magazine_cover_12_july_18.jpg

Anandalok Review

একটু গতি হলে…

সোনার পাহাড়

sonar-pahar-still

পরিচালকঃ পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়

অভিনয়েঃ শ্রীজাত, তনুজা, যিশু, পরমব্রত, অরুণিমা, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়

সাধারণত বার্ধক্য নিয়ে ছবি করতে গেলেই একটা একপেশে মর‌্যালিটি, ভিকটিমাইজ়েশন, দুঃখের কাহিনি দেখানো হয়। বৃদ্ধরা একা, নবীনরা স্বার্থপর, ভিলেন… এমনটাই থাকবে। সেভাবে শুরু হলেও, সিমপ্যাথি টানলেও এই ছবিটি অন্যরকম। পরিচালক পরমব্রতকে ধন্যবাদ, তিনি চর্বিত চর্বন করেননি। বরং মা ও ছেলের সম্পর্কের একটি ছবি তৈরি করেছেন। উপমার (তনুজা) দিক থেকে ছবিটি শুরু করলেও, জানলার দু’টি দিকই দেখিয়েছেন তিনি। একজন হেল্পের সঙ্গে একা থাকেন উপমা, তাঁর ছেলে-বউ আলাদা থাকে। একদিন উপমা পড়ে যাওয়ার পর, ফিজ়িওথেরাপিস্ট নিয়ে হাজির হয় এনজিও কর্তা রাজদীপ (পরমব্রত)। তারই হাত ধরে উপমা সঙ্গে দেখা হয় বিটলুর (শ্রীজাত)। অনাথ, অসুস্থ বাচ্চাটি বৃদ্ধা উপমার সঙ্গে সময় কাটাতে আসে। দুষ্টু বিটলুর সঙ্গে শিগগিরই বন্ধুত্ব হয়ে যায় তার ‘উমা’র। বিটলু খুঁজে পায় উমার গল্প লেখার খাতা। তারপর গল্প শোনার টানে দু’জন ভেসে যায়। একদিন হঠাৎই বিটলু-উমা পাড়ি দেয় সোনার পাহাড়ের উদ্দেশে। সোনার পাহাড় দেখতে পেলেই সব কষ্টের অবসান! ছবিতে খারাপ বলার মতো বিশেষ কিছু নেই। দু’-একটি এদিক-ওদিক থাকলেও তা বলার মতো নয়। ছবিতে আবেগের ছড়াছড়ি নেই, মেলোড্রামা নেই, বেশ বাস্তব লেগেছে ঝগড়ার দৃশ্যগুলি। কিন্তু ছবিটির কোনও উত্তরণ হয়নি। ওঠাপড়ার অভাবের কারণে বেশ ধীর এবং অকারণ দীর্ঘও মনে হয়েছে। যিশু, পরমব্রত, বাবানের স্ত্রীয়ের ভূমিকায় অরুণিমা, সবাই যথাযথ। তনুজার কথার টান একটু কানে লাগলেও, রাগী তিরিক্ষে মেজাজে তিনি সাবলীল। কিন্তু এই ছবির আসল নায়ক শ্রীজাত। অতিরিক্ত পাকামি ছাড়া, দুষ্টু এবং প্রচণ্ড মিষ্টি বিটলুর চরিত্রে সে অনবদ্য। অত্যন্ত সহজ ও স্বাভাবিক লেগেছে তাকে। সে-ই এই পাহাড়ের সোনা। শুধু তার জন্যই এই ছবিকে কিছু নম্বর বেশি দেওয়া গেল।

এখন আপনার রিভিউ প্রকাশিত হতে পারে আনন্দলোক-এ। সিনেমা দেখে
চটপট লিখে ফেলুন রিভিউ আর ইমেল করুন

[email protected]