magazine_cover_12_September_19.jpg

Anandalok Review

দিকভ্রষ্ট দেশপ্রেম

প্যান্থার
panther-still

পরিচালনা: অংশুমান প্রত্যুষ
অভিনয়: জিৎ, শ্রদ্ধা দাস, শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়, শন্তিলাল মুখোপাধ্যায়

স্বাধীনতা দিবসে মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমা মানে যে কোনও না কোনও ভাবে আপনাকে দেশপ্রেমের শিক্ষায় শিক্ষিত বা গর্বে গর্বিত করা হবে, তা মোটামুটি এতদিনে নিশ্চয়ই আপনার জানা হয়ে গিয়েছে। ইদানিং সেই হিড়িক যেন আরো খানিকটা বেড়েছে। আমরা একবারও বলছি না, দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করার ছবি মানেই খারাপ। এমন অনেক ছবি আছে, যা মনে চিরস্থায়ী দাগ রেখে গিয়েছে। কিন্তু জোর করে দেশপ্রেমের ট্যাবলেট খাওয়াতে গেলে কী বিপত্তি হতে পারে, তার উদাহরণও এই বঙ্গে কম নেই। আর দুভাগ্য বলতে পারেন, এই তালিকায় নব সংযোজন হিসেবে প্যান্থার কে রাখতেই হবে। দুর্ভাগ্য এই কারণে যে, জিৎ তাঁর শেষ দু তিনটি ছবিতে বিষয় নির্বাচনের উপর জোর দিয়ে আশার আলো দেখিয়েছিলেন। কিন্তু প্যান্থার যেন সেই পুরনো কমার্শিয়াল বাংলা সিনেমাকে ফিরিয়ে দিল, যেখানে গল্পের গরু গাছে উঠে সাবলীল নৃত্য করতে পারে। তাও যদি চোখ ধাঁধানো অ্যাকশন থাকত… বিশ্বাস করুন, প্যান্থারে সেই রাম – ও নেই, অযোধ্যাও হাপিস। গল্পটা ছোট করে বলতে গেলে বলতে হয়, প্যান্থার raw- এর এজেন্ট। তিনি এমন এজেন্ট, যিনি একা হাতে দস্যু সংহার করতে পারেন আর কথায় কথায় জয় হিন্দ স্লোগান দিতে পারেন। তো সেই প্যান্থারের উপর ভার পড়ে দেশকে বাঁচানোর। প্রতিবেশী দেশের কিছু উগ্রপন্থী দেশের চারটি শহরে বিষ্ফোরণ ঘটানোর চেষ্টা করে, প্যান্থার -কে সেটা আটকাতে হবে। কি করে আটকাবেন? প্যান্থার কোনো ক্লু ছাড়াই মুম্বইয়ের শপিংমলে পৌঁছে যান আর স্লোগান দিতে দিতে হাত দিয়ে বম্ব ডিফিউজ করেন। কিন্তু মুম্বই – কে বাঁচাতে পারেননি, কারণ ২৬/১১ আগেই হয়ে গিয়েছিল যে! তার ফুটেজ দেখিয়ে বোঝানো হয়, ব্লাস্ট হল। যাক গে, এবার হতে ৭২ ঘণ্টা। তার মধ্যে বাঁচাতে হবে কলকাতাকে। প্যান্থার কি পারবে? এবার বলা বাহুল্য যে ছবির শেষে প্যান্থারই জিতবে। কিন্তু কীভাবে, এই পথটা দেখতে গিয়ে পুরো পথভ্রষ্ট হয়ে গিয়েছেন পরিচালক। মানে, এই সময়ের মধ্যে প্যান্থার এক উগ্রপন্থীদের ভাইকে ধরে মধ্যপ্রাচ্যের একটি দেশ থেকে। এক এজেন্ট (শান্তিলাল) ল্যান্ড মাইনে পা দিয়ে মারাও যান, জিৎ তাঁর পাশে ছিলেন, তাঁর গায়ে আঁচ পর্যন্ত লাগে না। নায়িকা শ্রদ্ধা দাসের সঙ্গে প্রেম করেন। স্লোগান দেন। Baby সিনেমা টির ধাঁচে সেই ভাই এবং তাঁর স্ত্রীকে দিল্লি ফেরানোর ব্যবস্থা করেন (কিন্তু শুধু ফেরানোই দেখানো হয়েছে। কীভাবে হল, সেটা নয়) তারপর আবার একটি মধ্যপ্রাচ্যের দেশে গিয়ে সেই baby -র মতো এক গুন্ডাকে ধরতে গিয়ে এই চক্রের মাথাকে -ও ধরে ফেলেন। দিয়ে ট্রাকে করে ফেরেন। এবার এত গল্প বলার একটাই কারণ… এটা বোঝানো যে দর্শককে কি বোকা ভাবলে এমন দৃশ্য রচনা করা যেতে পারে । শুধু মুসলিম মানেই আতঙ্কবাদী নয়, এটা দেখতে গিয়ে যে দৃশ্য দেখানো হয়েছে, তাকে অবাস্তব বললেও কম বলা হয়। একা জিৎ আর কতদিক সামলাবেন। তাঁকে দেখতে ভাল লেগেছে। অভিনয়ও ভাল করেছেন। কিন্তু চিত্রনাট্য তাঁকে কোনো সাহায্য করেনি। শ্রদ্ধা দাসের বিশেষ কিছু করার ছিল না। আসলে দৃশ্য নিৰ্মাণ করতে গিয়ে এমন কিছু অবাস্তব জিনিস দেখানো হয়েছে যে, গোটা ব্যাপারটাই বিশ্বাস অর্জন করতে পারেনি। ফলে শাশ্বত বা কাঞ্চনকে কমিক রিলিফই মনে হয়েছে। বরং তুলনায় একটু ভাল সুদীপ। তবে প্যান্থার মনে কোনও দাগই ফেলে না।

এখন আপনার রিভিউ প্রকাশিত হতে পারে আনন্দলোক-এ। সিনেমা দেখে
চটপট লিখে ফেলুন রিভিউ আর ইমেল করুন

[email protected]