কমফর্ট জ়োন ছেড়ে এমন একটা বিতর্কিত বিষয় নিয়ে ছবি করলাম, যেখানে ছবিটা সরাসরি মিডিয়া, তদানিন্তন সরকারকে ভুল প্রমাণ করছে। আমাকে এই সাহস দর্শক যুগিয়েছে। আমার এক্সপেরিমেন্টগুলোকে খোলা মনে গ্রহণ করেছে। ফলে বুঝতে পেরেছি, আমি ঠিক পথেই আছি। ‘ধন়ঞ্জয়’ এতটাই ফার রিচিং হয়েছে যে, মু্ম্বইয়ে এক পরিচালক হিন্দিতে ছবিটা করার কথা ভাবছেন।

‘ব্র্যান্ড অরিন্দম’ তৈরি হয়েছে বলছেন। সেই ব্র্যান্ডটা নিয়ে কতটা সচেতন আপনি?
আমি বরাবরই খুব সচেতন। অভিনেতা থাকাকালীনও এটা নিয়ে সচেতন ছিলাম। আমি একজন পাবলিক ফিগার। তাই জনসমক্ষে এমন কিছু আচরণ করতে পারি না, যা আমার ইমেজের ক্ষতি করতে পারে। মানুষ আমার সম্পর্কে যা ভাবে, সেই ভাবনাটা ভেঙে দেওয়া উচিত নয়। আমার অনেক সহকর্মী, জুনিয়র-সিনিয়র জনসমক্ষে এমন আচরণ করেন, যা ঠিক নয়। বুঝে আচরণ করা উচিত। আমি সবসময় পা মাটিতে রেখেই চলি।

arindan-sil-big2

আপনি অভিনেতা, এগজ়িকিউটিভ প্রোডিউসর, পরিচালক… কোন ভূমিকা সবচেয়ে বেশি উপভোগ করেন?
আমি সব কাজই উপভোগ করি। এখনও ক্যামেরার সামনে দাঁড়াতে ভাল লাগে। ভাল ছবির এগজ়িকিউটিভ প্রোডিউসর হতে পারি। তবে এখন এই পরিচালক সত্ত্বাটাই সবচেয়ে ভাল লাগছে।

অরিন্দম শীলের নিজস্বতা কী?
আমার পুরো কাজের মধ্যে একটা যত্ন আছে। সেটা দর্শকের ভাল লাগে। স্টাইলটা মানুষের পছন্দ হয়।

সমসাময়িক পরিচালকদের ঈর্ষা করেন?
করি তো! আমি সকলের কাছ থেকে কাজ শিখি। সৃজিতের ভিশুয়াল ফ্রেমিং বা কৌশিকের গল্প বলার ধরনে আমি মুগ্ধ। কমলেশ্বরের ব্যাপ্তি আমাকে ঈর্ষান্বিত করে, প্রতিমের ফ্রেশনেস বিস্ময় জাগায়। আমরা প্রত্যেকে-প্রত্যেকের কাজ দেখি। আলোচনা করি। সর্বতভাবে বাংলা সিনেমার কী করে ভাল হবে, তার চেষ্টা করি। ভবিষ্যতে যখন সিনেমা নিয়ে কথা হবে, তখন কিন্তু আমাদের সকলকে নিয়েই কথা হবে।

‘বাংলা সিনেমার কী করে ভাল হবে, তার চেষ্টা করি,’ এই কথার উত্তরে জানতে ইচ্ছে করছে, সত্যিই কি ভাল হচ্ছে? প্রত্যেকে-প্রত্যেককে স্পেস দেয় কি? তা হলে একই দিনে ছবি রিলিজ় নিয়ে এত মারামারি কেন?
এটার উত্তর প্রযোজকরা দিতে পারবেন। পরিচালক হিসেবে আমি কিন্তু দায়িত্ব নিই। আমাকে ‘বিসর্জন’ এবং ‘পোস্ত’র সঙ্গে আসতে বলা হয়েছিল, আমি আসিনি। এই তো অতনু রায়চৌধুরী, শ্রীকান্ত মোহতার সঙ্গে কথা বলেছেন। ঠিক হয়েছে, শিবুর ছবি রিলিজ়ের সময় শ্রীকান্ত কোনও বড় ছবি রিলিজ় করবে না। আগে তো এরচেয়েও খারাপ অবস্থা ছিল। এক বড় প্রযোজকের ছবি রিলিজ় করছে বলে, অপর এক প্রযোজক সেই সময়েই ছবি রিলিজ় করাতেন। ভয়ঙ্কর ব্যাপার। আমরা সেখান থেকে সরে এসেছি বা আসার চেষ্টা করছি। আসলে বাংলা ছবি সময় বুঝে ব্যবসা করে। দুর্গাপুজোর সময়ে সাত-আটটা ছবি রিলিজ়ের কারণ, সেইসময়ে ছবি ভাল ব্যবসা করে। এর উলটো দিকও আছে। শিবু দেখিয়ে দিয়েছে, সময়টা কোনও ফ্যাক্টর নয়। কনটেন্ট আসল। ওর ছবি তো সময় দেখে রিলিজ় করেনি। আসলে, সবটা আমাদের হাতে নেই।

এখন বাংলা সিনেমায় প্রযোজকদের সংখ্যা বেড়েছে। পরিচালক হিসেবে আপনার মত?
মনোপলি জিনিসটা মোটেও ভাল ব্যাপার নয়। তা সে সিনেমা হোক বা রাজনীতি। তবে এসভিএফ বোধহয় এটা চায় না। ওদের সম্পর্কে একটা কথা বলা হয়, ওরা নাকি কাউকে উঠতে দেয় না। আমি যখন বাইরে কাজ করতাম, তখন এটা শুনেছি। তখনও জানতাম না, মণি বা শ্রীকান্ত কীভাবে কাজ করে। এখানে এসে দেখলাম ওদের কাজটা। সত্যি বলতে কী, ওদের এত সময় নেই। বিশ্বাস করুন, আমি আর সৃজিত ২০১৯ অবধি এদের সঙ্গে কাজ করছি। ভাবুন, কতটা আগে থেকে প্রস্তুতি নিয়ে রাখে এরা।
ফেসবুকে অনেক ব্যর্থ পরিচালকই ব্যঙ্গ করে লেখেন, এসভিএফ-এর সঙ্গে কাজ না করলে নাকি পরিচালক হওয়া যায় না। প্রতিম দাশগুপ্ত বা মৈনাক ভৌমিক তাহলে কী করে হল? অন্যের সাফল্যকে নিজের অক্ষমতা দিয়ে ঢাকা উচিত নয়। আমি এখন এসবের উর্দ্ধে চলে গিয়েছি। এগুলো গায়ে মাখি না। এরাও মাখে না। ধরুন, এসভিএফ বছরে ১৫টা ছবি করে। এবং হলমালিকদের নিয়মিত ছবি দেয়। সেখানে একজন প্রযোজক একটা ছবি করে হলমালিকদের কাছে নিয়ে গেলে, হলমালিকরা এসভিএফকেই ভাল শো দেবে। কারণ, সারাবছর এসভিএফ-ই তাদের বাঁচিয়ে রেখেছে। এটা দাদাগিরি বললে, দাদাগিরি। পাড়ায় যে ক্ষমতাশালী, সিগারেটের দোকানে গেল দোকানদার তাকেই আগে সিগারেট দেবে। এসভিএফ কিন্তু হিংসে করার মতো কাজ করে।

প্রযোজক হিসেবে এসভিএফের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নামবেন?
কেন নামব না? এই তো শীকান্তই আমাকে প্রযোজক হিসেবে কাজ করতে বলছে। এখন যে সম্পর্কটা আমাদের মধ্যে রয়েছে, প্রযোজক হওয়ার সময়ও যদি সেটা থাকে, তাহলে আমি কখনও আমার ছবি এসভিএফ-এর সঙ্গে রিলিজ় করাব না। ওরাও তাই। এই সিদ্ধান্তটা পারস্পরিক সম্মানের জায়গা থেকেই নেব। তবে আমি আজ যা হয়েছি, সেটা এসভিএফ-এর জন্য, সেটা ভুলে গেলে তো অকৃতজ্ঞ হয়ে যাব।

আর কী-কী কাজ করছেন?
ইন্দো-বাংলা প্রজেক্ট করছি। টেলিভিশনে রূপক সাহার ‘তরিতাপূরাণ’ নিয়ে কাজ করছি। সম্পূর্ণ অন্যভাবে কাজটা করছি। এটা আমার টেলিভিশনকে কিছু ফিরিয়ে দেওয়া। একদিন আমার আর অঞ্জনদার (দত্ত) কথা হচ্ছিল, অঞ্জনদা বলছিলেন, সারাক্ষণ ‘কী হচ্ছে, কেন হচ্ছে’ না ভেবে নিজের জন্য কিছু করা উচিত। এভাবেই ভাল কিছু হবে। আমিও নতুন কিছু করার চেষ্টা করছি। ফ্লপ হলে চলে যাব। আর ভাল হলে দৃষ্টান্ত হিসেবে থেকে যাব।

আর ব্যোমকেশ?
আমি আর অঞ্জনদা বসে ঠিক করেছি, আমার ‘ব্যোমকেশ’ এলে, অঞ্জনদার আসবে না। এ বছর অঞ্জনদা ‘ব্যোমকেশ’ করছেন না। পরের বছরও করবেন না। তবে আমার ‘ব্যোমকেশ’-এ অভিনেতা হিসেবে অভিনয় করবেন। না, এটা কোনও চমক নয়। ওই চরিত্রটা অঞ্জনদা ছাড়া কেউ করতে পারবে না। তাই ওঁকে আমার দরকার।

Our Recent Interviews

cc

ছোট পর্দায় ‘অদ্বিতীয়া’র পর, বড় পর্দায় সবে পা রেখেছেন সোহিনী সরকার। জার্নির শুরু বলেই হয়তো কথাবার্তায় সাবধানী তিনি। তবুও তারই মাঝে কেরিয়ার থেকে পার্সোনাল লাইফের নানা কথা বললেন ঋষিতা মুখোপাধ্যায়কে

cc

ছোটপর্দায় ১৬ বছরের অভিনয় জীবন পেরিয়ে এসে দেবলীনা দত্ত আজও অভিনয় করছেন কেন্দ্রীয় চরিত্রে। একঘেয়েমি কাটাতেই নাকি টানা দু’বছর ক্যামেরামুখো হননি তিনি। কেরিয়ার, চরিত্র ও বিয়ে নিয়ে দেবলীনা দত্ত কথা বললেন ঊর্মি নাথের সঙ্গে।

cc

‘রূপকথা নয়’-তে তাঁর অসামান্য অভিনয় আরও একবার সকলের মনে দাগ কেটেছে। কলকাতায় নিজের হোটেলে বসে, রাধিকা আপ্টে মন খুলে কথা বললেন আসিফ সালামের সঙ্গে

1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 >