magazine_cover_27_november_17_02.jpg

Anandalok Review

মিষ্টি ছবি, বড্ড বাস্তবও…

তুমহারি সুলু
tumari-sulu-still

অভিনয়: বিদ্যা বালন, মানব কল, নেহা ধুপিয়া, বিজয় মৌর্য
পরিচালনা: সুরেশ ত্রিবেণী
……

বিদ্যা প্রমাণ করলেন, তিনি ধরা-ছোঁয়ার বাইরে, তিনি অপ্রতিরোধ্য, তিনি অভিনয় বিষয়টিকে গুলে খেয়েছেন। পাঠক আপনি নিশ্চয় বিদ্যার প্রতি আমার এই বাঁধনছাড়া আবেগে খানিকটা বিরক্তই হয়েছেন। কিন্তু বিশ্বাস করুন, ‘তুমহারি সুলু’ দেখে আসার পর আপনারও ঠিক আমার মতোই হাল হবে। পুরো ছবি জুড়ে বিদ্যা বালন, এবং তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন ভাল গল্প পেলে বিদ্যা কী করতে পারেন। মুম্বইয়ের শহরতলিতে সুলুর (বিদ্যা) স্বামী আর পুত্রকে নিয়ে সংসার। স্বামী অশোক (মানব) ভারী ভালমানুষ, সুলুর সব পাগলামি, সব কাজেই সাপোর্ট সিস্টেম তিনি। ছেলে প্রণবও মিষ্টি ছেলে। সুলুর কাজ হল রেডিয়োর বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া এবং জেতা। এমনভাবেই একটি প্রতিযোগিতায় প্রেশারকুকার জিতে রেডিয়ো অফিসে যায় পুরস্কার আনতে। সেখানেই গিয়েই দেখে চ্যানেলটি আর জে নেওয়ার বিজ্ঞাপন দিয়েছেন। ব্যস সুলুর মাথায় আইডিয়া দানা বাধে। সেও হবে আরজে। চ্যানেল হেড মারিয়ারও (নেহা ধুপিয়া) মনে হয় সুলু কিছু করতে পারবে। লেট নাইট শোয়ের আরজে হয় সুলু। তারপরেই ঝামেলা শুরু হয়। সাপোর্টিভ হাজ়ব্যান্ড অশোক কোথাও গিয়ে ইনসিকিয়োরিটিতে ভুগতে থাকে। পরিবারের বাকিরা (সুলুর দুই দিদি ব্যাঙ্কে চাকরি করলেও, সুলুর চাকরিটিকে ঠিক ভদ্র বলে মনে করতে পারে না) চাকরি ছাড়ার জন্য চাপ দিতে থাকে সুলুকে। তাহলে সুলু কি চাকরি ছেড়ে দিয়ে আবার সংসারে মন দেবে? বিদ্যা একদিকে স্ট্রিট স্মার্ট হাউজ়ওয়াইফ অন্যদিকে আর জে দুনিয়ায় বেমানান ‘শাড়ি পরা আন্টি’, দুই ভূমিকায় জাস্ট ফাটিয়ে দিয়েছেন। সকালে স্বামী আর পুত্রের জন্য টিফিন প্যাক করার সঙ্গে-সঙ্গে মধ্যরাতে রেডিয়োর ওপারে ‘সেক্সি’ গলায় পুরো মুম্বই কাঁপানো, এমন চরিত্র বিদ্যাকেই মানায়। কিন্তু কোথায় গিয়ে গল্প খানিকটা দুর্বল হয়ে পড়ে (অস্বীকার করার উপায় নেই, যেখানেই গল্প দুর্বল, সেখানে কুম্ভের মতো লড়ে আবার গল্পকে ট্র্যাকে নিয়ে এসেছেন বিদ্যা)। যেমন বোঝা যায় না, প্রণব হঠাৎ করে কেন খারাপ হয়ে যায়? বোঝা যায় না অশোকের মেল ইগোর কারণটা? তবে অশোকের ভূমিকায় মানবও বেশ ভাল। বিদ্যার পার্টনার হিসেবে তিনি অনবদ্য। ছোট্ট ভূমিকায় নেহা এবং বিজয়কে ভাল লাগে। ছবির গানও ভাল। দ্বিতীয়ার্ধে গল্প খানিকটা গতি হারায়। কিছু প্রশ্নর উত্তর খুঁজে পাওয়া যায় না। তবে বিদ্যা থাকতে ভয় কি? অতএব মধ্যবিত্ত সমাজকে দেখতে চাইলে, আজকের দিনে মেয়েরা ঠিক কোথায় দাঁড়িয়ে আছে, মেয়েরা ঠিক কী চাইছে, সেটা জানতে হলে বিদ্যার ‘সুলু’কে দেখতেই হবে। আর হ্যাঁ নবাগত পরিচালক হিসেবে সুরেশ ত্রিবেণী গ্রেসমার্কস পাবেন।