magazine_cover_12_november_17.jpg

 

Home review detail সিঙ্গল হলে ভাল লাগবে, না হলেও…

সিঙ্গল হলে ভাল লাগবে, না হলেও…

করীব করীব সিঙ্গল
qareeb-qareeb-single-still

অভিনয়: ইরফান খান, পার্বতী
পরিচালনা: তনুজা চন্দ্র
……

আধুনিক তরুণ-তরুণীর প্রেমে যে বেপরোয়া ভাবটি থাকে, তা বরাবর সিনেমার উপজীব্য হয়ে উঠেছে। কিন্তু পঁয়ত্রিশ পেরিয়ে মিড লাইফ ক্রাইসিসও যে ছেলেমানুষির জন্ম দিতে পারে, তা বেশ সুন্দরভাবে দেখিয়ে দিল ‘করীব করীব সিঙ্গল’ ছবিটি। অনলাইন ডেটিং সাইট থেকে প্রথম দেখা হয় জয়া (পার্বতী) এবং যোগীর (ইরফান)। আর তারপর ভাললাগা-মন্দলাগার যাত্রা শুরু হয় মুম্বই থেকে, শেষ হয় গ্যাংটকে। মাঝে উপলব্ধির মতো দেরাদুন, দিল্লি, জয়পুর পড়ে থাকে। প্রথমেই বলে দিই, গন্তব্যে কোনও ‘টুইস্ট’ নেই। কিন্তু খানাখন্দে ভরা রাস্তার যাত্রাটি বড়ই সুন্দর! সাধারণত বলিউড আজকাল বেশি বয়সের প্রেমকাহিনিকে ‘ম্যাচিয়োর’ লভ স্টোরি বলে থাকে। কিন্তু যে কারণে এবং যেভাবে জয়া আর যোগী (দ্বিতীয় সাক্ষাতেই) ঘুরতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, তা হাসির খোরাক হতেই পারে। দু’টি চরিত্রকেই খুব যত্ন নিয়ে তৈরি করেছেন পরিচালিকা তনুজা চন্দ্র।

জয়া বিধবা, স্বামীর সত্তা থেকে বেরতেই পারে না। একাকিত্বে ভোগে, তাই বন্ধুরা কখনও বেবিসিটার, কখনও ‘স্টেপনি’ হিসেবে ব্যবহার করছে জেনেও কাউকে চটাতে চায় না। বন্ধু ‘টিন্ডার’ থেকে জীবনসঙ্গী খুঁজে পেয়েছে শুনে ডেটিং সাইটে অ্যাকাউন্ট খোলে ঠিকই, কিন্তু নিজের সম্পর্কে সব সত্যি লিখতে ভয় পায়। নিরাপত্তাহীনতা, শরীরের ছুঁৎমার্গ… জীবনটাকে উপভোগ করা সে ভুলেই গিয়েছে। আর জয়ার সেই নিরাপত্তাহীনতা অসাধারণভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন মলয়ালম অভিনেত্রী পার্বতী। ম্যানিকিনের মতো ছিপছিপে ফিগার, ডিজ়াইনার পোশাকে চোখ ধাঁধানোর মতো নায়িকাদের মধ্যে পার্বতী সত্যিই অন্যরকম। বুদ্ধিদীপ্ত এই সুন্দরী এতটাই সাবলীল অভিনয় করেছেন যে, এক-এক সময় মনে হতে পারে, তাঁকে মাথায় রেখেই জয়াকে ঢেলে সাজিয়েছেন পরিচালক। অন্যদিকে রয়েছে যোগী, যার রংচঙে পোশাক এবং বাচনভঙ্গী দেখলে জয়ার মতো যে-কোনও মেয়েরই গুন্ডা-বদমাইশ মনে হওয়া স্বাভাবিক। যোগীকে দেখলে মনে হতেই পারে, এই মানুষটা কিছুতেই অতীতের বোঝা বয়ে বেড়াতে পারে না। কিন্তু জয়ার মতো সে-ও অতীত থেকে বেরতে পারে না। শুধু বাউন্ডুলে সেজে নিরাপত্তাহীনতাকে ঢেকে রাখতে পারে। আর এরকম চরিত্রে যে ইরফান খানকে ‘অভিনয়’ করতে হয় না! সেন্স অফ হিউমর, নিজের সিগনেচার বাচনভঙ্গী, অগোছাল চেহারায় তিনিই হয়ে উঠেছেন যোগী।

এরকম ছবিতে গতি একটি নির্ধারক। অনলাইন সম্পর্ক অফলাইনে জমতে যতটা সময় প্রয়োজন, সেটা দেওয়া হয়েছে জয়া ও যোগীকে। কিন্তু এই ছবিটি ‘জার্নি’ মুভিও বটে। অতএব গতি ধীর হলে ছবিটি অচিরেই মাটি হয়ে যেত। গানের ব্যবহার ছবিটির কোনও ক্ষতি করেনি বরং সৌন্দর্য বাড়িয়েছে। বিশেষত পাপনের ‘তু চলে তো’ গানটি বেশ সিক্সটিজ়ের গান মনে করিয়ে দেয়।

মাঝেমধ্যে ক্যামেরা ক্লোজ় শটে অভিনেতাদের ধরেছে, যেখানে অভিনেতারা ক্যামেরার দিকে সোজা তাকিয়ে নানা এক্সপেশন দিয়েছেন বেশ অনেকক্ষণ ধরে। সেই জ়ুম শটগুলো বেশ বিরক্তিকর। কেন এত টাইট স্ক্রিপ্ট আর শক্তিশালী অভিনেতাদের উপর ভরসা রাখতে পারলেন না ডিরেক্টর? দু’-একটি দৃশ্যে ইরফান ও পার্বতীর দীর্ঘ সংলাপও খানিকটা বেমানান ঠেকেছে। কিন্তু গোটা ছবিতে এবং প্রেক্ষাগৃহ থেকে বেরনোর পরও দর্শকের মুখে হাসি লেগে থাকবে, একথা নিঃসন্দেহে বলা যায়। ডেটিং সাইট থেকে যে শুধু কামগন্ধযুক্ত সম্পর্ক খোঁজে সকলে, কেউ যে শরীরের বাইরে গিয়ে মনে ডুব দেয় না, সেই মিথটা ভাঙার জন্যও পরিচালিকাকে ধন্যবাদ।