magazine_cover_12_october_19.jpg

Anandalok Review

দেব, পরম ভাল… কিন্তু প্রয়োগ?

পাসওয়ার্ড
password-still

পরিচালনা: কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায়
অভিনয়: দেব, পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়, রুক্মিণী মৈত্র, পাওলি দাম, আদৃত

প্রথমেই ধন্যবাদ প্রযোজক দেবকে এমন একটি বিষয় নির্বাচনের জন্য। চিত্রনাট্যে রসদ ছিল অনেক। ডার্ক নেট, সাইবার ক্রাইম, এথিক্যাল হ্যাকিংয়ের সঙ্গে মিশেছিল ভোপাল গ্যাস চেম্বারের মতো দুর্ঘটনাও। একটি ভাল থ্রিলার তৈরির চেষ্টাও ছিল। বলতে গেলে কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায় সাইবার ক্রাইমের মাধ্যমে এমন একটি জায়গা ধরতে চেয়েছিলেন, যা বেশ ভিন্নধর্মী। এবং মেনে নেওয়া ভালো, ছবিটি দেখতেও হয়েছে বিশ্বমানের। কিন্তু সমস্যা একটাই, এই সমস্ত ভাবনা প্রয়োগ করতে গিয়ে সব গেল ঘেঁটে। যেন আড়াই ঘণ্টার মধ্যে ছবি শেষ করার তাগিদে একটু খাপে খাপ গোছেরও করে দিতে হল। ওনিওন নামে একটি সাইবার টেরোরিস্ট গ্যাং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের সাইবার সিকিয়োরিটি হ্যাক করে। তাদের উদ্দেশ্য, আমেরিকার একটি পোর্টালকে তথ্য সরবরাহ করা, যারা ভারতের ই-কমার্সে হাত বসাতে চায়। যদিও এর পিছনে আছে বৃহত্তর উদ্দেশ্য… যাই হোক, এরই প্রতিকারে নামেন ডিসিডিডি রোহিত দাশগুপ্ত (দেব)। তৈরি করেন নিজের টিম। মুশকিলটা হল, পরিচালক গোটা থ্রিলারটা নিজের মতো করে তৈরি করেছেন, যুক্তিও সাজিয়েছেন নিজের মতো করে। আর সাইবার রাজ্যের এমন সব উপাদান ছবিতে এনেছেন, যার সঙ্গে দর্শকের তাল মিলিয়ে চলা কঠিন। কারণ সেটা বোঝানোর মত চিত্রনাট্যে জায়গা বা সময়, কোনোটাই নেই। ফলে আমরা কীভাবে নিজেদের অজান্তেই গোপন ডেটা প্রকাশ করছি, সেটুকু বুঝেই বাকিটা পরিচালকের হাতে ছেড়ে দিতে হয়। আর গল্পও নিজের মর্জিতে চলতে থাকে। ইসমাইলভ (পরমব্রত) যে কী করে সবকিছুর অ্যাক্সেস পায়, রোহিতই বা কী করে দুর্বোধ্য কোডগুলো ডি-কোড করে, বোঝা যায় না। নিশার (রুক্মিণী) সঙ্গে রোহিত বা পুলিশ ফোর্সের সম্পর্কটাও বড় অদ্ভুত। একজন ড্রাগ পেডলার এবং এথিক্যাল হ্যাকারকে বারবার বিশ্বাস করাটাও বিশ্বাসযোগ্য ঠেকেনি। ‘গ্রেটার গুড’ কনসেপ্টের কথা মাথায় রেখে পরিচালক ইসমাইলভের প্রেক্ষিতটা ভাল সাজিয়েছেন, কিন্তু কেন যে সে নিশার বোনকে গ্রেফতার করে বা এত সহজে অ্যান্ডারসনের সঙ্গে ডিল ক্র্যাক করে, বোধগম্য হয় না। এমনকী, শেষে কনসার্ট আয়োজন করে অ্যান্ডারসনকে মারার দৃশ্যটিও বড় হাস্যকর। তবে যেটা বললাম, এই ছবির ক্যামেরার কাজ অসাধারণ, গ্রাফিক্সও বেশ মন দিয়েই তৈরি করা হয়েছে। সেটা যে কোনও হলিউডি ছবির সঙ্গে পাল্লা দিতে পারে। দেব যথেষ্ট ভাল কাজ করেছেন, পরম বেশিরভাগ সময়টা ঊর্দূ শায়েরি বলে গেলেও, তাঁকে ভাল মানিয়েছে। পাওলি, রুক্মিণীর বিশেষ কিছু করার ছিল না। কিন্তু চেষ্টা প্রত্যেকেই করেছেন। চিত্রনাট্যের দুর্বলতার শিকার হতে হয়েছে সবাইকে। এমনকী, এমন স্মার্ট দেখতে ছবিতে এত দুর্বল অ্যাকশন সিকোয়েন্স বেমানান ঠেকে। তবে এত কিছুর মধ্যেও দ্যূতি ছড়িয়েছেন আদৃত। গ্রে শেডের চরিত্রে তিনি যথেষ্ট ভাল। ‘পাসওয়ার্ড’ এ আদি হিসেবে দেখার পর তাঁকে লম্বা রেসের ঘোড়া বলাই যায়। পাসওয়ার্ড-এর বেশ ভাল সম্ভাবনা ছিল। প্রেক্ষিতটাও তৈরি ছিল। কিন্তু সামাজিক বার্তা দিতে গিয়ে সিনেমার এক্স ফ্যাক্টরটা যেন কোথাও হারিয়ে গেল।