magazine_cover_12_august_17.jpg

Anandalok Review

মুগ্ধতার রেশ রয়ে যায় প্রেক্ষাগৃহের বাইরেও

সচিন: আ বিলিয়ন ড্রিমস
sachin-still

অভিনয়: সচিন, অঞ্জলি
পরিচালনা: জেমস আর্সকিন
……
‘সচিন: আ বিলিয়ন ড্রিমস’ আদতে ডকুমেন্টরি না ফিকশন, তা নিয়ে অনেক জল্পনা ছিল, যা নির্মাতারা ইচ্ছাকৃত তৈরি করেছেন। কারণ? অবশ্যই ছবি নিয়ে জনমানসে তৈরি হওয়া উন্মাদনা। সাম্প্রতিককালে আমরা বিভিন্ন ছবির নানারকম প্রোমোশনাল স্ট্র্যাটেজি দেখেছি। কিন্তু অধিকাংশ সময়েই ছবির মান দর্শকদের হতাশ করে থাকে। এখানেই ছবিটি ব্যতিক্রম। প্রথমেই বলে রাখা যাক, ছবিটি ফিকশন নয়। ছবির জঁর ডকুড্রামা। সচিনের ছোটবেলার অংশটুকু বাদ দিলে গোটা ছবিটিতেই নির্মিত হয়েছে রিয়েল লাইফ ফুটেজের মাধ্যমে।
এই ছবিতে এমন কিছু নেই, যা আপনি আগে থেকে জানেন না। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে প্রথম টেস্টে নাক ফেটে যাওয়া ১৬ বছরের সচিনের ‘ম্যায়ঁ খেলেঙ্গা’ থেকে শুরু করে শেষ টেস্টে ওয়াংখেড়েতে সচিনের বক্তৃতা, সবটাই সচিন-ভক্তদের জানা। কিন্তু তাও শেষ পর্য়ন্ত সিটে বসিয়ে রাখে এই ছবি।
এই প্রথম প্রচণ্ড সাবলীল এবং স্মার্ট সচিন-জায়া অঞ্জলি। তেন্ডুলকরকে পরদায় নিজের সম্পর্কে কথা বলতে দেখা গেল। পেডিয়াট্রিকসে এমডি অঞ্জলি কীভাবে সচিনের জন্য নিজের কেরিয়ার বিসর্জন দিয়েছেন, এত বছর ধরে ক্রিকেট সন্ন্যাসী সচিনের জীবনে সেকেন্ড প্রায়োরিটি হয়ে থেকেছেন, সচিনের মুড সুইং সামলেছেন… এই প্রথম অঞ্জলী বোধহয় যোগ্য স্ক্রিন স্পেস পেলেন, গোটা ছবিতে সচিনের ক্রিকেট জার্নি এমনভাবে সাজানো হয়েছে যে, আপনি নয়ের দশকের ক্রিকেট ফলোয়ার হলে আপনার সেই সময়ের স্মৃতি জীবন্ত হয়ে উঠবে ছবি দেখতে-দেখতে। শুধু সচিন নয়, সৌরভের লর্ডসে জামা ওড়ানো, ইডেনে লক্ষ্মণ-দ্রাবিড়ের ঐতিহাসিক পার্টনারশিপ, ২০০৩-এর বিশ্বকাপ ক্রিকেট ফাইনাল… সব। সচিনের অধিনায়কত্বে আজ়হারউদ্দিনের অসহযোগিতাও দেখানো হয়েছে। তবে খুব সন্তর্পণে ম্যাচ ফিক্সিং কেলেঙ্কারির সঙ্গে আজ়হারের যোগাযোগের প্রসঙ্গ এড়িয়ে গিয়েছেন পরিচালক।
যে ছবিতে তথাকথিত শুটিং নেই, সেখানে শুধু রিয়েল টাইম ফুটেজ দেখিয়ে দর্শকদের কাঁদিয়ে দেওয়া চাট্টিখানি কথা নয়। এই কাজটিই করে দেখিয়েছেন পরিচালক জেমস। সঙ্গে যোগ্য দোসর এআর রহমানের মিউজ়িক। সচিন নিজে যে অবসরের পরে অনেকটাই রিল্যাক্স হয়ে গিয়েছেন, তা মাস্টার ব্লাস্টারের স্টোরি টেলিংয়েই স্পষ্ট।
নয়ের দশকে বিভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থায় দেশ যখন জর্জরিত, তখন দেশবাসীকে ভরসা জুগিয়েছেন যে কিংবদন্তি খেলোয়াড়, তার ব্যক্তিত্বের প্রতি যোগ্য সম্মানজ্ঞাপন করে এই ছবি। আর স্ক্রিনে যখন ‘স-চি-ন স-চি-ন’ রব ওঠে, তখন প্রেক্ষাগৃহে আপনিও নিজেকে সামলাতে পারবেন না। সবমিলিয়ে এই ছবির রেশ থেকে যাবে প্রেক্ষাগৃহ থেকে বেরোনোর পরেও।