magazine_cover_12_July_19.jpg

 

Home music news আর কতদিন…

আর কতদিন…

emon-somlata-big কৃষ্ণনগরে ইমন চক্রবর্তীর হেনস্থার ঘটনাটা ফের একটা প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিল। গান করেন বলে কি ন্যূনতম সম্মানও আশা করতে পারবেন না এই বঙ্গের শিল্পীরা? পারিশ্রমিক দেওয়া হচ্ছে বলে শিল্পীদের সঙ্গে যেমন খুশি ব্যবহার করা যাবে, হেনস্থা করাও যেতে পারে… এমন ভাবনাচিন্তা কি মধ্যযুগে ফিরে যাওয়ার পরিচায়ক নয়? মাসখানেক আগে মেখলা দাশগুপ্ত, কিছুদিন আগে সোমলতা আচার্য চৌধুরী এবং গতকাল ইমন চক্রবর্তী… প্রত্যেকেই কলকাতার বাইরে গান গাইতে গিয়ে চরম হেনস্থার মুখে পড়েছেন। উত্তরবঙ্গ থেকে সোমলতার এবং কৃষ্ণনগর থেকে ইমনের ফেসবুক লাইভ ভিডিয়োটি এখন সকলেই দেখে ফেলেছেন… প্রত্যেকবারই হুমকি, ‘‘এখান থেকে (অনুষ্ঠান চত্বর) কী করে বেরোতে পারে দেখব!’’ অপরাধ কী? না, টাকাপয়সা নিয়ে ‘নির্দিষ্ট’ সময় পর্যন্ত গান করেননি শিল্পীরা! যদিও এই নির্দিষ্ট সময়টা আয়োজকদেরই ঠিক করে নেওয়া, কিন্তু তা-ও বলতে হয়, ঠিক কোন রুচি এবং শিক্ষা থেকে এই ধরনের মন্তব্য করা যায়? একজন মহিলা শিল্পীর গাড়ি আটকে রেখে, তাঁকে জল এবং খাবার না দিয়ে, তারপরও এই ধরনের মন্তব্য ঠিক কীসের আস্ফালন? একজন শিল্পীকে টাকা দিয়েছি মানেই তাঁকে যা খুশি বলা যায়, ভদ্রতার খাতিরে তিনি হাত বা মুখ চালাতে পারবেন না বলে গা়ড়ি আটকে হুমকি দেওয়া যায়, তাঁকে নিরাপত্তাহীনতার চরম সীমায় নিয়ে যাওয়া যায়… এই চিন্তাভাবনা তো খুব উচ্চ মানসিকতা থেকে আসে বলে মনে হয় না। অথচ দুর্ভাগ্যজনক হল, প্রতিবারই এই দোষে দুষ্ট বলে যাঁদের কাঠগড়ায় তোলা হচ্ছে, তাঁরা হয় রাজনৈতিকভাবে নয়তো সামাজিকভাবে বেশ ‘উচ্চ’ পদে আসীন! ফলে ভয়টা আরও সেখানেই। যাঁদের নিরাপত্তা দেওয়ার কথা, তাঁরাই যদি নিরপত্তাহীন করে দেন, তা হলে ভয় তো হবেই। কিন্তু এই ‘আয়োজক’রা বোধ হয় বুঝতে পারছেন না পরপর একইরকমের ঘটনা ঘটতে থাকলে একদিন না একদিন প্রতিরোধ হবেই। সোমলতা, ইমনরা নিজেদের মতো করে প্রতিবাদ করেছেন এবং তার আঁচ বাকি শিল্পীদের উপর গিয়েও পড়েছে। এখনও যদি পরিস্থিতি না শোধরায়, তা হলে ক্ষোভ পুঞ্জীভূত হতে বেশি সময় লাগবে না। আর শিল্পীদের পূঞ্জীভূত ক্ষোভ যে কী সাংঘাতিক জিনিস, তার সাক্ষী তো ইতিহাসই…