magazine_cover_12_september_17.jpg

Anandalok Review

শুভ মঙ্গল সাবধান

পরিচালক:আর এস প্রসন্ন
অভিনয়: আয়ুষ্মান খুরানা, ভূমি পদনেকর, সীমা পাওয়া, বিজেন্দ্র কালা

না কাব্য করা আমার উদ্দেশ্য নয়, আমি স্রেফ এক লাইনে ‘শুভ মঙ্গল সাবধান’ ছবিটার মানে বোঝাতে চাইছি। এই ছবিটাও যে আমাদের সমাজের একটি কঠিন বিষয়কে, সহজ করে দেখানোর চেষ্টা করেছে। ভারতীয় মধ্যবিত্ত সমাজের ‘সেক্স’ শব্দটি নিয়ে ছুৎমার্গের কথাটাই হাসি ঠাট্টার মাধ্যমে বলতে চেয়েছেন পরিচালক মশাই। দিল্লির ছেলে মুদিত শর্মা (আয়ুষ্মান) প্রেমে পড়ে সুগন্ধার (ভূমি)। কিন্তু কথা বলার সাহস যোগাড় করতে না পেরে একেবারে মাট্রিমনিয়াল সাইটের মাধ্যমে বিয়ের প্রস্তাব পাঠায়। জড়িয়ে পড়ে দুই পরিবার। বিয়ের দিন ঠিক হয়ে যায়। তারপরই বিনা মেঘে বজ্রপাতের মত এসে পড়ে এক সমস্যা। মুদিতের ভাষায় ‘জেন্টস প্রবলেম’। সোজা বাংলায়, বিয়ের আগে দু’জনে ঘনিষ্ঠ হতে গেলে পারফরম্যান্স প্রেশারে পড়ে যায় মুদিত। স্ট্রেসের কারণে মুদিত পিছিয়ে আসে। জানাজানি হয়ে গেলে একদিকে পাত্রপক্ষ চেষ্টা করে পাত্রীর ঘাড়ে দোষ দিতে, অন্যদিকে সমাজের তোয়াক্কা না করে পাত্রীর বাবা তাকে পরামর্শ দেয় পালিয়ে যাওয়ার। বিষয়ভাবনায় অভিনবত্ব আপনাকে মুগ্ধ করবে। দেখতে পাবেন, মধ্যবিত্ত ভারতীয় সমাজের মায়েরা কী সাংঘাতিক দক্ষতায় ‘সেক্স’ কথাটি উচ্চারণ না করেই এর পাঠ বিবাহযোগ্য মেয়েদের দেন। ‘আলিবাবা’, ‘গুফা’, নতুন-নতুন শব্দও শিখতে পারবেন বইকী। ছবির সংলাপ এক কথায় দুর্দান্ত। ছোট্ট-ছোট্ট পান আপনাকে অবাক করে দেবে। হাসতে বাধ্য করবে। সংলাপকে আরও রসালো বানিয়েছেন অভিনেতারা। আয়ুষ্মান আর ভূমি খুব ভাল। ‘দম লাগাতে…’ জমজমাট কেমিস্ট্রি এখানেও চোখে পড়ে। গার্ল নেক্সট ডোরের ভূমিকায় ভূমি একদম পারফেক্ট। কিন্তু ভয় হচ্ছে, পরপর একই ধরণের চরিত্র করতে-করতে টাইপকাস্ট না হয়ে যান তিনি। আয়ুষ্মানও সেই দোষে দোষী হতে পারেন। ‘ভিকি ডোনর’ পর থেকেই আর দিল্লির পঞ্জাবি ছেলের চরিত্রটি ছেড়ে বেরতে পারছেন না। আর হ্যাঁ, ছবি হিসেবে ‘দম লাগাতে…’কেই এগিয়ে রাখতে হবে। তবে সুগন্ধার মায়ের ভূমিকায় সীমা পাওয়া অনবদ্য। কয়েকটি দৃশ্যে তো জাস্ট ফাটাফাটি। দারুণ অভিনয় করেছেন সুগন্ধার বাবার ভূমিকায় বিজেন্দ্র কালা। আনন্দ এল রাই ঘরানার এই ছবিতেও সেট থেকে অভিনয়, কোথাও কৃত্রিমতা চোখে পড়ে না। পরিচালক আর এস প্রসন্নও যথাযথ চেষ্টা করেছেন ছবিটিকে একদম আলাদা রূপ দিতে (প্রসঙ্গত, এই ছবিটি ২০১৩-এর তামিল ছবি ‘কল্যাণ সাময়ল সাদহম’ রিমেক। অরিজিনাল ছবিটির পরিচালক ছিলেন প্রসন্ন)। সব মিলিয়ে বেশ ভালই এগোচ্ছিল ছবিটি। হইহই করে কেটে গেলে প্রথম হাফ। কিন্তু ঝামেলা বাধল শেষ দশ মিনিটে। পরিচালক মশাইয়ের হঠাৎ-ই মনে হল, এবার সিনেমা শেষ করা দরকার। ফল, তাড়াহুড়ো এবং অযত্মে ভরা ক্লাইম্যাক্স। এমনকী, জিমি শেরগিলের দৃশ্যটিরও কোনও মানে পাওয়া গেল না। তাই যা হওয়ার তাই হল, ‘সিনেমাটি ভাল হতে পারত’, এই লাইনেই সীমাবদ্ধ হয়ে গেল। কিন্তু তাও এমন প্রচেষ্টাকে হাততালি না দিয়েও পারছি না।

এখন আপনার রিভিউ প্রকাশিত হতে পারে আনন্দলোক-এ। সিনেমা দেখে
চটপট লিখে ফেলুন রিভিউ আর ইমেল করুন

[email protected]