magazine_cover_12_november_17.jpg

Tolly Interview

প্রেম আর শোওয়া! এর বাইরে আর কিছুই নেই: স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়


কথা শুরু হল তাঁর পরের ছবি ‘জাতিস্মর’ নিয়ে। তারপর কথায়-কথায় উঠে এল প্রেম, কেরিয়ার এবং বন্ধুদের বিষয়। সবকিছু নিয়েই নিজস্ব ঢংয়ে স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায় কথা বললেন ঋষিতা মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে

 

‘জাতিস্মর’-এর শুটিং কেমন চলছে?
খুব ভাল! কলকাতা, বোলপুর, নানা জায়গা ঘুরে-ঘুরে শুটিং করছি। অর্ধেক কাজ হয়ে গিয়েছে। বাকিটা এই অগস্টের মধ্যেই শেষ হয়ে যাবে।

 

‘জাতিস্মর’-এ আপনার চরিত্র?
ছবিতে আমার নাম মহামায়া বন্দ্যোপাধ্যায়। বাংলাভাষা ছাড়া অন্য কোনও ভাষায় সহজে সে কথা বলে না। বাংলা, সংস্কৃতি এবং গান নিয়ে পাগল। পেশায় মহামায়া রেডিয়ো জকি। শাড়ি পরে অফিস যায়। অসম্ভব স্পষ্টবক্তা।

 

অনেকদিন পর প্রসেনজিত্ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে কাজ করলেন। তা-ও আবার হার্ডকোর কমার্শিয়াল ছবির বাইরে। অভিজ্ঞতা কেমন?
প্রচণ্ড উত্তেজিত আমি। অনেকদিন ধরেই বুম্বাদার সঙ্গে এমন একটা ছবিতে কাজ করার ইচ্ছে ছিল। শুধু বুম্বাদা নয়, যিশুর সঙ্গেও কাজ করার ইচ্ছে ছিল। আমি আর যিশু আগে অনেক অখাদ্য ছবিতে অভিনয় করেছি। সেসব ছবির কথা দর্শক তো ভুলেই গিয়েছে, আমরাও ভুলতে চাই। সেসময়েই আমরা বলাবলি করতাম, যদি একসঙ্গে একটা ভাল ছবিতে কাজের সুযোগ পেতাম। অবশেষে পেলাম।

 

প্রসেনজিতের সঙ্গে কমার্শিয়াল ছবিতে অভিনয় করেছেন, এবার অন্য ধরনের ছবিতেও অভিনয় করলেন? দুটোর মধ্যে পার্থক্য কী বুঝলেন?
দেখুন, দু’বছর আগেও এই পার্থক্যটা ছিল। আগে আর্ট হাউজ় আর কমার্শিয়াল ছবি হত। বুদ্ধদেব দাশগুপ্তর ছবি ‘উত্তরা’ ছিল আর্ট হাউজ়ের আর স্বপন সাহা করতেন কমার্শিয়াল ছবি। কিন্তু ‘বাইশে শ্রাবণ, ‘আমি আর আমার গার্লফ্রেন্ডস’ এবং ‘জাতিস্মর’কে এই দুটোর কোনও ভাগেই ফেলতে পারবেন না। এখন এটাই ট্রেন্ড! তা ছাড়া আমরা অ্যাক্টররা কখনও এমন ভাবি না যে, আজ থেকে আর কমার্শিয়াল ছবি করব না। যেটা করতে ভাল লাগে, সেটাই করি। বুম্বাদাও তাই ভেবেছেন। কয়েক বছর ধরেই কমার্শিয়াল ছবি করেননি। কিন্তু তা বলে কি ওসব ছবিতে খারাপ অভিনয় করতেন? ‘নায়ক’-এ ওঁর অভিনয় দেখে পাগল হয়ে গিয়েছিলাম। আবার ‘অটোগ্রাফ’ দেখেও ফাটাফাটি লেগেছে। একটা কথা দায়িত্ব নিয়ে বলতে পারি, টলিউডে বুম্বাদাই একমাত্র হিরো, যিনি কিনা প্রতিটি চরিত্রের সঙ্গে নিজেকে নতুন করে তৈরি করেন। নিজের লুক নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট করেন! ‘অটোগ্রাফ’-এর বুম্বাদা আর ‘বাইশে শ্রাবণ’-এর বুম্বাদার মধ্যে কোনও মিল নেই। অন্য কোনও হিরো নিজেদের নিয়ে এত এক্সপেরিমেন্ট করেন না। বা বলা ভাল, সেই সুযোগ তাঁদের নেই। তাঁরা যে ধরনের ছবি করেন, সেখানে এগুলোর প্রয়োজন হয় না।

 

বাজারে গুজব, সৃজিতের ছবি মানেই সেখানে স্বস্তিকা থাকবেন!
কে বলেছে? আমার কাছে সৃজিতের ছবি মানেই বুম্বাদা! ওর সব ছবিতেই তো বুম্বাদা আছে। সেখানে ‘মিশর রহস্য’-এ আমার গেস্ট অ্যাপিয়ারেন্স। এই ছবিতে প্রথম ওর সঙ্গে কাজ করেছি। হ্যাঁ, আপনি যদি এই কথাটা মৈনাক ভৌমিককে নিয়ে বলতেন, তা হলে আমি মেনে নিতাম। লোকে তো মৈনাককে ফোন করে বলেও, “অনেক হল! এবার স্বস্তিকাকে নিয়ে কাজ বন্ধ কর।” মৈনাকের সঙ্গে কাজ করলে বোধহয় লোকের ইরিটেশন হয়! আচ্ছা, অনেক পরিচালক তো দেবকেও বারবার কাস্ট করেন। জিত্-রবি কিনাগীর জুটি একসঙ্গে অনেক কাজ করেছে। তখন কোনও কথা ওঠে না। সেটা যদি বিপরীত লিঙ্গের সঙ্গে হয়, অমনি লোকের মাথাব্যথা শুরু হয়ে যায়। আমার এগুলো নিয়ে কিছু আসে যায় না।

 

এই কথাগুলো কেন হয়?
কোনও কাজ না থাকলে লোকে এসব আলোচনা করতে ভালবাসে! ছেলেবেলা থেকেই এসব দেখে এসেছি। তবে সৃজিত বা মৈনাকের ক্ষেত্রে একটা কথা বলতে পারি, ওরা যে চরিত্রের জন্য যাকে ভাববে, তাকেই নেবে। নিজেদের ভাবনার বাইরে গিয়ে কারও প্রেশারে কাউকে কাস্ট করে না। আর লোকের কথায় কী এসে যায়? যতক্ষণ না সেই কথাগুলোকে পরিচালক পাত্তা দিচ্ছেন, ততক্ষণ ওই কথাগুলো নিয়ে আমিও ভাবি না। আগে আমার সঙ্গে এমন হয়েছে। একবার একটা কমার্শিয়াল ছবির অফার পেলাম। সব ঠিকঠাক, ওমা পরে দেখলাম আমার জায়গায়, অন্য নায়িকাকে নেওয়া হয়েছে। যাকগে, এসব দেখেশুনেই তো ১১ বছর ইন্ডাস্ট্রিতে কাটিয়ে দিলাম। আরও ১১ বছর কেটে যাবে। আসলে আমি কোনও কিছু নিয়ে বিশেষ ভাবি না। একসময়ে পার্সোনাল লাইফে এত লড়াই করেছি, এখন পিছন ফিরে তাকালে নিজেরই ভয় লাগে। আমার জায়গায় অন্য কেউ থাকলে সুইসাইড করত। ২০০০ সালে প্রেগন্যান্ট অবস্থায় আমি যে লড়াই করেছি, সেটার চেয়ে অনেক সহজ ঘটনায় মানুষ ভেঙে পড়ে। ভগবান হয়তো আমাকে একটু বেশিই মানসিক জোর দিয়েছেন। রিয়েল লাইফের ঘটনা আমার অভিনয়কে আরও পরিণত করেছে। আমার অভিনয় শিক্ষার গুরু হিসেবে ‘এক আকাশের নীচে’র অনিন্দ্য বন্দ্যোপাধ্যায় আর আমার ঘটনাবহুল জীবনকে ধরা যেতে পারে।

 

আপনি তো কেরিয়ারের শুরুটাই করেছিলেন মায়ের ভূমিকায় অভিনয় করে?
হ্যাঁ আমি জানতাম, আমাকে টিকে থাকতে গেলে অভিনয়টাই করতে হবে! কোনও নায়িকাই তাঁর প্রথম কাজ এক সন্তানের মা হিসেবে শুরু করবেন না। অনেকে তো ৩০ বছর বয়সে এসেও টিনএজ গার্লের ভূমিকায় অভিনয় করে। কিন্তু আমার উপর কোনও প্রোডাকশন হাউজ়ের ছায়া নেই। ভাল দেখতে লাগা, শর্ট স্কার্ট পরে গাছের ডাল ধরে নাচা, এগুলো আমি পারব না। এটা তো সকলেই করে। আমাকে আলাদা কিছু করতে হবে। তাই করেছি আর দেখুন টিকেও গিয়েছি।

 

একটু অন্য প্রশ্ন করি। ‘বস’ আর ‘প্রলয়’ একসঙ্গে রিলিজ় করছে। আপনার ভোট কোনদিকে?
(হাসি) আপনারা বেশ শয়তান তো! এমন বিতর্কিত প্রশ্নের কোনও উত্তর দিতে চাই না। দুটো ছবি দু’ধরনের। পরম প্রচুর স্ট্রাগল করেছে। টেলিভিশন থেকে শুরু করে আজকে ওর সোলো ছবি দিয়ে পোস্টার হচ্ছে দেখেই ভাল লাগে। অন্যদিকে জিত্ও খুব খেটেছে। দুটোই দেখব।

 

‘জাতিস্মর’-এর পর কী করছেন?
মৈনাক ভৌমিকের ‘ফ্যামিলি অ্যালবাম’ করছি।

 

আপনি কি প্রেম করছেন?

না, অনেক হয়েছে! এই ৩২ বছর বয়সে প্রেম, বিয়ে জাস্ট পোষায় না! যদি প্রেম করতেই হয় কলকাতার বাইরে, ইন্ডাস্ট্রির বাইরে কাউকে খুঁজব। এই এক মুখ, এক আলোচনা দেখে-শুনে বোর হয়ে গিয়েছি।

 

কিন্তু লোকে বলে সৃজিতের সঙ্গে…
ওমা আমি তো শুনলাম, আমি নাকি অনুপম রায়ের সঙ্গে প্রেম করছি! আসলে টুইটারে আমি যার সঙ্গে ছবি দেব, অমনি লোকে ধরে নেবে, ওই ব্যক্তিটিই আমার প্রেমিক! ‘আমি আর আমার গার্লফ্রেন্ডস’-এর সময় আমি আমার সঙ্গে রাইমা আর পার্নোর ছবি পোস্ট করেছিলাম। অনেকে আমাকে প্রশ্ন করেছিল, ‘আপনি কি লেসবিয়ান হয়ে গেলেন?’ আসলে মানুষকে একটা কনক্লুশন ড্র করতে হয়। তা সে প্রেমই হোক বা শোওয়া। এর বাইরে তো আর কিছু নেই। আমি তো ঠিক করেছি, সেক্সুয়াল ওরিয়েন্টেশন চেঞ্জ করে ফেলব! তখন হয়তো প্রশ্ন তোলার আগে লোক খানিকটা ভাববে! মেয়েঘটিত হলে, এতটা প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হবে না। এখন আমাকে কেউ যদি কারও নাম জড়িয়ে সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন করে, আমি সঙ্গে-সঙ্গে হ্যাঁ বলে দিই। তখন আবার সেই বলে, ‘ওমা আমি তো জানতাম তমুকের সঙ্গে?’ আমি বলি ‘ওটাও আছে’!

 

ইন্ডাস্ট্রিতে আপনার ‘গার্লফ্রেন্ডস’?
নেই! ইন্ডাস্ট্রিতে কোনও বন্ধু নেই। তবে রাইমা বা পার্নোর সঙ্গে আমার ভাল সম্পর্ক আছে।