magazine_cover_27_november_18.jpg

 

Home sports তাসকিনের ‘স্বীকারোক্তি’!

তাসকিনের ‘স্বীকারোক্তি’!

কী বলবেন, দুর্ভাগ্য? বোধ হয় শুধু দুর্ভাগ্য নয়… শালীনতার অভাব এবং ট্রোল করার মানসিকতাও দায়ী ঘটনাটির পিছনে। শুরুতে খবরটা খুব আনন্দের সঙ্গেই দিয়েছিলেন তাসকিন আহমেদ। আসলে এশিয়া কাপ যখন চলছিল, তখন তাসকিনের স্ত্রী ছিলেন সন্তানসম্ভবা। এশিয়া কাপের ফাইনালে ভারতের কাছে হেরে গিয়েছে বাংলাদেশ। মুষড়ে পড়া সমর্থকদের একটু চাঙ্গা করতে নিজের জীবনের খুশিটা তাদের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের এই খেলোয়াড়। নিজের সন্তান এবং স্ত্রীয়ের একটি ছবি পোস্ট করে…কিন্তু উল্টে প্রতিদান হিসেবে যা পেলেন, তাতে লজ্জায় মাথা হেঁট হতে হয়। তাসকিনের ‘ভক্ত’ হিসেবে থাকা কিছু সাধারণ মানুষ শ্লেষে বিদ্ধ করলেন তঁকে। বিয়ে এবং সন্তান হওয়ার মাঝের সময়ের ব্যবধান নিয়ে প্রশ্ন থেকে শুরু করে চরিত্রিক বৈশিষ্ট্য নিয়েও পোস্ট শুরু হয়। ব্যাপারটা এতটাই নোংরা দিকে যায় যে, শেষে উপায় না দেখে তাসকিন কমেন্টবক্সে নিজে একটি পোস্ট করেন…

‘‘সবার উদ্দেশ্যে ১ টা কথা বলি, কেউ মনে কিছু নিয়েন না , আমার বিয়ে হইসে ১১ মাস. দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজ থেকে এসেই বিয়ে করলাম ৩১ অক্টোবর এবং বিয়ের বয়স হলো ১১ মাস, সাউথ আফ্রিকা ছিলাম ৪৮ দিন, সব মিলিয়ে হল ১২ মাস ১৮ দিন. আমার পুত্র সন্তান হইলো ৯ মাস ২৭ দিনে.. যদি বিয়ের আগে আমার স্ত্রী প্রেগন্যান্ট হইতো তাহলে আমার বাচ্চা বিয়ের ৬ মাস এর মধ্যেই দুনিয়াতে থাকতো..যাই হোক যাদের ভুল ধারণা ছিল আমাদের প্রতি তাদের জন্যে এই মেসেজটি। ধন্যবাদ’’

বলা বাহুল্য, তাসকিনের এই পোস্টের পরেই সহমর্মিতা এবং শুভেচ্ছা সংক্রান্ত অনেক বার্তা এসেছে। কিন্তু প্রশ্নটা থেকেই যাচ্ছে… ফেসবুকে লেখার স্বাধীনতা আছে বলে কি যখন-তখন যা খুশি পোস্ট করা যায়? যদি সেই পোস্ট ‘স্বাধীন, সাবালক’ একজন মানুষের ব্যক্তিগত ইচ্ছে-অনিচ্ছে বা জীবন-যাপনকে কাঠগড়ায় তোলে, তা হলেও? তাসকিনের সঙ্গে হওয়া ঘটনাটা বিচ্ছিন্ন কোনও ঘটনা নয়। ‘সমকামিতা’ হোক বা ‘পরকীয়া’… অর্ধেক জেনে, অর্ধেক বুঝে সোশ্যাল মিডিয়ায় করা পোস্টগুলো তো আসলে মানুষের অন্তঃসারশূন্যতাই প্রমাণ করছে বারবার! কবে আর বুঝব আমরা?