magazine_cover_12_august_19.jpg

Anandalok Review

শেষে বিস্তর গলদ!

তৃতীয় অধ্যায়

tritiyo-adhyay-still

পরিচালনা: মনোজ মিশিগান

অভিনয়ে: আবির, পাওলি, মনোজ

চিত্রনাট্যের সামনে অভিনেতাদের শত চেষ্টা যে বৃথা হয়ে যায়, তার প্রমাণ এই ছবিটি। বিশ্বাস করুন, আবির এবং পাওলি চেষ্টা করেছিলেন ভাল কাজ করার, ছবিটিকে এক নতুন মাত্রা দেওয়ার, কিন্তু পারলেন কই! ছবির শুরুতেই দেখা যায় কৌশিক (আবির) এক প্রত্যন্ত গ্রামে পৌঁছে গিয়েছেন, কোনও এক এস কে মুখোপাধ্যায়কে খুঁজতে-খুঁজতে। ব্যক্তি নাকি তাঁর বাবা হন। অন্যদিকে দেখায় ঋত্বিক আর মৌসুমী নামের এক তরুণ দম্পতির প্রেমকাহিনির। ক্যামেরার দু’দিকই সমানতালে রক্ষা করে চলে। দর্শক একটু হাবুডুবু খায় বইকী। হঠাৎ-ই আবিরের সঙ্গে দেখা হয়ে যায় প্রাক্তন প্রেমিকা শ্রেয়ার (পাওলি)। একদিন শ্রেয়ার নারীত্বের পূর্ণ ব্যবহার করে পালিয়ে গিয়েছিলেন কৌশিক। তাই আজ শ্রেয়ার মনে কৌশিকের জন্য শুধুই ঘৃণা। শ্রেয়া প্রতিশোধ নিতে চায়। কিন্তু এঁদের সঙ্গে ঋত্বিক-মৌসুমীর যোগ কোথায়? আর এস কে মুখোপাধ্যায়ই বা কে? উত্তর পাওয়া যাবে ছবির শেষে। অভিনয়ে আবির এবং পাওলি যে ভাল তা আগেই বলিছি। কিন্তু চিত্রনাট্য মধ্যম মানের। এমনকী বিস্তর গলদে ভর্তি। যেমন, কৌশিক যে অন্ধকার জগতের সঙ্গে যুক্ত তা শ্রেয়ার পাঠানো লোক জানল কী করে। আবার কৌশিক শ্রেয়াকে বিষ খাওয়া থেকে বাঁচাতে পারলেন না, কারণ আংশিক পক্ষাঘাতে আক্রান্ত, কিন্তু তারপরই কৌশিক নিজে দিব্যি টেবিল থেকে বিষের বোতল তুলে নিজের মুখে ঢালতে পারলেন! ছবির কিছু দৃশ্যে ক্যামেরার কাজ ভাল লাগলেও পুরো ছবিতে স্মার্টনেসের বড্ড অভাব। গানও মনে সেভাবে ডাক কাটে না। পরিচালক মহাশয় এই বিভাগগুলোয় মন দিলে ভাল করতেন। অভিনেতারা নিজেদের কাজ নিষ্ঠাভরে করলেও শেষরক্ষা হল না গল্পের দুর্বলতার জন্যই।