magazine_cover_12_September_19.jpg

Anandalok Review

ওহ হৃতিক!

সুপার ৩০
suoer30-still

পরিচালনা: বিকাশ বহেল
অভিনয়: হৃতিক রোশন, পঙ্কজ ত্রিপাঠি, ম্রুণাল ঠাকুর, নন্দিশ সন্ধু

বায়োপিকের সমস্যা কী বলুন তো? প্রথমত একটা গোটা জীবন ঘণ্টা দুইয়ের মধ্যে দেখাতে গিয়ে ছড়িয়ে লাট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। দ্বিতীয় অভিনেতা কিছুতেই চরিত্রের মধ্যে ঢুকতে পারে না, ফলে পুরো ব্যাপারটা একটা বিশ্রী ভজঘট হয়ে যায়। বিকাশ বহেলের ‘সুপার ৩০’ কিন্তু এই দুটো সমস্যা থেকে একেবারে মুক্ত। প্রথমেই বলি স্ক্রিপ্টের কথা— না এখানে আনন্দকুমারকে ভগবান দেখানো হয়নি। আবার মানুষের ইচ্ছাশক্তিই সব এরকম কোনও মহান মেসেজ দেওয়ারও চেষ্টা করা হয়নি। বরং, যা ঘটেছে যা ঘটছে তাঁর জীবনে তার ঠিক ঠিক রিপ্রেজেন্টেশন তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। অবশ্যই সিনেম্যাটিক জাস্টিসের কথা মাথায় রেখে। মোটামুটি ঝরঝরে স্ক্রিপ্ট, এবং প্রত্যেকটা অভিনেতার যথাযথ অভিনয়। সুপার ৩০ বানানোর পিছনে ভাবনাচিন্তা এবং কনসালটেশন যে প্রচুর সে বিষয়ে কোনও সন্দেহের অবকাশ নেই।

তবে শো স্টিলার হৃতিক! মনে আছে ট্রেলারে হৃতিকের অদ্ভুত উচ্চারণ শুনে বেশ বিরক্তিকর লেগেছিল! সেই বিরক্তির লেশমাত্র থাকেনা ছবিটি দেখতে গিয়ে। হৃতিক এখানে হৃতিক হয়ে অভিনয় করেননি, উল্টে আনন্দকুমার চরিত্রটির শিরা মজ্জায় মিশে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন সচেতনভাবে। চেহারার পার্থক্য পুষিয়ে দিয়েছেন অভিনয়ে! দেখতে-দেখতে যেন মনে হয় ছোঁয়া যাবে চরিত্রটিকে, ‌এতটাই বাস্তব। আলাদা করে বলতে হয় পঙ্কজ ত্রিপাঠি আর আনন্দকুমারের ভাই প্রণবকুমারের চরিত্রে নন্দিশ সন্ধুর কথা। দূর্নীতিগ্রস্থ নেতার চরিত্রে অনবদ্য কমিক রিলিফ, পঙ্কজ ছাড়া আর কে করতেন এমন? আর নন্দিশ? দাদার স্বপ্নের কাণ্ডারি নীরব কর্মা প্রণবকুমারের চরিত্রে ভীষণই বিশ্বাসযোগ্য! সাংবাদিকের ছোট চরিত্র হলেও মনে রাখার মতো অভিনয় করেছেন অমিত সাদ। ছবির প্রথমার্ধ দেখতে-দেখতে দর্শক সত্যিই বিশ্বাস করে নেবেন যে ‘আপত্তিসে হি আবিষ্কার হতে হ্যায়!’… আনন্দকুমারের স্বপ্নে সামিল হয়ে উঠবেন তাঁরা। আদতে একটা অদম্য হার না মানা ছড়িয়ে রয়েছে গোটা ছবিটা জুড়ে। অথচ অসহায়তাও যে নেই তা কিন্তু নয়, অর্থ আর শিক্ষার অসম লড়াই বড় প্রকট। তবে প্রথমার্ধের ভাললাগা খানিক ফিকে হয়ে যায় ছবির দ্বিতীয়ার্ধে এসে। চিত্রনাট্যের খুঁতগুলো ক্রমশ চোখে লাগতে শুরু করে… আনন্দকুমার তাঁর ছাত্র-ছাত্রীদের বলেছিলেন জীবনের প্রতিটা পদক্ষেপে লেখাপড়ার প্রয়োগের কথা। কিন্তু সেই প্রয়োগ করতে গিয়ে একটা সরকারি হাসপাতালে গুন্ডা আক্রমণ ঠেকানো একটু বেশি যেন অতিরঞ্জন লাগে। লেখাপড়ার জেদটা দেখানোই যথেষ্ট ছিল যেখানে, সেখানে এইসব টুইস্ট ছবির গতিকে আরও ধীর করে দেয়। দ্বিতীয়ার্ধের দৈর্ঘ্যও ছবিকে খানিক জোলো করে তোলে। তবে, শেষ পর্যন্ত এটাই বলার— ‘সুপার ৩০’ আসলে হিউম্যান ড্রামা, যে ছবি দেখতে-দেখতে দর্শক সফলভাবেই একাত্ম হয়ে যায় চরিত্রের সঙ্গে।