magazine_cover_12_september_17.jpg

Tolly Interview

আমার এখন একটাই কাজ, মন দিয়ে অভিনয় করা: সোহিনী সরকার

ছোট পর্দায় ‘অদ্বিতীয়া’র পর, বড় পর্দায় সবে পা রেখেছেন সোহিনী সরকার। জার্নির শুরু বলেই হয়তো কথাবার্তায় সাবধানী তিনি। তবুও তারই মাঝে কেরিয়ার থেকে পার্সোনাল লাইফের নানা কথা বললেন ঋষিতা মুখোপাধ্যায়কে

 

ছোটপর্দার ‘অদ্বিতীয়া’ থেকে বড় পর্দায় ‘রূপকথা নয়’। জার্নিটা যদি বলেন?

(খানিকটা ভেবে) বেশ বড় একটা গল্প। আমার বাড়িতে অভিনয়ের একটু-আধটু চর্চা আছে। আমি স্কুলে পড়ার সময় থেকেই অভিনয় করি। উচ্চমাধ্যমিক দেওয়ার সময়, ২০০৬-এ ‘সাহিত্যের সেরা সময়’-এ ছোটখাটো চরিত্র করেছি। এরপর ‘একদিন প্রতিদিন’ আমার প্রথম মেগা। এর পাশাপাশি পড়াশোনাও চালিয়ে গিয়েছি। ২০০৮-এ ‘রাজপথ’, ২০০৯-এ ‘ওগো বধূ সুন্দরী, ২০১০-এ ‘অদ্বিতীয়া’।

 

তার মানে বেশ নিয়মিত কাজ করে গিয়েছেন?

আমি পরপর বললাম বলে আপনার মনে হচ্ছে। প্রতিটি কাজের মধ্যে ছয় থেকে আট মাসের ব্যবধান থাকতই। সেই সময়টা পড়াশোনা করতাম। যাইহোক, ‘অদ্বিতীয়া’ শেষ হওয়ার পরই ‘ফড়িং’-এর অফার পেলাম।

 

কিন্তু ‘রূপকথা নয়’ তো প্রথম রিলিজ় করল?

হ্যাঁ তা ঠিক।

 

বড় পর্দার অফার পেলেন কী করে?

ছোট পর্দায় অভিনয় করলে ইনভলভমেন্টটা অনেক বেশি হয়। টাইট শিডিউলের মধ্যে কাজ করতে হয়। টানা ১২ ঘণ্টাও কাজ করতে হয়। ছোট পর্দায় অভিনয় করার সময়ই আমি বেশ কয়েকটা সিনেমায় অফার পেয়েছিলাম। কিন্তু কাজের চাপে করতে পারিনি। ‘অদ্বিতীয়া’ শেষ হওয়ার সময় ভেবেছিলাম, কয়েক মাসের একটা ব্রেক নিতেই হবে। সেই ব্রেকেই ‘ফড়িং’-এর অফারটা পেলাম। রাজি হয়ে গেলাম। ‘অদ্বিতীয়া’ দেখেই ওঁদের পছন্দ হয় আর কী!

 

দুটি মাধ্যমেই কাজ করে কেমন লাগল?

দুটো দু’ রকমের। সিরিয়ালের ক্ষেত্রে কাজটা অনেকদিন ধরে চলে, অন্যদিকে সিনেমা দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে শেষ হয়ে যায়। সিরিয়ালে প্রথম দিকে অভিনয় নিয়ে একটু ভাবতে হয়। তারপর যখন চরিত্রটায় অভিনয় করা আপনার অভ্যেস হয়ে যাবে, তখন নতুন করে আর ভাবতে হবে না। সিনেমার ক্ষেত্রে প্রতিদিনই নতুন কিছু করতে হয়। তবে আমার কোনও সিরিয়ালই বেশি টানেনি। টেনেটুনে এক বছরের মধ্যে শেষ হয়ে গিয়েছিল। ‘অদ্বিতীয়া’র টিআরপিও খুব বেশি ছিল না। সাড়ে দশটার স্লটে ‘অদ্বিতীয়া’ দেখানো হত। তখন অন্য একটি চ্যানেলের রিয়েলিটি শোয়ের রমরমার দরুণ, বাকি চ্যানেলগুলোর অবস্থা খারাপ হয়ে যেত। তবে এ কথা সত্যি যে, ‘অদ্বিতীয়া’ দেখেই লোকে আমাকে কাজের অফার দিয়েছে।

 

এখন কী করছেন?

‘ঝুমুরা’ বলে একটা ছবির শুটিং শেষ করলাম। অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায়ের ‘ওপেন টি বায়োস্কোপ’-এর কাজ শুরু করেছি। আরও কয়েকটা কথাবার্তা চলছে।

 

তার মানে ছোট পর্দাকে বিদায়…

তা কেন! তবে এটা ঠিক যে ‘অদ্বিতীয়া’পর সেভাবে ছোট পর্দার অফার পায়নি। মাঝে স্টার প্লাস থেকে ‘মহাভারত’-এর একটা অফার এসেছিল। কিন্তু করা হয়ে ওঠেনি। সে মুর্হূতে কয়েকটা ছবির কাজ ছিল। তাই করা হয়ে ওঠেনি। ছবির কাজ শেষ হয়ে গেলে, যদি অফার পাই, তাহলে  নিশ্চয় করব। কাজ তো করতেই হবে।

 

‘রূপকথা নয়’ বা ‘ফড়িং’ সে অর্থে মেনস্ট্রিম ছবি নয়। আপনি কী তাহলে একটু আলাদা পথে হাঁটলেন?

এত তাড়াতাড়ি কোনও পথে হাঁটছি বা হাঁটব, বলাটা বেশ চাপের। আমার এখন একটাই কাজ, মন দিয়ে অভিনয় করা। যে ছবিতে সেই অভিনয়ের সুযোগ পাব, সেটাই করব। ব্যক্তিগতভাবে আমার মনে বলিউডে এই মেনস্ট্রিম বা প্যারালাল ছবির ভাগ অনেকটাই মুছে গিয়েছে।

 

কিন্তু টলিউডে আছে। সেই গান-নাচ, লার্জার দ্যন লাইফ ইমেজ। এমন ছবিতে অফার পেলে, করবেন?

টলিউডের এই ট্রেন্ডটা ইদানিং তৈরি হয়েছে। আমাদের ছোটবেলায় তো একদম অন্যরকম ছবি হয়েছে। প্রচুর লোক দেখতেও গিয়েছে। আমার অবশ্য এখনকার ছবিগুলো দেখতে ভালও লাগে। অফার পেলে করে ফেলতেও পারি।

 

অভিনেত্রী না হলে কী করতেন?

ইন্টিরিয়র ডিজ়াইনিং নিয়ে পড়াশোনা করে, স্বাধীনভাবে কাজ করতাম। অভিনয় ছাড়া ওই কাজটা করতেই আমার ভাল লাগে। অন্যকিছু নিয়ে ভাবতে বসলেই ঘুম পায় আমার।

 

প্রেম করেন?

এই প্রশ্নের উত্তর কী দিতেই হবে? আমার তো অনেক মানুষকেই বেশ ভাল লাগে।

 
কিন্তু কোনও বিশেষ ব্যক্তি?
(ভাবনাচিন্তা করে) একজন আছেন, এই ইন্ডাস্ট্রিতেই। কিন্তু প্লিজ় নামটা বলব না।