magazine_cover_12_november_18.jpg

Anandalok Review

একা জিৎ

সুলতান, দ্য সেভিয়র
sultan-still

পরিচালক: রাজা চন্দ
অভিনয়: জিৎ, প্রিয়ঙ্কা, মিম

এই ছবিতে বিনোদনের পাশাপাশি যেটা আছে, তা হল বেশ ইন্টারেস্টিং একটা গল্প। রাজা (জিৎ) তার বোন দিশাকে (প্রিয়ঙ্কা) নিয়ে আসে কলকাতায়। দিশা ভাল ছবি আঁকে। বোনকে আর্ট কলেজে ভর্তি করে, চাকরি করে জীবন চালাবে… এই রাজার ইচ্ছে। কিন্তু একটি ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে দেখা যায়, মহিলাপাচার চক্রের সঙ্গে যুক্ত একটি চক্রের লোকেদের মেরে ফেলতে শুরু করেছে রাজা। কিন্তু কেন? সেটা না হয় পরদায় গিয়েই দেখবেন। ফলে ছবিটির সমালোচনায় আসা যাক। জিৎ স্বমহিমায় ফিরেছেন ‘সুলতান’-এ। স্বমহিমায় বলতে, নিজের ক্যারিশমায়। এই ছবির পরতে পরতে জিতের সুপারস্টার সত্তা। তা সে বোনের দায়িত্ববান ভাই হিসেবে হোন বা দুর্দান্ত গুণ্ডার ভূমিকায়। তাঁর লুক পালটেছে। কিন্তু ইমেজের কোনও পরিবর্তন হয়নি। স্ক্রিনে থাকলে, তিনি ছাড়া আর অন্য কারও দিকে নজর যাচ্ছে না। প্রিয়ঙ্কাও ভাল অভিনয় করেছেন। জিতের সঙ্গে পাল্লা দিয়েছেন। কিন্তু কিছু কিছু ক্ষেত্রে একটু একঘেয়ে লেগেছে। মানে, হালফিলে প্রিয়ঙ্কার করা চরিত্রগুলো এবার কোথাও গিয়ে একটু এক মনে হচ্ছে। একজন ভাল অভিনেত্রীর এরকম হওয়াটা বাঞ্ছনীয় নয়। তবে মিমকে দেখতে সুন্দর লেগেছে। তা সে তাঁর স্ক্রিনস্পেস যতই কম হোক। কিন্তু ওই যে বললাম, গল্পটাই ‘সুলতান’কে অনেকটা এগিয়ে নিয়ে গিয়েছে। তার সঙ্গে জিতের মুখ থেকে বেরনো কিছু পা়ঞ্চলাইন… দর্শকের মনে আলোড়ন তোলার পক্ষে যথেষ্ট। কিন্তু একটা প্রশ্ন মনে দাঁনা বাঁধতেই থাকে। গত কয়েক বছর ধরেই বাঁধছে বলা যায়। সেটা হল, কমার্শিয়াল ছবি মানেই কি যুক্তিবুদ্ধি সমস্ত জলাঞ্জলি দিয়ে দিতে হবে? মহিলাপাচার চক্রের পাণ্ডাকে ধরতে গিয়ে পুলিশ মুড়ি মুড়কির মতো গুলি ছুঁড়ছে, পটাপট মানুষ মরছে অথচ তাদের পিছনের থাকা কাচের দেওয়াল বা দরজার একটুও ক্ষতি হচ্ছে না… ব্যাপারটা এই সময়ে দাঁড়িয়ে বিশ্বাসযোগ্য কি? রাজা হঠাৎ করে গাড়ি থেকে ছুটে ছুটে একটা এসইউভি-কে ধাওয়া করতে গেল কেন, বোঝা গেল না। উকিল হিসেবে মিমের কোর্টে আসার দৃশ্য বা স্বল্প পরিসরে কাঞ্চনের অভিনয় হাস্যরস কম, ভাঁড়ামির উদ্রেগ বেশি করেছে। ফলে কিছু কিছু চমক তৈরি হলেও, আদতে এই দৃশ্যগুলো ‘সুলতান’-কে ভারাক্রান্তই করেছে। আর ভিলেনদের ধরে মারার দৃশ্যগুলিতেও জিৎ ওরফে রাজা এতটাই সাবলীল যে, অনেক সময়ই মনে হয়েছে, ভিলেনের এরকম মাপের হিরোর সামনে দাঁড়ানোর কোনও যোগ্যতাই নেই। কিন্তু তাতে কোনও অসুবিধে হয়নি। কারণ জিৎ কমার্শিয়াল ছবির এমন এক স্বপ্নালোক তৈরি করেছেন, যেখানে সব কিছু সম্ভব। যেখানে নায়ক-নায়িকা বা ভিলেন যে-কোনও সময়ে, যে-কোনওভাবে ঢুকে যেতে পারেন। আসলে জিৎ তো জানেন, তিনিই এই ছবির সর্বময় ‘সুলতান’। ফলে কোনও সময়ই তাঁর হেরে যেতে নেই। তাই খামতিগুলোকে ঢেকে একার হাতে সিনেমাটাকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছেন তিনি (কিন্তু ক্যামেরা অনেক সময়ই তাঁর এই লার্জার দ্যান লাইফ ইমেজর সঙ্গ দেয়নি)। আর পরিচালকের করা এরকম কিছু গলদকে নিজের হাতে ঢেকে দিয়েছেন। হতে পারে, এই ছবির আরও খানিকটা ছোট হতে পারত। হতে পারে, চিত্রনাট্য আরও শক্তিশালী হতে পারত, হতে পারে, অভিনয় আরও ভাল হতে পারত। কিন্তু ওই… ‘হতে পারত’গুলো হয়নি তো কী, জিৎ তো আছেন স্বমহিমায়।