magazine_cover_27_july_17_a.jpg

Anandalok Review

সময়োপযোগী, কিন্তু…

টিউবলাইট
Tubelight-still

অভিনয়: সলমন খান, মাতিন রে টিঙ্গু, জ়ু জ়ু, সোহেল খান, ওম পুরী,
যশপাল শর্মা, মহম্মদ জ়িশান আয়ুব
পরিচালনা: কবীর খান
……
একটি ছবির রিভিউ করতে গিয়ে আর কোনও ছবির প্রসঙ্গ না উঠলেই ভাল। কিন্তু এ ছবির আলোচনা করতে গেলে ‘বজরঙ্গী ভাইজান’-এর তুলনা আসবেই। কবীর খান, যুদ্ধ, ক্রস-বর্ডার শান্তি, একটি ‘বিদেশি’ শিশু, সহজ-সরল সলমন খান… সব যদি মিলে যায়, তা হলে প্রসঙ্গ তো আসবেই। বিশেষত যখন ‘বজরঙ্গী’ মন ছুঁয়ে গিয়েছিল সবার। ‘টিউবলাইট’ তা পারল না। প্রধান কারণ, নামভূমিকায় থাকা মহাতারকাটি। কবীরের চিন্তা ঠিক পথেই ছিল। বিশেষত এই প্রচণ্ড হিংস্র সময়ে, যখন পড়শির সঙ্গে যুদ্ধ বই কিছু ভাবা যাচ্ছে না। কথা উঠছে ‘ঘরশত্রু’দের। সেই সময়ে দাঁড়িয়ে, ভারত-চিন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে এ ছবি বোঝাল, যুদ্ধ ভাল নয়। কুমায়ুনের কোলে একটি ছোট শহরে থাকে দুই ভাই, লক্ষ্মণ (সলমন) আর ভরত (সোহেল)। ‘বোকাসোকা’ লক্ষ্মণের অভিভাবক তার ছোটভাই। মনে রাখবেন প্লিজ়, স্রেফ পেশাগত কারণে ভারতীয় সেনাবাহিনিতে যোগ দেয় ভরত। তার আসার অপেক্ষা করতে থাকে। যুদ্ধ কঠিন হয়, সেসময় শহরে কলকাতা থেকে আসে চিনা বংশোদ্ভূত ভারতীয় মা (জ়ু জ়ু) ও ছেলে। ছোট্ট ছেলে গুয়ো (মাতিন) লক্ষ্মণের বন্ধু হয়ে ওঠে। শহরের বেশ কিছু লোকের রাগ ও হিংস্রতার শিকার হয় মা ও ছেলে। ছবির মূল থিম, বিশ্বাস থাকলেই সমস্ত হিংস্রতার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে পাহাড়ও নড়ানো যায়। যুদ্ধ থামে, একটা সময় ভরত ফিরে আসে।

গল্পের মূল কাহিনি ভাল। ‘ভারত মাতা কি জয়’ নিয়ে যে সাবভারশন দেখিয়েছেন কবীর, তা-ও এই সময়ে দাঁড়িয়ে খুব উপযোগী, সাহসী। কবীরের নিজস্ব কাজের গুণে ছবির কিছু জায়গা চোখে জল এনে দেয়। তা ছাড়া ওম পুরী, জ়িশান আয়ুব, যশপাল শর্মা… ছোট চরিত্রে সব অভিনেতাই বেশ ভাল। জ়ু জ়ু অবশ্য সাধারণ। মন ভাল করে দেয় ছোট্ট মাতিন রে-র অভিনয়। তবে প্লটের জোরের অভাব আছে যথেষ্ট। কোনও মোচড় নেই ছবির কোথাও। কিন্তু এ ছবির সবচেয়ে বড় দুর্বলতা, গভীর নদীতে গলায় জগদ্দল পাথরবৎ দুর্বলতা… স্বয়ং সলমন খান। প্রধান চরিত্রে তাঁর অভিনয় খুব খারাপ, খুব মেকি, খুব কষ্টসাধ্য। বয়স, চেহারা ইত্যাদিতে যাচ্ছিই না। লক্ষ্মণ কোথাও দর্শকের সঙ্গে কানেক্ট করে উঠতে পারে না। ‘বিশ্বাস’ দেখানোর জন্য কনস্টিপেটেড পেশেন্টের মতো শব্দ বিশেষ কাজে আসে কি? পরদা থেকে সলমনকে সরিয়ে নিলে হয়তো একটু ভাল লাগত। কিন্তু প্রতিটি দৃশ্যে যে তিনি! সোহেল খানকেও তাঁর চেয়ে ভাল লাগছে! এমনকী, একটি দৃশ্যে শাহরুখ-সলমন… এমন রাজযোটকে ফুলকি ঝরতে পারত, কিন্তু সলমনের অভিনয়ে ঝরল কেবল ঝুল! ছবিটিও প্রধানত গেল সে পথেই।