magazine_cover_27_november_17_02.jpg

Anandalok Review

এ কোন জীবন!

সমান্তরাল
samantaral-still

অভিনয়: সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়, ঋদ্ধি সেন, তনুশ্রী, অপরাজিতা আঢ্য, সুরঙ্গনা, কুশল চক্রবর্তী, অনিন্দ্য বন্দোপাধ্যায়
পরিচালনা: পার্থ চক্রবর্তী
……

কলকাতার বুকে চট্টোপাধ্যায় পরিবারের গল্পটা বড্ড চেনা হয়েও অচেনা। কারণ, এমন সমস্যা বুকে নিয়ে বেরাচ্ছে অনেক পরিবারই। প্রাণপণে গোপন করে চলেছে একটা কঠিন সত্যকে। সেই সত্য কখনও হঠাৎ করে বেরিয়ে আসে খবরের কাগজের পাতায়। কখনও বা পরিবারটি আজন্ম গোপন সত্যটি শেষ করে দেয় একটি জীবনকে। গল্পটা শুরু হয় অর্ককে (ঋদ্ধি) দিয়ে। সে খুব ছোটবেলায় গাড়ি দুর্ঘটনায় হারিয়েছে বাবা-মাকে। তারপর একটা বয়স অবধি মামাবাড়িতে কাটিয়ে চলে যায় বোর্ডিং স্কুলে পড়তে। তারপর দাদুর (সৌমিত্র) ইচ্ছেয় আবার কলকাতায় এসে কলেজে ভর্তি হয়। থাকতে শুরু করে মামাবাড়িতে। থাকা মাত্রই টের পেতে থাকে কোথাও যেন সুর কাটছে। আর এই সুর কাটছে মেজমামা সুজনকে (পরমব্রত) নিয়ে। সুজন ঠিক স্বাভাবিক নয়। তাকে বাড়ি থেকে বের করা হয় না। কারও সামনে আনা হয় না। এমনকী, সুজনের ছোট ভাই কৌশিক (অনিন্দ্য) তাকে পেটায়। পাগলাগারদে পাঠাতে চায়। আর এটাই বুঝতে পারে না অর্ক। কেন মেজমামার মতো সমুদ্র হৃদয়ের মানুষটিকে বাড়ির বাইরে বের করা হয় না? কেন-ই বা তাকে সায়কিয়াট্রিস্ট দেখানো হয় না? কেন-ই বা মাঝে-মাঝে বাড়ি থেকে পালিয়ে কুমোরটুলিতে গিয়ে কাঁচা মাটির মূর্তির গায়ে হাত বোলায় সুজন? উত্তর খুঁজতে গিয়ে অর্কর সামনে উঠে আসে এক কঠোর বাস্তব। সেই বাস্তবকে লুকোতে গিয়েই এক শিক্ষিত পরিবার শেষ করে দেয় একটা মানুষের জীবনকে। সুস্থ মানুষকে বানিয়ে দেয় অসুস্থ। সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় সুচারুভাবে নিজের দায়িত্ব পালন করেছেন। পরমব্রত কয়েকটি দৃশ্যে চমৎকার। মার্জিত অভিনয় করেছেন তিনি। ঋদ্ধি এবং তাঁর বান্ধবীর ভূমিকায় সুরঙ্গনা যথাযথ। ভাল লাগে অপরাজিতাকেও। অনিন্দ্যর অতিরিক্ত খলনায়কপনা মাঝে-মাঝে বিরক্তি জাগায়। প্রতি মুহূর্তে শয়তানি বোধহয় খোদ শয়তানও করে না। ছোট্ট ভূমিকায় তনুশ্রীকে মানিয়েছে। তবে একটাই খটকা লাগে। তাঁর চরিত্র ‘পিয়া’ তো হাজ়ব্যান্ড কৌশিকের সমস্ত কাজের ব্যাপারেই ওয়াকিবহাল। তাহলে হঠাৎ করে তাঁর মধ্যে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এল কেন? ঠিক তেমনই বোঝা গেল না, সুজনকে মাঝ রাস্তায় নামিয়ে দেওয়ার পর হঠাৎ কেন সে বেহালা বাজাতে বসে পড়ল এবং কেন-ই বা কতগুলো লোক এসে তাকে টানাটানি করতে লাগল। কৌশিকের বাড়াবাড়ির সামনে বাড়ির কর্তাসহ বাকিরা কেনই বা অসহায় বোঝা গেল না। ফার্স্ট হাফটা ভাল লাগলেও, সেকেন্ড হাফ অগোছালো। পরিচালক আরও একটু গোছাতে পারতেন। তবে তাঁর ভাবনাটি সত্যিই অন্যরকম। এই ভাবনাটিকে পরদায় আনার জন্য তাঁকে সাধুবাদ জানাতেই হয়। ছবির গানও বেশ ভাল। ছবির শেষটা মনখারাপ করায়। তবে এটাও ঠিক, এই গল্পের তো এই পরিণতিই হয় আজকে ২০১৭ দাঁড়িয়ে। জানি না, কবে গিয়ে একটু অন্যরকম হবে শেষটা? আমরা কবে নারী-পুরুষের বাইরে গিয়ে মানুষের কথা ভাবতে পারব?