magazine_cover_12_september_17.jpg

Tolly Interview

পাশবালিশটাকে নৌকা বানাতাম আর মায়ের শাড়ি খাটের ছত্রিতে লাগিয়ে আবদুল মাঝি হতাম…

১৪-১৫ বছরের অভিনয় জীবনের মোড় কীভাবে ঘুরে গেল? কারা সাপোর্ট করল তাঁকে? ব্যবসা লাটে উঠতে নাকি ভাগ্য খুলে গিয়েছিল! কেরিয়ার থেকে জীবন, বিয়ে, প্যাশন এবং ভবিষ্যতের ইচ্ছে-অনিচ্ছের কথা বললেন অভিনেতা সুমিত সমাদ্দার। শুনলেন ঊর্মি নাথ।

 

আপনার অভিনয় জীবন তো প্রায় ১৪-১৫ বছর হতে চলল। অথচ অনেকেই হয়তো ভাবেন ‘ভূতের ভবিষ্যত্’ আপনার ডেবিউ ফিল্ম।

হাসি… ‘ভূতের ভবিষ্যত্’-এর আগে ‘পাতাল ঘর’, ‘বাইশে শ্রাবণ’, ‘অটোগ্রাফ’, ‘মুক্তোধারা’ ইত্যাদি ছবিতে কাজ করেছি। কিন্তু এখন বললে, কেউ আমাকে মনে করতেই পারবে না! ‘ভূতের ভবিষ্যত্’ আমার জীবনের টার্নিংপয়েন্ট। অবশ্য এই ছবিটার পর ‘জাতিস্মর’, ‘বঙ্কুবাবু’, ‘বাড়ি তাঁর বাংলা’য় অভিনয় করেছি। তখন কিন্তু অনেকের কাছ থেকে ফিডব্যাক পেয়েছি। আমার অভিনয় আলাদা করে দর্শক লক্ষ্য করেছেন, তাঁদের ভাল লেগেছে।

 

আপনাকে লক্ষ্য করেছেন সুমিত সমাদ্দার হিসেবে না ‘ভূতের ভবিষ্যত্’-এর ‘ভূতনাথ’ হিসেবে?

মানে?

 

বলতে চাইছি যে, দর্শক পর্দায় এখন আপনাকে দেখে কী বলেন? সুমিত সমাদ্দার হিসেবে নাকি বলেন, ‘ওই দেখ ভূতনাথ’?

হাসি…. মজার কথাটা হয়তো অনেকেই জানেন না যে, আমার কিন্তু ভূতনাথের চরিত্রটা করারই কথা ছিল না। আমি পেয়েছিলাম গুছাইতের চরিত্রটা! ‘ভূতের ভবিষ্যত্’-এর কাস্টিং নিয়ে কথা হওয়ার সময় অনীকদা আমাকে জিজ্ঞেস করেছেন, ‘বাঙাল ভাষা ভাল বলতে পারে এমন লোকের খোঁজ দিতে পার।’ আমার তো সঙ্গে-সঙ্গে লামার কথা মনে হয়েছিল। অনীকদাও রাজি হয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু লামার কোনও অসুবিধা থাকায় ও চরিত্রটা করেনি। তখন ওই চরিত্রটা আমি পেলাম। আমি যে বাঙাল ভাষাটা বলতে পারি, সেটা আগে না বলে চেপে যাওয়ায় অনীকদা মৃদু ধমক দিয়েছিলেন। ছবিটা দেখার পর লামা কিন্তু আমাকে ফোন করে অনেক শুভেচ্ছা জানিয়েছিল। এই প্রসঙ্গে আর একটি কথা বলি, ‘ভূতের ভবিষ্যত্’ যে এরকম একটা ইতিহাস রচনা করবে তা কিন্তু কেউ আমরা ভাবিনি। যে ছবি ভারতে পাঁচটি ভাষায় রিমেক হচ্ছে সেই ছবি প্রথম দু’সপ্তাহ প্রায় চলেইনি। আমি, অনীকদা সাউথসিটি মলে গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতাম। প্রেক্ষাগৃহ থেকে এই ছবিটি দেখে বেরনো লোকজনের reaction লক্ষ্য করতাম। আমরা একটু হতাশই হয়ে পড়েছিলাম বলতে পারেন। কিন্তু তৃতীয় সপ্তাহের মাঝামাঝি থেকে যা হল তা আপনারা জানেন।

 

আপনার অভিনয়ের journeyটা কীভাবে শুরু হল?

বাড়িতে নাটক, গান আবৃত্তির একটা পরিবেশ ছিল। বাবা হাংরি জেনারেশনের লোক ছিলেন। ছোট থেকেই দেখেছি প্রতিমা বন্দ্যোপাধ্যায়, অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত, শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় ও তাঁর বাবা মণি মুখোপাধ্যায় বাড়িতে প্রায়ই আসতেন। মা খুব ভাল আবৃত্তি করতেন। বাবা ভাল গান গাইতেন। ছোটবেলায় আমি রবি ঠাকুরের আবদুল মাঝির গল্প পড়ে পাশবালিশটাকে নৌকা করে মায়ের শাড়ি খাটের ছত্রিতে লাগিয়ে আবদুল মাঝি হয়ে খেলতাম। ছাত্রাবস্থায় ‘চোখ’ নামে একটি নাটক দলের যুক্ত হই। পথনাটিকা করতাম। অভিনয়টা আমার শখ ছিল। ওটা পেশা করার সাহস পাচ্ছিলাম না, কারণ বাড়ি থেকে এ ব্যাপারে সার্পোট পাইনি। দাদারা সকলেই সরকারি চাকরি করেন। তাই হয়তো গান-নাটক নিয়ে চর্চা করা যায় কিন্তু সেটা পেশা করার কথা আমার বাড়ির লোকজন ভাবতেও পারেননি।

 


‘ভূতের ভবিষ্যত’ ছবির একটি দৃশ্য

তার মানে বাড়ি থেকে বাধা এসেছিল?

না ঠিক বাধা আসেনি, বলতে পারেন, support পাইনি। কলেজে পড়তে-পড়তে একটা কোম্পানিতে চাকরিতে ঢুকি। মার্কেটিংয়ের চাকরি। বেতন পেতাম ৬০০ টাকা (হাসি)! তখন ঠিক করেছিলাম নিজের খরচ নিজেই চালাব। মার্কেটিংয়ের একটা কথা আছে ‘গুবলু’ অর্থাত্ ফাঁকি দেওয়া। কাজের নামে বেরিয়ে শিয়ালদহ বা অ্যাকাডেমিতে গিয়ে পথনাটিকা করতাম। ব্যাগে অন্য শার্ট থাকত, নাটকের আগে টাই খুলে ফেলতাম, শার্ট বদলে নিতাম (হাসি)। কিন্তু একদিন বস দেখে ফেলেন আমাকে নাটক করতে। পরের দিন তিনি নিজের রুমে ডেকে বলেছিলেন, ‘কেন গুবলু দিচ্ছিস? যখন দরকার হবে ছুটি নিয়ে নিবি, তবে টার্গেট মিট করতে হবে।’ তারপর থেকে টার্গেট মিটও করতাম, নাটকও করতাম। কথাটা আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করলাম এটা বলতে যে, আমি বিভিন্ন সময় বিভিন্নজনের থেকে সার্পোট পেয়েছি। কিন্তু নেশা কখনও পেশা হবে সেটা ভাবিনি।

 


কবে ভাবলেন?

সে লম্বা গল্প। আমার দুই বন্ধুর সঙ্গে একটি অ্যাড এজেন্সি খুলেছিলাম। ভালই চলছিল, কিন্তু ১৯৯৯ সালে ব্যবসাটা ধাক্কা খায়। সারা পৃথিবী যখন মিলেনিয়াম বর্ষের স্বাগত নিয়ে উন্মুখ, তখন আমি মুখ কালো করে আছি। ব্যবসায় ধাক্কা খাওয়ার পর ঠিক করেছিলাম, ব্যবসা বা চাকরি করব নয়, ফ্রিলান্সিং করব। সেই সময় আমার বন্ধু জয়দেব মুখোপাধ্যায় রামোজি রাও স্টুডিয়োতে কাজ করত। আমি যখন নাটক-থিয়েটার নিয়ে মেতে ছিলাম তখন ও আমার পরিচালনায় অভিনয় করেছিল। ও আমাকে ‘মা মনসা’ সিরিয়ালে ছোট একটি চরিত্রের অফার দিল। চরিত্রটা ছিল ‘দধিমুখ’-এর। মা মনসার পাঁচটা দুষ্টু ভাই ছিল, তার মধ্যে একটি দধিমুখ। শুটিংয়ের জন্য হায়দরাবাদ যেতে হয়েছিল। ৩১ ডিসেম্বর হায়দরাবাদ যাওয়ার জন্য ট্রেনে উঠি। রাত ১২টায় ট্রেনটা কিছুক্ষণ ভাইজ়াগ স্টেশনে দাঁড়িয়েছিল। ট্রেনের মধ্যে থাকা প্রতিটি মানুষ তখন স্টেশনে দাঁড়িয়ে, কাছেই বন্দর ছিল। সেখানে আতশবাজি পোড়ানো হচ্ছিল। তার রোশনাই মানুষ মুগ্ধ হয়ে দেখছিল। আমি কাউকেই চিনতাম না কিন্তু সকলের সঙ্গে নতুন বছরকে স্বাগত জানালাম। এই মুহূর্তটা কোনওদিনই ভুলব না। ‘মা মনসা’র পর অনেকগুলো সিরিয়ালে অভিনয় করেছিলাম।

 

অনীক দত্ত আপনাকে খুঁজে পেলেন কীভাবে? সিরিয়াল থেকে?

না। সঙ্গীতশিল্পী দেবজ্যোতি মিশ্রর সঙ্গে ছ’বছর কাজ করেছি। দেবুদাই অনীকদার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন। তখন অনীকদার পরিচালনায় বেশ কিছু বিজ্ঞাপনে কাজ করেছিলাম। সম্ভবত, প্রথম বিজ্ঞাপনটা ছিল মশলার। তখন ওসব বিজ্ঞাপন সিনেমা হলে সিনেমা শুরু হওয়ার আগে দেখানো হত।

 

দেবজ্যোতি মিশ্রকে assist করতেন! মানে আপনি সঙ্গীতের 

সঙ্গেও যুক্ত?

বললাম না, বাবা ভাল গান গাইতেন। আমিও গুন-গুন করতাম। কিশোরকুমারের বেজায় ভক্ত ছিলাম। তিনি যেদিন মারা গেলেন, সেদিন ওঁকে নিয়ে একটা গান লিখেছিলাম। পরে একদিন মাঠে বসে ওই গানটা বন্ধুদের শোনাই। ওরা জানতে চায়, ‘কার গান?’ নিজে লিখেছি, বলতে পারিনি। বলেছিলাম অমিতকুমারে গান। কিন্তু কিছু বন্ধুর গানের উপর ভালই ফান্ডা ছিল। ধরা পড়তেই সত্য কথা বলে ফেলি। তারপর ওদের অনুপ্রেরণায় গান লেখা, সুর দেওয়া এবং ‘অভিলাশা’ ব্র্যান্ডটি গড়ে তোলা। ‘চাঁদ কেন আসে না’, ‘তোমার চোখে আমার মরণ দেখেছি’ রাঘব চট্টোপাধ্যায়ের কণ্ঠে এই দুটো বিখ্যাত গানের কথা আমার লেখা (হাসি)। আরও অনেক গান লিখেছি। সঙ্গীত পরিচালক ইন্দ্রদীপদার (দাশগুপ্ত) আড্ডায় বসে সে সব গান গাইতাম। আসলে জীবিকার জন্য সেই সময় সব কিছুই করছি, গান লিখেছি, গান করেছি, বিজ্ঞাপনের জন্য লিখেছি, অভিনয় করেছি, সব। একটা সময় এসে মনে হল, আমি আসলে কী করি? আমি গায়ক না অভিনেতা? আমি সুরকার না গীতিকার? মনে হল একটা দিকে ফোকাস করতে হবে।

 


‘কলকাতা কোলাজ’অ্যালবাম লঞ্চের অনুষ্টানে (বাঁ দিকে প্রথমে)

সুমিত সমাদ্দার যে গীতিকার তা তো অনেকেই জানেন না? এর জন্য খারাপ লাগে না? পুরো ক্রেডিটটাই তো গায়ক নেয়।

গীতিকারদের নাম নিয়ে কী কখনও খুব হইচই হয়েছে? এমন অনেক গান সলিল চৌধুরীর লেখা, কিন্তু হয়তো আমরা জানিই না। গীতিকারদের নাম লোকে জানবে, কী জানবে না, সেটা অনেকটা সঙ্গীতশিল্পীদের উপর নির্ভর করে। অনেক শিল্পী যেমন স্টেজে গাওয়ার আগে প্রতিটা গানের গীতিকার ও সুরকারের নাম বলেন, অনেকে বলেন না। যেমন নচিকেতাদা আমার লেখা কোনও গান গাইলে অবশ্যই আমার নাম বলবেন। এখন অবশ্য এফ এম-এর দৌলতে আমরা গীতিকারদের নাম জানতে পারি। সুতরাং এই নিয়ে আক্ষেপ করার কিছু নেই।

 

এখন কী অভিনয় ছাড়া আর অন্য কিছু করছেন?

না। ওই যে বললাম একটা জায়গায় ফোকাস করতে হবে। এখন সিরিয়ালও করি না। তবে সময় পেলে এবং কেউ অনুরোধ করলে বিজ্ঞাপনের জন্য লিখে দিই।

 

আপনি নাটক থেকে পর্দায় এসেছেন এবং এখনও অবধি যে ধরণের ছবি করেছেন সেগুলো ঠিক ঢিশুম-ঢিশুম কমার্শিয়াল ছবি নয়। হার্ডকোর কমার্শিয়াল ছবির অফার পেলে করবেন?

‘চিরদিনই তুমি যে আমার ২’, ‘মিস্টার ফান্টুস’, কিন্তু হার্ডকোর কমার্শিয়াল ছবি, যাতে অভিনয় করেছিলাম (হাসি)। নাটকের ওয়ার্কশপ করার সময় শিখেছিলাম, অভিনেতাকে এক তাল নরম মাটির মতো হতে হবে, যে ছাঁচে ঢোকাবে সেই ছাঁচ হয়ে বেরোবে। অভিনেতা অভিনয় করে না, বিহেভ করে। পরিচালক যেমন বলবে তেমন করবে। কেউ যদি বলেন স্বাভাবিক অভিনয় করতে, তাই করব। কেউ যদি লাউড পছন্দ করেন তা হলে তাই।

 


‘মুক্তধারা’ ছবিতে পুলিশ কনস্টেবলের চরিত্রে (ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তর পিছনে)

মিউজ়িক নিয়েও চিন্তাভাবনা করছেন না?

দেখুন, এখন এত ব্যস্ত থাকি যে সঙ্গীতচর্চা করার মতো সময় পাই না। আর সুরকার হওয়ার জন্য সঙ্গীতের প্রথাগত তালিম থাকা প্রয়োজন, যা আমার নেই। তবে ক’দিন আগে ‘অন্তরাল’ নামে একটি ছবির জন্য গান লিখেছি।

 

বিয়ে করেছেন?

করেছি, তবে ওটাও ফিল্মের মতো অনেক পরে (হাসি)। দিদি আর বন্ধুরা একপ্রকার জোর করেই বিয়ে দিলেন। আসলে আমার জীবনটা তো অনিশ্চিত, তাই ভেবেছিলাম বিয়ে করব না। কিন্তু কপালের লেখা খন্ডাবে কে (হাসি)?

 

স্ত্রীও কি অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত?

একেবারেই না। ও একটি কোম্পানির এইচ আর-এ আছেন। আমার স্ত্রী সবার্ণীকে বিয়ের আগে আমার অবস্থা সব খোলাখুলি বলে নিয়েছিলাম। শ্বশুরমশাইকে বলেছিলাম, মাসে পাঁচ লাখ টাকাও আয় করতে পারি আবার পরের মাসে পাঁচ পয়সা। সুতরাং বুঝে মেয়ে দিন (হাসি)।

 

শ্বশুরমশাই বুঝলেন…

 

হাসি…সবার্ণী কিন্তু আমার উল্টো। একেবারেই ছবি দেখতে পছন্দ করে না। আমার পাল্লায় পড়ে এখন একটু-আধটু দেখে। সিরিয়াল তো একদমই না। ও পছন্দ করে নাটক। তবে পাঁচ মিনিটের জন্য হলেও আমার ছবির প্রিমিয়ারে যায়। আসলে অফিস নিয়ে সর্বাণীও খুব ব্যস্ত থাকে। তা সত্ত্বেও বাড়িতে আমার বন্ধুরা আসে, সারারাত আড্ডা হয়, খাওয়া-দাওয়া হয়। সব কিন্তু ওই সামলায়।

 

অবসরে কী করেন?

নিউজ় পেপার খুঁটিয়ে পড়ি, টেলিভিশন দেখি।

 


‘অন্তরাল’ ছবির মিউজ়িক রিলিজ়ে ছবির অন্যান্য কলাকুশলীদের সঙ্গে সুমিত (বাঁ দিকে প্রথম)

গিন্নিকে সাহায্য করেন না?

গিন্নি আমাকে রান্না ঘরে ঢুকতে দেন না (হাসি)। সংসারে কোনও কাজ সেভাবে করতে হয় না, ও ম্যানেজ করে নেয়।

 

আপনার স্ত্রী কি আপনার কাজের সমানোচনা করেন?

মারাত্মক সমালোচক (হাসি)! কোনও চরিত্র ভাল না লাগলে মুখের ওপর স্পষ্ট বলে দেয়।

 

বেড়াতে যান না?

বাবার রেলে চাকরি করতেন। তাই প্রায় গোটা ভারত ঘুরেছি। আমার ঘুরতে খুব ভাল লাগে। এখন সময়ের অভাবে সেটা কমে গিয়েছে। তবে কখনও সর্বাণী বা আমি ছুটি ম্যানেজ করতে পারলে লং ড্রাইভে বেরিয়ে পড়ি।

 

গাড়ি, ফ্ল্যাট… এখন নিশ্চয় আর্থিক অনিশ্চয়তাটা কেটেছে?

হ্যাঁ, আর্থিক অনিশ্চয়তা অনেকটা কেটেছে। কিন্তু জানেন তো, অভিনেতাদের জীবন সব সময় অনিশ্চিত। মনে আছে, সত্যজিত্ রায় পরিচালিত ‘নায়ক’-এ একটা সংলাপ ছিল, ‘মরা হাতি লাখ টাকা, প্রবাদটা তা হলে মিথ্যে?’ অভিনেতা অসীমকুমারকে মনে আছে? পাঁচ, ছয় ও সাত দশকের জনপ্রিয় অভিনেতা। তাঁকে পড়ন্ত বয়সে দেখেছিলাম, ময়লা জামা পরে অন্যের থেকে বিড়ি চেয়ে খাচ্ছেন! প্রথমে চিনতে পারিনি, পরে বুঝতে পেরে শকড হয়েছিলাম। আমার ফ্ল্যাট আছে, গাড়ি আছে কিন্তু আমার বাড়ি থেকে এনটিওয়ান স্টুডিয়োর ১০ মিনিটের পথ আমি রিকশাতে যেতেই পছন্দ করি। এখনও চায়ের দোকানে দাঁড়িয়ে চা খাই, আড্ডা দিই।

 

পরিচালনায় আসবেন না?

ইচ্ছে তো আছে। তবে মানসিকভাবে এখনও প্রস্তুত হইনি।

 

আপনি থিয়েটার আর কেন করেন না?

থিয়েটার আমার খুব পছন্দের জায়গা কিন্তু স্বেচ্ছায় ছেড়ে এসেছি। অনেক দল আছে, যাদের মাথারা সিরিয়াল-সিনেমায় কাজ করে, কিন্তু দলের ছোটদের ছোট পর্দায় বা বড় পর্দায় কাজ করতে দেওয়া হয় না। এই বৈষম্য যেদিন থিয়েটার থেকে বেরিয়ে যাবে, সে দিন আবার থিয়েটারে ফিরব।