magazine_cover_12_may_18_3.jpg

Tolly Interview

‘‘আমি ‘শব্দ’র চেয়ে ভাল ছবি অনেক করেছি।’’

kaushik-big
‘বিসর্জন’-এর সিকোয়েল ‘বিজয়া’র কথা ঘোষণা করতে এসে কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায় খুললেন মনের আগল। উঠে এল জাতীয় পুরস্কার, সিকোয়েল সমেত আরও নানা কথা। শুনলেন ধৃতিমান গঙ্গোপাধ্যায়

জাতীয় পুরস্কার নিয়ে আলোচনা, ‘দৃষ্টিকোণ’ মুক্তি পাচ্ছে, ‘কিশোরকুমার জুনিয়র’-এর কাজ… এর মধ্যেই ‘বিসর্জন’-এর সিকোয়েল ‘বিজয়া’র ঘোষণা। এতকিছু সামলাচ্ছেন কী করে?
যারা ড্রাম বাজায়, দেখবেন একসঙ্গে দু’হাত-দু’পা ব্যবহার করে। চারটে লিম্ কিন্তু চারটে আলাদা অংশ বাজাচ্ছে। এই চারটে মিললে তবেই একটা ভাল বাজনা তৈরি হয়। ফলে, অর্গানাইজ় হয়ে থাকা, সিঙ্ক্রোনাইজ় করতে পারা, এই পুরো ব্যাপারটাই একটা অভ্যেস।

এই ‘অভ্যেস’টার জন্যই কি অভিনয় আর পরিচালনাটা মেলাতে পারেন? আপনি অভিনেতা হিসেবে বহুল প্রশংসিত, কিন্তু সিনেমাটাও তো আপনাকে সামলাতে হয়!
সত্যি বলতে, আমার এতে অসুবিধে হয় না। আমি অভিনয়টা এতটাই এনজয় করি যে সেটাকে আলাদা কাজ বলে মনেই হয় না। একেবারেই চাপ নিই না। অন্য চরিত্রের মধ্যে থাকাটা খুব আনন্দের। আর আমার টিমের সদস্যরা এত ভাল যে সে সময়ে সিনেমার দায়িত্বই শুধু নিয়ে নেন না, আমাকে ওঁরা গাইডও করেন।

বাংলা সিনেমায় সিকোয়েল জিনিসটা তো খুব একটা দেখা যায় না। তাছাড়া আগের ছবির সঙ্গে তুলনাও হয়। অনেকসময়ই দেখা যায় ফ্র্যাঞ্চাইজ়ি নিচের দিকে নামার সময় খারাপ হতে থাকে…
সবসময় নয়। ফেলুদা ফ্র্যাঞ্চাইজ়ি তো পরের দিকে ভাল হতে থেকেছে। তবে সিকোয়েলের কথা যখন বলছেন, আমরা ধরে নিয়েছি তুলনা হবেই। ওতে বিচলিত হওয়ার কিছু নেই। প্রথম প্রেম, প্রথম বান্ধবীকে কেউ ভোলে না। তার জায়গাটা সবসময় স্পেশ্যাল। আমি ‘শব্দ’র চেয়ে ভাল ছবি অনেক করেছি। কিন্তু মানুষ বলেন ‘শব্দ’র মতো ছবি আর হয়নি। তা বলেন যখন, তাতে তো আমার হাত নেই!

‘বিসর্জন’-এর গল্প কি এতটাই ভাবা ছিল?
দেখুন, সব ছবির ক্ষেত্রেই গল্প অনেকটা ভেবে রাখতে হয়। নাহলে সিনেমার ঘুঁটিগুলি ভাল সাজানো যায় না, শেষ করতে সমস্যা হয়। ‘বিসর্জন’-এর ক্ষেত্রেও তা-ই হয়েছে। আর মজা হচ্ছে, স্টোরির দ্বিতীয় ভাগটা অত্যন্ত শক্তিশালী। এবার ঘরোয়া আড্ডায় এটা নিয়ে আলোচনা হত, তো সুপর্ণ (ছবির প্রযোজক সুপর্ণকান্তি করাতি) বলতে শুরু করল, ‘ছবিটা যখন এত ভাল হল, প্লিজ় সেকেন্ড পার্টটা করো’। ও বলতে-বলতে একটা সময় রাজি হয়ে গেলাম।

‘বিজয়া’-তে বোধহয় এপার বাংলার অংশ বেশি?
হ্যাঁ, আমরা পদ্মার বাংলা দেখেছি, এবার আমরা নাসিরের বাংলা দেখব।

আচ্ছা, ‘নগরকীর্তন’ কবে মুক্তি পাচ্ছে?
আমি না, ঠিক জানি না। এবছরের শেষের দিকে হবে হয়তো। ছবিটাকে আমি যত বেশি সম্ভব ফেস্টিভ্যালে পাঠাতে চাই। তারপর সবার শেষে কলকাতায় প্রকাশ করা হবে। কলকাতায় রিলিজ় না হলে তো ছবি মুক্তি পাবে না!

kaushik-big2

‘নগরকীর্তন’ চারটে জাতীয় পুরস্কার পেয়েছে। তবু এরমধ্যে ঋদ্ধিরটা বোধহয়…
ঐতিহাসিক। তাবড়-তাবড় লোকরা সারা জীবন পায় না। এতে একটা ভাগ্যের ব্যাপারও আছে কিন্তু…

হ্যাঁ, সেই ২০০৬-এ সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের পর তো আর কোনও বাঙালি পাননি!
তার আগেই বা ক’জন পেয়েছেন? অরুণবাবু (মুখোপাধ্যায়) পেয়েছিলেন ‘পরশুরাম’-এ, উৎপল দত্ত বোধহয় পেয়েছিলেন ‘ভুবন সোম’-এর জন্য আর তার আগে ‘নায়ক’-এ উত্তমবাবু। আর তো নেই! আমরা ভেবেছিলাম ঋত্বিক পাবে ‘শব্দ’র জন্য। সেবছর ইরফান খান পেলেন। ঋত্বিক কিন্তু খুব খুশি হয়েছিল ইরফান পুরস্কারটা পাওয়ায়। আসলে চারদিকেই খুব ভাল-ভাল কাজ হচ্ছে। আমরা এই শহরে বসে-বসে কূপমণ্ডুকের মতো ‘এটাই সেরা’ বলি। সেটা তো আর ঠিক নয়! ‘নগরকীর্তন’ চারটে পুরস্কারই ন্যাশনাল ক্যাটেগরিতে পেয়েছে, এটা একটা ভাল ব্যাপার। আমি কিন্তু স্পেশ্যাল জুরি অ্যাওয়ার্ডটা নিয়েও খুব খুশি। কারণ মাত্র একটি ভোটের জন্য ছবিটা সেরা হয়নি। আসলে দ্বিতীয় স্থানাধিকারী ছবিকে ওই পুরস্কারটা দেওয়া হয়।

কৌশিক সেন আমাদের বলছিলেন, যেভাবে আপনি সিনেমাটা তৈরি করেছেন, তাতে ঋদ্ধির পুরস্কার পাওয়াটাই বোধহয় স্বাভাবিক ছিল। এটা কিন্তু কৌশিকবাবু বলছেন ছবিটি না দেখে, কেবল শুনে।
পুরস্কার না দেওয়াটাই খুব মুশকিল। ২০১৮-য় বাংলা ছবির কোনও পুরস্কার অনুষ্ঠানে ঋদ্ধি ছাড়া অন্য কারও পুরস্কার পাওয়া কিন্তু খুব কঠিন। এটা আমি প্রকাশ্যেই বলে রাখলাম, মিলিয়ে নেবেন। জুরির পক্ষে অন্য কাউকে ভোট দেওয়া সম্ভবই হবে না।

দিনকয়েক আগে, আপনি সিনেমার প্রচার নিয়ে কিছু টুইট করেছিলেন, যা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। আপনাকে আক্রমণ করা হয়, আপনিও কাউন্টার করেন। বিষয়টা কী ঘটেছিল বলুন তো?
আরে প্রচার তো আমি আমার সিনেমারও করি। শুধু তা-ই কেন, আমার ছবিতে মুড়ি, নাইটস্প্রে, সাবান, অ্যান্টাসিড… সবকিছুর বিজ্ঞাপন হয়। ওঁরা অতগুলি হোর্ডিং দেন… আমি প্রচার নিয়ে কিছু বলছি না। কারণ ওঁরা ছাড়া তো সিনেমা করাটা মুশকিল। আমি খুব কৃতজ্ঞ ওঁদের কাছে, কিন্তু পরিচালককে তো এগুলোকে কেটার করতে হয় কিছুটা জোর করে। জোর করে ভোজালিতে গেঁথে-গেঁথে সিনেমার মধ্যে এগুলিকে ঢোকাতে হয়। ফলে একটা সময় হতাশা আসতে পারে। ওইরকমই একটা দুর্বল মুহূর্তে ওই কথাগুলি লেখা। কাউকে আমি আক্রমণ করতে চাইনি।

এরকমই একটি হতাশার মুহূর্ত বোধহয় দেখা গিয়েছিল ‘ধূমকেতু’ নিয়ে আপনার টুইটে। ছবির ভাগ্য পরিচালকের হাতে নয়, এমনই বয়ান ছিল টুইটের…
সত্যিই তো হাতে থাকে না। আমি এখনও জানি না কবে সিনেমাটা রিলিজ় করবে। আর আমার কিছু বলারও নেই প্রযোজকদের। ছবিটি খুব মন দিয়ে তৈরি করা হয়েছিল। এখনও বলছি, দেব তারপর থেকে যে সিনেমাই করে থাকুক, ‘ধূমকেতু’ ওর জীবনের অন্যতম সেরা ছবি-ই। সিনেমাটা রিলিজ় হলে আমার ভাল লাগবে, এটুকুই।

Our Recent Interviews