magazine_cover_12_january_18.jpg

Anandalok Review

এ ছবি এতদিন পড়ে রইল কেন?

রে
ray-big

অভিনয়: শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়, কৌশিক চক্রবর্তী, টিনা মুখোপাধ্যায়
পরিচালনা: রিংগো
……

ইদানীংকালে দু’-একটি ছবির পোস্টার দেখে মানুষ একটু মিসগাইডেড হয়ে থাকতে পারেন। ‘রে’-ও তেমনই। পোস্টার দেখেই সবাই গেল-গেল করছিলেন। বলেছিলেন, শাশ্বত কেন হবেন সত্যজিৎ? চেহারার মিল ইত্যাদি নিয়েও হাজার কথা বলা হয়েছে। নির্ভয়ে থাকুন, শাশ্বত চট্টোপাধ্যায় এ ছবিতে মোটেই সত্যজিৎ রায় নন। সত্যজিতের গল্পের রেফারেন্স রয়েছে বেশ কিছু, ‘সিংজি-সিংজি’ বলে চিৎকার করা আছে ‘সোনার কেল্লা’ স্টাইলে, এত অবধি। রিংগো এই অলংকার না ব্যবহার করলেও ছবির কোনও অসুবিধে হত বলে মনে হয় না। বরং না থাকলে আর একটু মেদ ঝরত এ ছবির। কাহিনি ‘রে’-র মূল নোঙর। লেখক রঞ্জন রে (শাশ্বত) ক্রাইম থ্রিলার লেখার বরাত পেয়ে দিরাং যায়। সেখানে দেখা হয় অরিজিৎ (কৌশিক) এবং রোমার (টিনা) সঙ্গে। অদ্ভুত একটি কাপ্‌ল। তারপর একের পর এক শকিং ঘটনা। খুনের উপর খুন। শেষে আসল ডক্টর হাজরার আগমন এবং রহস্য উদ্‌ঘাটন। ছবিটি তরতরিয়ে এগিয়ে গিয়েছে, মূলত কাহিনির গুণেই। তবে একটু ছোট হলে ভাল হত। ক্যামেরার কাজ অসাধারণ। কালার প্যালেট ও ফ্রেমগুলি অত্যন্ত ডিস্টার্বিং। ভাল লাগলেও, ক্লান্তিও এসেছে এর হাত ধরেই। অবশ্য মনোবিকারগ্রস্ত চরিত্রের চোখের সঙ্গে এই দৃশ্যাবলি যেতেই পারে। বাকি কাজ অরুণাচল সামলে নিয়েছে! কয়েকটি ছোট সমস্যা আছে। ভালুকপংয়ে ডাক পেয়ে কেন দিরাং যাওয়ার পরিকল্পনা করল রঞ্জন? তার বুকিং ইত্যাদি তো ভালুকপংয়েরই ছিল। কল্পনা বলেই কি? ওয়েটারের মৃত্যুর পর পুলিশের কোনও দেখা পাওয়া গেল না, তেমন করে খোঁজাও হয়নি। কল্পনা বলেই কি? প্রচণ্ড টেনশনেও রোমা-রঞ্জনের হাসি একটু আশ্চর্যের। ডাবিং নিয়েও অসুবিধে আছে। আর অরুণাচলে এত বেশি নেপালি-মিশ্রিত হিন্দি শুনতেও কেমন একটা লাগে। অভিনয়ে শাশ্বত চট্টোপাধ্যায় অসাধারণ। বিশেষত ভয়ের প্রকারভেদগুলি তাঁর মুখে দারুণ খেলেছে। যদিও ছবির শেষের দিকে একটু উচ্চকিত তিনি। যা তাঁর কাছ থেকে খুব একটা আশা করেন না মানুষ। তবে এই শাশ্বত তো বছর সাতেক আগের। কৌশিক চক্রবর্তী ঠান্ডা চোখের ভিলেন হিসেবে বেশ ভাল। ছোট পরদায় অভিনয় করার বিশেষ সুযোগ তো তাঁর ঘটে না। টিনাকে অবশ্য খুব একটা সাবলীল মনে হয়নি। তিনি শরীরী সুন্দরী ঠিকই, তবে চরিত্রে আরও শক্তিশালী অভিনয়ের প্রয়োজন। ২০১০-এ শুট হওয়ার পর এ ছবির এতদিন পড়ে কেন রইল, প্রশ্ন সেখানেই।