magazine_cover_12_decemberr_18.jpg

Tolly Interview

পরিচালনা করবে কী! এই লোকটা তো কোনওদিন ফিল্ম ক্যামেরা চোখেই দেখেনি? : সৃজিত মুখোপাধ্যায়

তাঁকে এতটা অকপট হতে আগে কখনও দেখা যায়নি। নিজের কাজ থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত সম্পর্ক সব নিয়ে মন খুলে কথা বললেন সৃজিত মুখোপাধ্যায়। শুনলেন সায়ক বসু

 

প্রায় প্রতিদিনই ১৮ ঘণ্টা করে ‘জাতিস্মর’-এর শুট করছেন, আজ নৈহাটি তো কাল চন্দননগর, রবিবারও গভীর রাতের আগে কাজ থামাচ্ছেন না…সৃজিত ক্লান্ত বোধ করেন না?
যা বলেছেন। মাঝে-মাঝে এই শেডিউল দেখে নিজেরও যে অবাক লাগে না, তা নয়। কিন্তু পরক্ষণেই বুঝি, এটা সিনেমার প্রতি অসম্ভব টান থেকেই হচ্ছে! আসলে শুটিং ফ্লোরেই আমি সবচেয়ে বেশি কমফর্টেবল। আর সেই কারণেই, সব কিছু ছেড়ে, চাকরি ছেড়ে, শত ঝঞ্ঝাট, স্ট্রেস, কূটকচালি সামলে, ব্যক্তিগত জীবন চুলোয় দিয়েও আনন্দের সঙ্গে সিনেমা তৈরি করতে পারছি আমি! এই ফ্রিডমটা আমার ভাল লাগে। নিজের মতো করে গল্প বলি, মানুষ সেটা পছন্দ করেন, তাই আর ক্লান্ত লাগে না।

 

কিন্তু কখনও কি মনে হয়েছে যে, একটু তাড়াহুড়ো হচ্ছে? ‘মিশর রহস্য’, ‘জাতিস্মর’ বা ‘চতুষ্কোণ’ তো এক বছরের মধ্যে প্রায় কাছাকাছিই তৈরি!
একটু ভুল হল। ওই ছুটি না নেওয়ার কথা বলছিলেন না? সেটা এখন মনে হল, পুরোটা সঠিক নয়। কারণ ‘হেমলক সোসাইটি’র পর আমি প্রায় ছ’মাস কিছু করিনি! বসেই ছিলাম। তখন আমায় কেউ বলেননি, তাড়াহুড়ো কেন করছি না! যাই হোক, এটা ঠিক তাড়াহুড়ো নয়। কারণ, ‘মিশর রহস্য’ গত বছরই হওয়ার কথা ছিল। পরে আটকে যায়। আর ‘জাতিস্মর’ এবং ‘চতুষ্কোণ’-এর গল্পগুলো পুরনো। ২০১০ সালে লেখা। সেদিক থেকে দেখতে গেলে, এখন সবই তৈরি। গল্প তৈরি, স্ক্রিপ্ট তৈরি, আমি শারীরিকভাবে সক্ষম, কাস্টিং পেয়ে গিয়েছি, প্রোডিউসাররা আমায় নিয়ে খুশি, দর্শকও মোটামুটি ছবি দেখতে চাইছেন, তা হলে কেন করব না, এই প্রশ্নটাই বড় হওয়া উচিত। তবে হ্যাঁ, আমার যদি মনে হত, এই শেডিউলের জন্য, আমার কোনও একটি ছবির একটি কাস্টিং, একটি গান বা একটি শটেরও ক্ষতি হচ্ছে, আমি করতাম না।

 

তা এই ছ’মাস বাড়িতে বসে কী করলেন?
একটা ব্রেক নিলাম, একটু রেস্ট। আর গল্প লিখলাম। এই ছ’-সাত মাসে না, প্রায় প্রতি সপ্তাহেই আমার একটা করে গল্প মাথায় আসত। আর সেগুলো দু’-এক লাইন করে লিখে রাখতাম। এছাড়া বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিতাম। পুরনো বন্ধুদের সঙ্গে আবার দেখা হল আর অনুপমের সঙ্গে ‘ঝগড়া’ করলাম!

 

srijit-swastika‘ঝগড়া’ মানে?
হ্যাঁ, ‘ঝগড়া’ই তো! সকলেই তো বলে, আমার আর অনুপমের নাকি আদায়-কাঁচকলায় সম্পর্ক!

 

তা কথা শুনে মনে হচ্ছে, ব্যাপারটা সত্যি নয়…
সত্যি তো নয়ই! অনুপমের সঙ্গে আমার নাড়ির টান আছে। বেঙ্গালুরুর দিনগুলোয় তো ও-ই আমার সঙ্গী ছিল! ওর সঙ্গে কখনও সমস্যা হতে পারে? কিন্তু কী জানেন, আমি মানুষটা এতটাই ওয়ার্কোহলিক যে, অনেক বন্ধুই মুখ ঘুরিয়ে নেন। অনেকে ভুল বোঝেন। আমার মা-ই তো হাল ছেড়ে দিয়েছেন! কিন্তু তাঁরা সকলে একটা কথা জানেন, সৃজিত কাজটা আনন্দ নিয়ে করে।

 

এটাকেই কি ‘ব্যক্তিগত জীবন চুলোয় যাওয়া’ বলছিলেন?
এক্কেবারে। বাড়ির কাউকে তো সময়ই দিতে পারি না। বেড়াতে যাই না। আমার কাছে বেড়ানো মানে, শুটিংয়ের রেইকিতে যাওয়া। আর কাকাবাবুর মাধ্যমে কিছুদিন আগে মিশর ঘুরে এলাম। জানেন, এই কারণেই কাকাবাবুকে আমার এত পছন্দ। ভদ্রলোক এত ঘুরতে ভালবাসেন…

 

তা অনুপমের সঙ্গে ‘নাড়ির টান’ই যদি হবে, তা হলে তিনটি ছবির পর আর ওঁর সঙ্গে কাজ করলেন না কেন? ‘মিশর রহস্য’ বা ‘জাতিস্মর’ তো অনুপমের সুর নয়…
সেটা তো স্ক্রিপ্ট ডিম্যান্ড করেছে বলে। আমার মনে হয়েছিল, ইন্দ্রদীপ বা কবীর সুমনই ছবির প্রতি সঠিক জাস্টিসটা করতে পারবেন। এর জন্য কি অনুপমের সঙ্গে সমস্যা হওয়াটা দরকার?

 

না, তা নিশ্চয়ই দরকার নেই। কিন্তু একটা কথা বলুন, যে অঞ্জন দত্ত ইন্টারভিউতে আপনাকে নিয়ে কটু কথা বলেন, যে কবীর সুমন বাংলা মিউজ়িক ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে প্রায় সম্পর্কই ছেদ করে দিয়েছিলেন, তাঁদের আবার নিজেদের ছবিতে কাজ করাচ্ছেন কী করে?
এমন লোক ইন্ডাস্ট্রিতে কমই আছেন, যাঁর সম্পর্কে অঞ্জনদা কটু কথা বলেননি। আমি এটা সিরিয়াসলি নিই না। বলতে পারেন, কোনওটাই নিই না। যখন উনি বলেন, ‘আমি সৃজিতকে ক্রিয়েটিভ দিক থেকে ইর্ষা করি’, তখনও না। আমি অঞ্জনদাকে অ্যাসিস্ট করেছি, কিছু-কিছু জায়গায় খুব মান্য করি, ব্যস। মোদ্দা কথাটা কী জানেন, আমি এসব নিয়ে মাথা ঘামাই না। কারণ, আমি এখানে ছবি তৈরি করতে এসেছি। আর একটা কথা বিশ্বাস করি, একদিন সকলে মারা গেলে, এই রাগ, অভিমান কিছুই থাকবে না। থাকবে শুধু আমাদের ছবির ডিভিডিগুলো। দেখেছি, এই কথাটা বললে, সকলে ভীষণ উদ্বুদ্ধ হন। সুমনদা তো প্রথমে ‘জাতিস্মর’-এর মিউজ়িক করতে হবে শুনে, না-ই বলে দিয়েছিলেন! কিন্তু যখন বললাম, “ছবিটাতে তোমাকে দরকার, এই সময়ের তোমাকে দরকার,” তখন রাজি হয়ে গেলেন!

 

srijit-swastika2আচ্ছা একটি ছবি, কতটা পরিচালকের এবং কতটা দর্শকের? মানে, আপনি কার কথা ভেবে ছবি তৈরি করেন?
পুরোটাই দর্শকের। আর সেই অনেক দর্শকের মধ্যে একজন দর্শকই হচ্ছেন পরিচালক। তিনি দর্শক হিসেবেই ছবিটা দেখে, একজন প্রোডিউসার জোগাড় করে ছবিটা তৈরি করেছেন! আমিও প্রথমে ছবিটি মনে-মনে দেখি। তারপর লিখি। এই প্রসেসটা যাঁরা ফলো করেন, তাঁদেরই তো ফিল্ম মেকার বলে! হ্যাঁ, বাকি দর্শকের কথাও মাথায় রাখা উচিত…

 

তাই যদি হয়, তা হলে ‘মিশর রহস্য’ নিয়ে এত বিতর্ক হল কেন? কাকাবাবুকে নিয়ে তৈরি ছবিতে গান বা কাকাবাবুর সিঙ্গল ক্রাচ, এগুলো তো দর্শক সোজাভাবে মেনে নিচ্ছেন না!
দেখুন, পুরোটা দর্শকের হলেও, যে-কোনও পরিচালকেরই একটা নিজস্ব ইন্টারপ্রিটেশনের জায়গা আছে। ঋতুদা যেভাবে ব্যোমকেশ বানিয়েছিলেন, অঞ্জনদা কি সেভাবে তৈরি করেছেন? আমি ছবিতে গান আছে বলে নাক সিঁটকোই না। বরং দেখি, সেই গান কীভাবে ব্যবহার করা হয়েছে। গান আমার কাছে খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা ফ্যাক্টর। এটা আমার কাছে ঠিক কীরকম জানেন, ‘এই সিনেমাতে ডায়গল আছে?’ টাইপের। এইভাবে কাউকে ব্রাত্য করে দেওয়া ঠিক নয়। আর এটা তো লেখাই আছে, কাকাবাবু গান শুনতে ভালবাসেন। রসিক মানুষ। তো ছবিতে কেন গান ব্যবহার করব না? কোথাও কি লেখা ছিল যে, ব্যোমকেশ চশমা পরেন? কিন্তু সত্যজিত্‌ রায় থেকে ঋতুদা, সকলেই তো ব্যোমকেশকে চশমা দিয়েছেন! গান থাকলেই, ‘কাকাবাবু’ দেখা যাবে না, এমন তো নয়। আর সিঙ্গল ক্রাচের ব্যাপারে বলি,আটের দশকে লেখা একটা গল্পকে ২০১৩-তে এনে ফেলেছি আমি। ফলে প্রেক্ষাপট তো কিছুটা পাল্টেছেই। সেদিক থেকে দেখলে, দুটো ক্রাচ এখন মেডিক্যালি অবসোলিট। আর কাকাবাবু একজন এমন মানুষ, যিনি প্রোগ্রেসিভ। তাঁকে অনেক লম্ফঝম্ফ করতে হয়। ফলে এখানে অনেক অ্যাকশন সিকোয়েন্স আছে, যেগুলো সিঙ্গল ক্রাচ ব্যবহার করলে আরও ভাল করে করা যায়। তাই-ই…

 

‘জাতিস্মর’-কেও কিন্তু অনেকে উত্তমকুমারের ‘অ্যান্টনি ফিরিঙ্গি’র রিমেক বলে ভাবছেন…
এটাও আরেকটা মিষ্টি বিতর্ক। সেই ‘অটোগ্রাফ’-এর সময় থেকে তাড়া করছে। আমি একটা কথা কিছুতেই বোঝাতে পারি না যে, রিমেক তৈরির বিরোধী আমি। ফ্রেম টু ফ্রেম কপি তো ছেড়ে দিন, জীবনে কোনওদিন রিমেক বানাবও না। ‘অ্যান্টনি ফিরিঙ্গি’ অনেকের কাছে সিনেমা হতে পারে, কিন্তু আমার কাছে তিনি একজন মানুষ। আর সেই তিনি বা তাঁর জীবনই এখানে ‘সাবপ্লট’ হিসেবে এসেছে। ‘জাতিস্মর’-এর মূল গল্প ২০১৩-র। সেখান থেকেই পিছনের দিকে একটু ফিরে যায়। একে ট্রিবিউড বলতে পারেন। এই ছবি ফিরিঙ্গির উপর বায়োপিক নয়। তবে উনবিংশ শতাব্দী খুব বড় একটা জায়গা নিয়েছে।

 

‘জাতিস্মর’র গল্পকে তা হলে কীভাবে ব্যাখ্যা করবেন?
‘জাতিস্মর’ একটা সময়ের দলিল কাম একটা বায়োপিক, কাম একটা পিরিয়ড ড্রামা কাম একটা মিউজ়িক্যাল।

 

আর ‘চতুষ্কোণ’?
চারজন পরিচালক। চারটি গল্প। একটি থিম।

 

কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়, অপর্ণা সেন, গৌতম ঘোষ এবং অঞ্জন দত্ত, চারজনকে এক পর্দায় আনা…একেও কি অসাধ্যসাধন বলবেন না?
জানি না সত্যিই। এঁরা যে রাজি হয়ে গেলেন, এটাই অনেক। তবে চারজনের একসঙ্গে ডেট পাওয়া তো খুব মুশকিল। দেখা যাক, সমস্যার কিছুটা সমাধান তো হয়েছে…

 

প্রথমে ঠিক ছিল ঋতুপর্ণ ঘোষ করবেন। তারপর সেখানে এলেন কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়। চরিত্রটিকে একটু পাল্টাতে হয়েছে নিশ্চয়ই…
একটু মানে? পুরোটাই পাল্টাতে হয়েছে। একেবারে নতুন করে লিখতে হয়েছে বলতে পারেন। খুব কঠিন কাজ ছিল সেটা। আসলে ‘চতুষ্কোণ’ নিয়ে ঋতুদা প্রচুর ইনপুটস দিয়েছিলেন। স্ক্রিপ্ট থেকে আর্ট ডিজ়াইনিং। আমি ভেবেছিলাম, চতুস্কোণ-এ ওঁর উইগ নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট করব। মানে, ঋতুদার যে পুরনো লুকটা ছিল, সেই কোঁকড়া চুল… সেটা ফিরিয়ে আনতাম। কিন্তু দুর্ভাগ্য, হল না। জানেন, ঋতুদা ‘জাতিস্মর’-এর পিরিয়ড ডিজ়াইন করতে চেয়েছিলেন। একটা সায়ক্রিয়াটিস্টের ছোট্ট রোল আছে। সেটাও করতে চেয়েছিলেন।

 

ঋতুপর্ণকে কোনওদিন অ্যাসিস্ট করেননি তো…
এই দুঃখ আমার সারাজীবনেও যাবে না। আসলে ওঁর সঙ্গে আমার ব্যাপারটা না ঠিক একলব্যের মতো। শুধু দুর থেকে দেখে শিখেছি। উনি ‘ঝিন্দের বন্দি’ এবং ‘মহাভারত’ ছবিতে আনবেন বলে প্ল্যান করছিলেন। বলেছিলেন, স্ক্রিপ্টে অ্যাসিস্ট করতে। কিন্তু…

 

এই দুটো ছবি করার ব্যাপারে আপনার কোনও ইন্টারেস্ট নেই?
‘মহাভারত’টা করতে পারব না। কিন্তু হ্যাঁ, ‘ঝিন্দের বন্দি’টা আছে। কিন্তু এখনই নয়। কারণ তা হলে পরপর অনেকগুলো পিরিয়ড পিস হয়ে যাবে।

 

তা কী কী ছবির প্ল্যান করছেন এখন?
আরও দুটো ‘কাকাবাবু’ করব। একটা, ‘কাকাবাবু ও বজ্রলামা’ আর ‘জঙ্গলের মধ্যে একটা হোটেল’ নিয়ে। এছাড়া পার্টিশনের সময় নিয়ে একটা গল্প লিখছি এখন। ইচ্ছে আছে, একটা ভূতের ছবি এবং একটি সায়েন্স ফিকশন করার। একটি সাহিত্যধর্মী খেলার ছবি করব। মতি নন্দীর ‘স্ট্রাইকার’ এবং ‘স্টপার’-কে মিলিয়ে। ‘শিবার ফিরে আসা’ নিয়েও ছবি করার ইচ্ছে ছিল। কিন্তু সেটা বোধ হয় হবে না, কারণ শীর্ষ রায় করছেন। অন্যদিকে নাট্যকার রেজিল্যান্ড রোজ়-এর একটা নাটক আছে ‘১২ অ্যাংগ্রি মেন’ নামে। ওই নাটকটি আমি বেঙ্গালুরুতে ইন্ডিয়ানাইজ় করে মঞ্চস্থ করেছিলাম। ওটাই প্ল্যান আছে ‘ডজ়ন’ নামে করার। খুব ইচ্ছে, প্রোফেসর শঙ্কু করার। কিন্তু বাবুদা দেবেন না বলে দিয়েছেন। দেখা যাক, যদি, সত্যজিতের ছোটগল্পগুলোর ব্যাপারে ওঁকে রাজি করাতে পারি । তা হলে তিন-চারটে গল্প নিয়ে ভাল ছবি হয়ে যাবে।

 

বাপ রে! এত ছবি একসঙ্গে?
বললাম না, সৃজিত ছবি তৈরি করতে ভালবাসে। এটাই ওঁর কাছে একমাত্র রিল্যাক্সেশন!

 

কিন্তু এর মধ্যেও যে অভিযোগ আপনার বিরুদ্ধে শোনা যায়, তা হল, আপনি নাকি কারও কথা শোনেন না! সেটে নিজে যেটা ভাল মনে করেন, সেটাই ফাইনাল ডিসিশন হিসেবে গ্রহণ করেন?
এটা শুনলে আমার ইউনিটের লোকজন খুুব রেগে যাবে। কারণ, আমি একেবারেই এরকম নই। আমি সক্কলের মতামত নিই। কিন্তু দিনের শেষে, অ্যানারকি যদি প্রিভেন্ট করতে হয়, তা হলে একজনের যুক্তি তো মানতেই হবে। ফলে সেটা করতে চেষ্টা করি। হতে পারে, শেষ পর্যন্ত আমার ডিসিশন ধোপেও টিঁকল না। আসলে আমি একটু যুক্তিবাদী। আমাকে যুক্তি দিয়ে বোঝাও, আমি ঠিক মেনে নেব। আমার তো শ্রীকান্ত মণির সঙ্গেও ঘণ্টার পর ঘণ্টা আলোচনা হয়। আমি সব সময়ই গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে বিশ্বাস করি। কিন্তু যুক্তির মাধ্যমে।

 

একজন মানুষের জীবনে স্ট্রাগল কতটা জরুরি?
খুব জরুরি। স্ট্রাগল যদি না-ই করলাম, তা হলে কী হল বলুন! এটা মানুষকে আরও পরিণত করে। আমি কিন্তু মনে রেখেছি, কারা-কারা আমায় শুরুর দিকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসিয়ে রেখেছিলেন বা খারাপ ব্যবহার করেছিলেন! মনে আছে, কেউ বা কারা বলেছিলেন, “‘অটোগ্রাফ’? তুমি তো জীবনে ফিল্ম ক্যামেরাই চোখে দ্যাখোনি!” এইসব মানুষের সঙ্গে বিভিন্ন পার্টিতে না দেখা হয়। কিন্তু আমি ভিনডিক্টিভ নই। কাজের মাধ্যমেই উত্তর দিই। আসলে আমি লোকটা একটু জেদি। যখন ‘মিশর রহস্য’ ক্যানসেল হয়েছিল, তখন ভেবেছিলাম, করবই। কয়েকটা লোক কাঠি করে আটকে দিয়েছিল তো। মনে হয়েছিল, এইভাবে তো কোনও শুটিং আটকাতে পারে না। করে দেখিয়েছিলাম। মিশরে হেন কোনও জায়গা বাকি ছিল না, যেখানে শুট করা হয়নি। আইনে-বেআইনে, পিরামিডে ঢুকে, ‘ইন্ডিয়া-ইন্ডিয়া’ বলে, ‘অমিতাভ বচ্চন’-এর নাম নিয়েও করেছি। আসলে আমি সততায় বিশ্বাস করি। জানি, এটা থাকলে, কোনও কাজই কঠিন নয়।

 

যাই হোক, প্রেমের প্রসঙ্গে আসি। স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে কি আপনি প্রেম করছেন নাকি শুধুই বন্ধুত্ব?
বন্ধুত্বের চেয়ে বড় কিছু হয় নাকি? আমার কাছে ওটাই তো আলটিমেট সম্পর্ক! হ্যাঁ, স্বস্তিকা খুবই কাছের একজন মানুষ। ওঁর সঙ্গে সমস্ত কথা, সমস্ত মজা, দুঃখ শেয়ার করে নেওয়া যায়। কিন্তু এটাকে কোনও সংজ্ঞায় এখনই ফেলতে পারব না। কারণ ওইভাবে মানুষের সম্পর্ক মাপা যায় না।

 

তা বিভিন্ন পার্টিতে বা প্রিমিয়ারে যে একসঙ্গে ঢোকেন এবং বেরন, এটাও কি শুধু বন্ধুত্বেরই খাতিরে?
না, এটা আসলে একটা কন্টিনিউটি। আমি যখন ‘সৃজিত’ ছিলাম না, তখনও ভেবলির সঙ্গে ঘুরতাম। যখন ও পরমের সঙ্গে প্রেম করত, তখনও… কিন্তু বিশ্বাস করুন, তখন কেউ এই প্রশ্ন আমায় করেনি।