magazine_cover_12_June_19.jpg

Anandalok Review

প্রেম না পরিবার… কাকে বাছবে জীবন?

শেষ থেকে শুরু
sesh-thake-suru-still

পরিচালনা: রাজ চক্রবর্তী
অভিনয়: জিৎ, কোয়েল, ঋতাভরী চক্রবর্তী, খেয়ালি দস্তিদার

দুটো মানুষ, তারা ‌একে অপরকে ভালবাসে অথচ ব্যাপারটা অত সহজ নয়! দুটো মানুষের ব্যক্তিগত অনুভূতির মাঝে যখন ঢুকে যায় তৃতীয় ব্যক্তি, একটা গোটা পরিবার আর সংঘর্ষ… তখন কী করে মানুষ? পরিবারের জন্য নিজের ইচ্ছেটুকু বিসর্জন দেয়? না প্রেমকে ভুলে যাওয়ার চেষ্টা করে? রাজ চক্রবর্তীর সাম্প্রতিক ছবি ‘শেষ থেকে শুরু’ দেখতে-দেখতে এই প্রশ্নগুলো মনে আসতে বাধ্য! ছবির লোকেশন তিনটে শহর, তিন শহরে তিন মানুষ মাহিদ, পূজারিণী আর ফরজ়ানা। তিনজনের মধ্যে মিল একটাই… যন্ত্রণা! পুরো ছবি জুড়ে যন্ত্রণা আর শূন্যতার ক্রিসক্রস এঁকেছেন যেন পরিচালক। মাহিদ (জিৎ) একজন সৎ মানুষ, যে দুর্ভাগ্যবশত পারিবারিক সংঘর্ষের শিকার হয়ে ঢাকা থেকে লন্ডনে ফেরারি, পূজারিণী (কোয়েল) কলকাতা থেকে লন্ডনে আসে রিসার্চ করতে। মাহিদ ও পূজারিণীর অতঃপর দেখা, ভালবাসা… পূজারিণীর হাত ধরে মাহিদ যেন খুঁজে পায় নিজের শূন্যতার একটা আলাদা অর্থ! কিন্তু বিধি বাম, জীবন এক অন্য খেলা খেলতে শুরু করে মাহিদ আর পূজারিণীকে নিয়ে। অন্যদিকে ফরজ়ানা (ঋতাভরী), নিজের আত্মসম্মানের বলি হতে দেখেও ভালবাসার কাঙাল হয়ে থাকে। অথচ সেভাবে দেখতে গেলে তিনটি চরিত্রই আসলে পরিস্থিতির চাপে নিজের-নিজের বৃত্তে আটকে রয়েছে। কেউই কাউকে আঘাত করতে চায়নি, কেউই নিষ্ঠুর নয়… তবুও জীবন নিষ্ঠুর হতে বাধ্য করেছে। মাহিদের চরিত্রে জিৎ-এর স্ক্রিনপ্রেজ়েন্স নায়কসুলভ ক্যারিশমা নিয়ে, প্রতিটি দৃশ্যেই তিনি যেন জ্বলজ্বল করে ওঠেন। পূজারিণীর চরিত্রে কোয়েল যথেষ্ট সাবলীল। আপাত নায়ককেন্দ্রিক ছবি হলেও বিশেষ উল্লেখযোগ্য ফরজ়ানার চরিত্রে ঋতাভরীর অভিনয়, অবহেলা পেতে-পেতে দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গেলেও মানুষ ভালবাসার কাছে যে কতটা অসহায় তার সঠিক প্রকাশ করেছেন তিনি। মা-এর চরিত্রে খেয়ালি দস্তিদারের অভিনয় একটু অতিনাটকীয় মনে হয়। ছবির প্রথমার্ধ বেশ গোছানো, কমার্শিয়াল ছবির স্টিরিওটাইপ ভেঙে বেরনোর একটা প্রয়াস রয়েছে। ঝকঝকে সিনেমাটোগ্রাফি, কোনও কোনও দৃশ্য বেশ ভাললাগে। অনর্থক গানের ব্যবহার বা খামোখা সুন্দর লোকেশন দেখানোর কোনও চেষ্টা করেননি পরিচালক, বরং গল্পকে খানিকটা বাস্তব করার চেষ্টা করেছেন। ভাল লাগে বই-এর ন্যারেটিভের মতো ছবির মাঝে-মাঝে সূত্রধরের খেই ধরিয়ে দেওয়া, ত্রিধার চরিত্রটি খানিক দর্শকের দৃষ্টিতে ঘটনাবলী দেখার চেষ্টা করে। কিন্তু এত করেও শেষরক্ষা হল না, ছবির দ্বিতীয়ার্ধে দেখার মতো একমাত্র জিৎ-এর স্ক্রিনপ্রেজ়েন্স, একটা দুর্দান্ত কার চেজ়িং সিন আর ক্লাইম্যাক্সের টুইস্ট। কমার্শিয়াল ছবিতে লজিক কেউ খোঁজে না মানছি, তাই বলে গঙ্গার ঘাটে বৃষ্টির মধ্যে সন্তানের জন্মের মতো ভয়ানক অতিরঞ্জিত দৃশ্য নেওয়া গেল না। এরকমই আরও অজস্র লজিকাল ফ্যালাসির জন্য প্রথমার্ধে শুরু হওয়া ক্ষীণ আশার ভরাডুবি হয়ে গেল, গ়ড়পড়তা কমার্শিয়াল ছবির গণ্ডি পার হতে গিয়েও ঠিক সীমান্তে আটকে গেল ছবিটি। তবে, কমার্শিয়াল ছবি মানেই যে তাতে গল্প থাকবে না, এমন চিন্তার অবসান যে ঘটতে চলেছে তার ইঙ্গিতই যেন দিয়ে গেল ‘শেষ থেকে শুরু’…