magazine_cover_12_october_17.jpg

Anandalok Review

খু-উ-ব মিষ্টি বিস্কুট!

প্রজাপতি বিস্কুট
projapati-big

অভিনয়: আদিত্য সেনগুপ্ত, ঈশা সাহা, সোনালী গুপ্ত, অপরাজিতা আঢ্য, শান্তিলাল মুখোপাধ্যায়, রজত গঙ্গোপাধ্যায়, রজতাভ দত্ত প্রমুখ
পরিচালনা: অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায়
……

অভিজাত সেনবাটীতে পাড়ার ছেলেরা কার্ত্তিক ঠাকুর ফেলে যাওয়ার পরই বাড়ির ছোটবউ শাওনের (ঈশা) মনে সন্তানলাভের ইচ্ছে হয়। কিন্তু স্বামী অন্তরের (আদিত্য) সঙ্গে তার সম্পর্কে সেই ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে না। তার কারণ অনেক। অন্তর ভুলতে পারে না পুরনো প্রেম, সম্বন্ধ করে বিয়ে করার পর বেশ অনেকদিন বেঙ্গালুরুতে চাকুরিরত থাকায় বউয়ের সঙ্গে তার দূরত্বও কম নয়, নিম্নমধ্যবিত্ত ছাপোষা ঘরের মেয়ে শাওনের পক্ষে সেনবাটীর আভিজাত্যের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া সম্ভব হয় না… মোটামুটি একগুচ্ছ সমস্যা তাদের দাম্পত্যে। এর মধ্যে শান্তির রাস্তা হিসেবে সন্তানকে পেতে চাইলেও সেটা শাওন-অন্তরের জীবনে নতুন ঝঞ্ঝাট হয়ে দাঁড়ায়। ইঙ্গবঙ্গ আরবান সিনেমার (বর্তমানে আরবান বাংলা ছবিতে অভিনেতারা ইংরেজিই বেশি বলেন কি না!) মাঝে ‘প্রজাপতি বিস্কুট’ বাঙালিয়ানার টাটকা বাতাস। ছবির প্রথম ফ্রেম থেকে শেষ ফ্রেম অবধি চরিত্রগুলো আদ্যন্ত বাঙালি। একটা ছিমছাম ছোটগল্পের মতো ছবিটির গতি। কিন্তু ছোটগল্পটির বক্তব্য খুব একটা পরিষ্কার নয়। যে মর্মে ছবিটি শুরু হয়েছিল, শেষ অবধি দেখা গেল, সারমর্ম একেবারে আলাদা! সেখানে ন্যারেটিভ একটু ধাক্কা খায়। কেন শাওন আর অন্তর অদ্ভুত ব্যবহার করতে থাকে, বোঝা যায় না। শাওনের চরিত্রের একটা সম্পূর্ণ অন্য দিক আবিষ্কৃত হয়, আপাত ক্যাবলা অন্তরের কনফিডেন্সও জেগে ওঠে। বোকা-বোকা, সবসময় সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগা অন্তরের ভূমিকায় আদিত্য বেশ সপ্রতিভ। পেলব থেকে ‘রেবেল’ হয়ে ওঠা শাওনের ভূমিকায় ঈশাও চমৎকার। কিন্তু কিছু-কিছু জায়গায় বেশি নমনীয়তা দেখাতে গিয়ে অতিনাটকের সাহায্য নিয়েছেন তিনি। শাওনের মা-বাবার ভূমিকায় অপরাজিতা আঢ্য এবং শান্তিলাল মুখোপাধ্যায় খুব ভাল। শাওনের ‘রাবীন্দ্রিক’ শাশুড়ির ভূমিকায় সোনালী গুপ্ত এবং সিরিয়ালপ্রিয় শ্বশুরের ভূমিকায় রজত গঙ্গোপাধ্যায়ও যথাযথ। আলাদা করে বলতে হয় অন্তরের রসিক বসের ভূমিকায় রজতাভ দত্তর কথা। তিনি কমিক রিলিফ এনেছেন ছবিতে কিন্তু তা কখনও বাড়াবাড়ি মনে হয় না। সবই ঠিক ছিল কিন্তু সমস্যা হয়ে গেল অত্যধিক চিনির ব্যবহার। সব চরিত্রকে খুব ইনোসেন্ট এবং মিষ্টি দেখাতে গিয়ে বাস্তব থেকে খানিকটা সরে এসেছে ছবিটি। চরিত্রগুলো আর একটু এক্সপ্রেসিভ হলে হয়তো ছবিটি আরও বাস্তবসম্মত হতে পারত। ছবিতে গানের ব্যবহার বড্ড সুন্দর। বিশেষ প্রশংসার দাবিদার ‘আহা রে মন’ এবং ‘তোমাকে বুঝি না প্রিয়’ গান দু’টি। তবে উদ্দাম প্রেমের রমরমার যুগে একটি ভিন্নধর্মী প্রেম দেখতে মন্দ লাগে না। শুধু অন্তর এবং শাওনের সম্পর্কের টানাপড়েনগুলো একটু পরিষ্কার হলেও জমে যেত। ‘দারুণ’ হতে পারত, বদলে ‘বেশ মিষ্টি’ হয়ে রইল ‘প্রজাপতি বিস্কুট’।

এখন আপনার রিভিউ প্রকাশিত হতে পারে আনন্দলোক-এ। সিনেমা দেখে
চটপট লিখে ফেলুন রিভিউ আর ইমেল করুন

[email protected]