magazine_cover_12_february_19.jpg

Tolly Interview

বিপরীতে বয়ফ্রেন্ড থাকলে কাজ করা বেশি আরামদায়ক: কৌশানী মুখোপাধ্যায়

Koushani-big চারপাশে দিব্যি মুখ চালিয়ে চলছে খাওয়া-দাওয়া। তিনি, কৌশানী মুখোপাধ্যায় অবশ্য বেশ কষ্ট করেই রেজ়োলিউশন নিয়েছেন কড়া ডায়েট মেনে চলার। তাই শুধু মুড়ি খেতে-খেতেই আড্ডা দিলেন ইন্দ্রাণী ঘোষের সঙ্গে। কথাবার্তায় উঠে এল তাঁর ব্যক্তিগত জীবন, সম্পর্ক থেকে কাজের হিসেবনিকেশ।

 

কৌশানীর নতুন বছরের রেজ়োলিউশন কী?
বাইরের খাবার কম খাব আর হেলদি ডায়েট মেনে চলব। এটাই রেজ়োলিউশন। তবে কতটা কী মেনে চলতে পারব, সেটা জানি না। কারণ, রেজ়োলিউশন তো নেওয়াই হয় ভাঙার জন্য! তবে এবার আমি এটা সিরিয়াসলি শুরু করতে চাই। এমনিতেই খাবারের ব্যাপারে বাঙালির মুখে লাগাম নেই! আর আমি তো খাবারের জন্যই বেঁচে থাকি! আমার কাছে ডায়েটিং করাটা একটা বড় চ্যালেঞ্জ।

 

কী খেতে সবচেয়ে ভালবাসেন?
নিঃসন্দেহে বিরিয়ানি। এটা আমি কখনও ছাড়তে পারব না। আর আমি নানারকম ডেজ়ার্ট খেতে খুব ভালবাসি। আইসক্রিমও আমার খুব প্রিয়। তা ছাড়া আমি চাইনিজ় খাবারেরও ভক্ত।

 

‘জামাই বদল’-এ তো সোহমের সঙ্গে প্রথম কাজ করলেন। কাজের অভিজ্ঞতা কেমন?
গোটা অভিজ্ঞতাটাই খুব ভাল। সোহম সিনিয়র একজন অভিনেতা। তাই ওর সঙ্গে কাজ করে অনেক কিছু শিখেছি। একসঙ্গে অভিনয় করতে গেলে, স্ক্রিন শেয়ার করতে হলে, বেশিরভাগ সময়টাই তো কো-স্টারের সঙ্গে কাটাতে হয়। সেখানে কিন্তু অনেক কিছুই শেখার থাকে। যেহেতু বিট্টুদার (সোহম) অভিজ্ঞতা প্রচুর, তাই কোন সিনে কীভাবে অভিনয় করব, কীভাবে রিঅ্যাকশন দেব, সেই রিঅ্যাকশনটাকে তাৎক্ষণিক কীভাবে ইম্প্রোভাইজ় করব… এগুলো সব আমি আমার সিনিয়র সহ-অভিনেতাদের থেকেই শিখেছি। সোহম খুব ভাল একজন মানুষ। অসম্ভব ঠান্ডা। ওর সঙ্গে আরও কাজ করতে চাই।

 

এত অল্প দিনে অনেকের সঙ্গেই কাজ করে ফেলেছেন। দেব না সোহম, কার সঙ্গে কাজ করতে বেশি স্বচ্ছন্দ?
আমি তো জিতদার সঙ্গেও কাজ করেছি। বনি, অঙ্কুশ… সকলের সঙ্গেই কাজ করেছি। আমি এটার উত্তর দিয়ে আর মার খেতে চাই না! আর আমাকে তো সকলের সঙ্গেই কাজ করতে হবে ভবিষ্যতে। এটাই বলব যে, সকলের সঙ্গেই আমার বন্ডিংটা আলাদা-আলাদা স্তরে। সোহমের সঙ্গে বন্ডিংটা টম অ্যান্ড জেরির মতো নয়। সেখানে কোনও পিছনে লাগা নেই। কিন্তু ওই বন্ডিংটা আমার আছে বনি ও দেবের সঙ্গে। জিতদার সঙ্গে আবার সেটা আলাদা। প্রত্যেক সহ-অভিনেতার সঙ্গে সম্পর্ক তো আলাদা-আলাদা হয়। তাই সকলেই আমার কাছে স্পেশাল, কারণ তাঁরা আমার সহ-অভিনেতা।

 

এর আগে একটা সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন যে, কো-স্টার চেনা না হলে তার সঙ্গে অন-স্ক্রিন রোম্যান্স করতে সমস্যা হয়। এই ব্যাপারটা কতটা বদলেছে?
আসলে এখন এই ব্যাপারটা আমার কাছে একটা পেশা। আমি এটাকে পেশা হিসেবেই দেখি। তা ছাড়া এই কাজটাকে আমি ভালবাসি। কাজটাকে কাজের মতো করে দেখলেই কিন্তু গোটা ব্যাপারটা সহজ হয়ে যায়। তখন প্রথম-প্রথম ছিল, তাই সমস্যা হত। এখন এতদিন হয়ে গিয়েছে, এতজনের সঙ্গে রোম্যান্স করে ফেলেছি, যে এটা অত সমস্যা হয় না। তবে হ্যাঁ, আমি মানি যে, প্রত্যেক কো-স্টারদের সঙ্গেই একটা অফ-স্ক্রিন কেমিস্ট্রি থাকা খুব দরকার। সেই কমফোর্ট জ়োনটা থাকলে প্রত্যেকটা রোম্যান্টিক সিনই বেশ ভাল হয়ে ওঠে।

 

তা হলে আপনার সঙ্গে এখন প্রত্যেক কো-স্টারেরই সুন্দর অফ-স্ক্রিন কেমিস্ট্রি তৈরি হয়েছে বলছেন?
হ্যাঁ, বন্ধুত্বটা তো তৈরি হয়েই গিয়েছে। আর তাদের বউয়ের চরিত্রে আমাকে দেখা যাবে! বন্ধুত্ব যদি ভাল না হয়, তা হলে সেটা করব কী করে!

 

তা হলে কৌশানী, কো-স্টার হিসেবে বয়ফ্রেন্ড থাকার আলাদা কোনও সুবিধে নেই?
সেটার তো অবশ্যই অনেক সুবিধে আছে। কারণ আমি জানি সে কোন মুহূর্তে কীভাবে রিঅ্যাক্ট করবে। উল্টো দিকের মানুষটাও আমাকে জানে। সে জানে আমাকে কীভাবে হ্যান্ডেল করতে হবে। যে মানুষটা ব্যক্তিগত ভাবে আমাকে চেনে না, জানে না, সে তো এই ব্যাপারগুলো বুঝতেই পারবে না। তাই আমার বিপরীতে যদি বয়ফ্রেন্ড থাকে, তা হলে অবশ্যই সেটা আরও বেশি আরামদায়ক।

 

তা হলে অসুবিধে কি কিছুই নেই?
হ্যাঁ, অসুবিধেও আছে। অন্য অভিনেতা হলে তাঁকে বলা যায় , এটা আমি এভাবে করব না। রাগ দেখানো যায়। সেটা বয়ফ্রেন্ডকে বললে তো ‘কাট’ বলার পর ঝগড়াতে পরিণত হতে পারে!

 

শোনা যায়, আপনার নাকি বেশ অ্যাটিটিউড!
তাই! আমার তো কখনও মনে হয়নি এরকম। আমি তো সকলের সঙ্গেই মিশতে ভালবাসি। আর যারা ফ্রেন্ডলি, সকলের সঙ্গে মিশতে ভালবাসে, তারা কোনওদিন অ্যাটিটিউড নিয়ে জন্মায় না।

 

আচ্ছা, স্টারডম জিনিসটা কি তা হলে সত্যিই উপভোগ করছেন?
হ্যাঁ, অবশ্যই! এটা এখন আরও বেশি করে টের পাচ্ছি। স্টারডম তো উপভোগ করার মতোই একটা জিনিস। এটাকে আমি সারা জীবন রেখে দিতে চাই সঙ্গে।

 

চরিত্র নির্বাচনের ক্ষেত্রে আগে কোন জিনিসটা দেখেন?
এমন চরিত্র হবে যাতে দর্শকের ফোকাস সবসময় আমার দিকে থাকবে। আর আমি সবধরনের চরিত্র করতে চাই।

 

চরিত্র নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা তো থাকেই…
চিত্রনাট্য যখন পড়ি, তখনই সেই চরিত্রের মধ্যে প্রবেশ করার চেষ্টা করি। আর ছবির শুটিং যখন শুরু হচ্ছে, তারপর থেকে শুটিং শেষ হওয়া অবধি, সেই চরিত্রের মধ্যে বেঁচে থাকি।

 

ওয়েব সিরিজ় দেখেন তো? বাংলা ওয়েব সিরিজ়ে কাজ করতে চান?
হ্যাঁ, এটা তো এখন খুবই ট্রেন্ডিং। এরকম কোনও সুযোগ এলে নিশ্চয়ই করব।

 

ওয়েব সিরিজ় এত জনপ্রিয়। আপনার কী মনে হয়, ওয়েব সিরিজ় কি আস্তে-আস্তে সিনেমার জায়গাটা নিতে পারবে?
দেখুন, দুটোর জায়গা আলাদা। তবে ওয়েব সিরিজ় কিন্তু এখন ট্রেন্ডিং… দর্শক ভালবাসছে বলেই এতধরনের ওয়েব সিরিজ়ও তৈরি হচ্ছে। আর প্রত্যেকটা ওয়েব সিরিজ়ের কন্টেন্টও কিন্তু খুব ভাল। আমার অবসর সময় কাটানোর সেরা উপায় কিন্তু ওয়েব সিরিজ়। এটা এখন প্রায় নেশার মতো। একটা এপিসোড দেখেই আবার পরেরটা দেখতে ইচ্ছে করে। এমনও হয়েছে, আমি একটা ওয়েব সিরিজ়ের আটটা এপিসোড দেখে ফেলেছি পরপর!

 

কোন পরিচালকের সঙ্গে ভবিষ্যতে কাজ করতে চান?
সকলের সঙ্গেই। কিন্তু আলাদা করে বলব কমলেশ্বরদা (মুখোপাধ্যায়) ও কৌশিকদার (গঙ্গোপাধ্যায়)-র কথা।

 

এবার একটু ব্যক্তিগত কথায় আসি। প্রেম কেমন চলছে? ঝগড়া হয়?
খুব ভাল! হ্যাঁ, ঝগড়া তো হয়ই। কিন্তু আমার তো মনে হয় সেটাই সুস্থ সম্পর্কে ঝগড়া হওয়াই উচিত।

 

আপনাদের মধ্যে কে বেশি ডমিনেটিং? আপনার সব কথা বনি শোনেন?
হ্যাঁ, শোনে তো! যেটা শোনে না, সেটায় ঝামেলা হয়। তবে আমি ওর সব কথা মোটেও শুনি না। তার জন্য অবশ্য বনি ঝামেলাও করে না!

 

কে কী সিনেমা করতে পারেন, সে নিয়ে কোনও পরামর্শ এরে-অপরকে দেন?
না। আসলে কাজের দিকটা আমরা দু’জনেই আলাদা রাখতে পছন্দ করি। আমার মনে হয় সেটা খানিক বুদ্ধিমানেরও কাজ। তবে ব্যক্তিগত জীবনে যে-কোনও পরামর্শ লাগলে সেটা আমি প্রথম বনির থেকেই শুনি।

 

এতদিন তো একসঙ্গে কাটিয়ে ফেললেন। দু’জনে একই পেশায় থাকার সুবিধা বা অসুবিধা কী?
প্রত্যেকটারই ভাল-খারাপ কিছু দিক থাকে। ওর সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করতে ভাল লাগে। কারণ ওর আর আমার কেমিস্ট্রিটা কারওর সঙ্গেই তুলনা করা যায় না। এটা অন্যদের থেকে অনেকটাই আলাদা।

 

পরের কাজ কী-কী?
‘বাচ্চা শ্বশুর’ রিলিজ় করবে ফেব্রুয়ারিতে। একটা নতুন সিনেমা শুরু হচ্ছে সুরিন্দর ফিল্মসের সঙ্গে। সেখানে আমাকে দর্শকরা পুরোপুরি অন্যভাবে দেখতে পাবেন। আপাতত এস ভি এফ-এ সঙ্গে কোনও কাজ করছি না। তবে এরকম কোনও সুযোগ আসলে, নিশ্চয়ই করতে চাইব।

Koushani Mukhopadhyay | interview

Our Recent Interviews