magazine_cover_12_november_19_00.jpg

Anandalok Review

ঊপভোগ করুন, প্রশ্ন করবেন না!

ওয়র
war-still

পরিচালনা: সিদ্ধার্থ আনন্দ
অভিনয়: হৃতিক রোশন, টাইগার শ্রফ, বাণী কপূর

না বিচারটা সেরেই ফেলা যাক। এই ছবি শুরুর আগে দুই প্রতিপক্ষ ছিল। এক হৃতিক রোশন দুই দর্শক। কোন রূপে দর্শকের কাছে ধরা দেবেন হৃতিক? তিনি কি অভিনয়টুকু সেরেই সরে পড়বেন (তবে ট্রেলার কিন্তু আশা জাগিয়েছিল) নাকি দর্শকের হৃদয় হরণ করবেন নিজের রূপ দিয়ে, শরীর চালনা দিয়ে। ফলাফল, জয়ী হৃতিক রোশন আর পরাজিত তামাম দর্শককুল। এই হারেও শান্তি! যাঁরা ‘গুজ়ারিশ’-এর হৃতিককে পছন্দ করেন না, যাঁরা মনে করেন ‘সুপার ৩০’ শুধু ‘অভিনেতা’ হৃতিককেই তুলে ধরে, তাঁদের বলে দিই ফুল প্যাকেজ (অ্যাকশন+ডান্স+অভিনয়) হৃতিককে পেতে হলে ‘ওয়র’ দেখে আসুন। বাড়তি পাওনা টাইগার শ্রফ। তিনিও সর্বগুণবিশারদ বটে। ভারতীয় সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন ‘কবীর’ (হৃতিক) অবিশ্বাস্য সব মিশন করেন। এবং সেই মিশনের জন্য তাঁর নিজস্ব টিম আছে। সেই টিমে ঢুকতে মরীয়া খালেদ (টাইগার)। কিন্তু খালেদের বাবা যে বিশ্বাসঘাতক আর তাঁকে মেরেছিলেন কবীরই। তাহলে টিমে কি ঢুকতে পারবে খালেদ? কিন্তু মাঝে যে কবীরই দেশদ্রোহী হয়ে গেলেন? গল্পে প্রচুর টুইস্ট, প্রচুর অ্যাকশন, হৃতিক-টাইগারের অসামান্য কোমর দুলুনি… কী ছেড়ে কী দেখি! অভিনয়ে হৃতিক আর টাইগার দারুণ। হৃতিক যদি বড়দাদা হন তো সেই পরিবারেরই আদুরে ভাই টাইগার। অ্যাকশন ঘরানায় হিরোদের ঘাটতি পূরণ একা টাইগারই করে দেবেন বলে মনে হচ্ছে। আর হ্যাঁ নাচেও তিনি কম যান না ( টাইগারের শার্টলেস হওয়া আরও এক ‘ভাই’-এর কথা মনে করায়)। কালে-কালে হৃতিকের জায়গা নিতে পারেন কিন্তু টাইগার (ফুল প্যাকেজের কথাই বলছি)। বাণীর বিশেষ কিছু করার ছিল না। তিনি এলেন আর গেলেন। ছবির অ্যাকশন মন ভরিয়ে দেয়, লোকেশনও দুর্দান্ত। অনেকদিন পর বিশাল-শেখরের গানে সেই পুরনো চটক পাওয়া গেল। তবে ছবিতে প্লাস্টিক সার্জারির মান প্রায় একতা কপূরের সিরিয়ালকে ছুঁয়েছে। আর কিছু প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে সত্যিই রকেট সায়েন্স জানতে হবে। তবে এসব কিছুই মনে থাকে না যখন পরদায় হৃতিক আর টাইগার উপস্থিত হন। জমে গিয়েছে কিন্তু!