magazine_cover_12_november_18.jpg

Anandalok Review

বিনোদনের সুপারহিরোরা…

ঠগস অফ হিন্দোস্তান

thugs-of-hindostan-big

পরিচালনা: বিজয় কৃষ্ণ আচার্য

অভিনয়ে: অমিতাভ বচ্চন, আমির খান, ফতিমা সানা শেখ, ক্যাটরিনা কাইফ

ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বিরুদ্ধে ভারতের নানা অংশের যুদ্ধের কাহিনি, বিদ্রোহের কাহিনি, ‘আজ়াদি’র লড়াই। এই নিয়ে তো কত সিনেমাই তৈরি হয়েছে। সেগুলো প্রায় সবই ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষ্য। স্বাধীনতা সংগ্রামীদের জীবনের গল্প। তবে এই গোত্রের ছবি হয়েও ‘ঠগস অফ হিন্দোস্তান’ আলাদা। তার প্রথম কারণ, এই কাহিনি কাল্পনিক, এবং সব চরিত্রও কাল্পনিক! দ্বিতীয় কারণ, এই ছবি কোনওভাবেই দর্শকের মনে দেশপ্রেম জাগানোর চেষ্টা করে না। এই ছবি শুধুই একটি গল্প বলে। নিছক বিনোদনের গল্প।

১৭৯৫ সাল। অত্যাচারী অফিসার জন ক্লাইভের নেতৃত্বে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি দখল করে নিচ্ছে ভারতের একের পর এক রাজ্য। শুধু হার মানতে রাজি নন রৌনকপুরের রাজা ও তাঁর সেনাপতি খুদাবক্শ (অমিতাভ বচ্চন)। ধূর্ত ক্লাইভ একে-একে খুন করে রাজা, রানি ও রাজপু্ত্রকে। ছোট্ট রাজকন্যা জ়াফিরাকে নিয়ে পালিয়ে যায় খুদাবক্শ। শুরু হয় ক্লাইভকে শেষ করার প্রস্তুতি। রাজকন্যার (ফতিমা সানা শেখ) ভিতর প্রতিশোধের আগুন জ্বালিয়ে রেখে, তাকেও এক অসামান্য যোদ্ধায় পরিণত করে খুদাবক্শ… আর ফিরঙ্গী মল্লার চরিত্রে আমির খান আসলে কে? ছবির স্বার্থেই সেই রহস্যটুকু থাক!

এই ছবির আসল হিরো অভিনয় আর অ্যাকশন। অমিতাভ, আমির, ফতিমা… একে অপরকে ছাপিয়ে গিয়েছেন অভিনয়ে। তবে হ্যাঁ, যুক্তি-বুদ্ধি দিয়ে অ্যাকশন দৃশ্যগুলোকে বোঝার চেষ্টা করলেই মুশকিল! বরং ছবি দেখতে-দেখতে মনে হতেই পারে এটা একটা বলিউডি সুপারহিরো মুভি। ওভাবে দড়ি ধরে ঝুলে যুদ্ধ করা, জাহাজের মাস্তুলের উপর দিয়ে দৌড়নো… না, অর্থ খোঁজার চেষ্টা করে লাভ নেই। শুধু যদি চরিত্রদের সুপারহিরো ভেবে নেওয়া যায়, তাহলে হয়তো এই দৃশ্যগুলো ভাল লাগবে। তবে একজন হয়তো সত্যিই সুপারহিরো… এই বয়সে অমিতাভ এখনও প্রমাণ করে দিচ্ছেন তিনি কেন ‘শাহেনশা’।

এই ছবিতে শুধুমাত্র সুরাইয়া (ক্যাটরিনা) প্রায় অপ্রয়োজনীয় একটি চরিত্র। গ্ল্যাম কোশেন্ট যোগ করা ছাড়া প্রায় কিছুই করেননি তিনি। তাঁর অভিনয়ও মনে দাগ কাটে না একেবারেই। নাচের দৃশ্যগুলিও ঠিক মানানসই নয় সেই সময়ের প্রেক্ষাপটে। তা ছাড়া ছবির আরও এক বড় সমস্যা, দৈর্ঘ্য। প্রথমার্ধের পরই মনে হয় গল্পটা এখানেও শেষ হতে পারত। তবে, ঘটনাবহুল হওয়ার ফলে, ছবিটি দেখতে একঘেয়ে লাগে না তেমন।
সব শেষে বলা যায় যে, নিছক বিনোদনের জন্য একটি কাল্পনিক ইতিহাসের রূপকথা হয়েই থেকে যাবে ‘ঠগস অফ হিন্দোস্তান’।