magazine_cover_12_July_19.jpg

Anandalok Review

বেশ ভেবে চিন্তে বানানো…

নেটওয়ার্ক
network-still

পরিচালনা: সপ্তাশ্ব বসু
অভিনয়: শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়, সব্যসাচী চক্রবর্তী, ভাস্কর বন্দোপাধ্যায়, রিনি ঘোষ, ইন্দ্রজিৎ মজুমদার

অন্যায় যে করে ও অন্যায় যে সহে… না, অন্যায় সহ্য করার গল্প এটা নয়৷ পরিচালক খুব নিপুণ ভাবেই মানুষের মধ্যের স্বাভাবিক প্রতিশোধ স্পৃহাকে তুলে ধরেছেন ছবির মধ্যে। গ্ল্যামারাস জীবনের হাতছানি লোভনীয় মনে হলেও আসলে তার আড়ালে যে কতটা অন্ধকার লুকিয়ে রয়েছে, তাও ফুটে উঠেছে ছবিতে৷ গল্পটা প্রতিশোধ নেওয়ার, অভিজিত গঙ্গোপাধ্যায় ( শাশ্বত) ও অরিন্দম চক্রবর্তী( সব্যসাচী) পরস্পরের শত্রু। অরিন্দম একজন প্রথিতযশা প্রযোজক আর অভিজিৎ একসময়কার বিখ্যাত পরিচালক। টার্মিনাল ক্যান্সারে আক্রান্ত অভিজিৎ চেয়েছিলেন জীবনের শেষ ছবিটা ব্লকবাস্টার হিট দেখে যেতে। কিন্তু বিধি বাম, রাজ( ইন্দ্রজিৎ), শ্রেয়া( রিনি) ও অরিন্দমের ষড়যন্ত্রে সেই ছবি তাঁর হাতছাড়া হয়ে যায়৷ ভেঙে টুকরো-টুকরো হয়ে যান অভিজিৎ, তারপরেই প্ল্যান শুরু রিভেঞ্জের। চিত্রনাট্য বেশ ঝরঝরে, বিশ্বাসযোগ্য৷ আবেগ আর বিট্রেয়ালের মিশেলটুকু বেশ লাগে৷ শাশ্বত ও সব্যসাচীর অভিনয় পরস্পরের পরিপূরক। তবে শাশ্বত একাই ছবির কাণ্ডারী। রাজের চরিত্রে ইন্দ্রজিৎ বেশ ন্যাচারাল, তবে রিনিকে কোথাও কোথাও অতিনাটকীয় মনে হয়েছে৷ সবচেয়ে ভাল লাগে ছবির কনসেপ্ট, এই যে গল্পের মধ্যে গল্প, তার সঙ্গে এক একটা অন্যরকম টুইস্টে দর্শকের স্ক্রিন থেকে চোখ সরানোর উপায় নেই। পরিচালক কোনও রকম খামতি রাখেননি ছবিটি করার ব্যাপারে। প্রতিটি শট যত্ন করে নেওয়া, ঝকঝকে সিনেমাটোগ্রাফি আর প্লট হোল যতটা সম্ভব কম…এই তিনটে ব্যাপার মিলিয়ে ‘নেটওয়ার্ক’ স্পষ্টতই দৃষ্টিনন্দন হয়ে উঠেছে৷ ছবিতে লজিকের কোনও অভাব নেই, দর্শক মোটামুটি সব প্রশ্নেরই উত্তর পেয়ে যান। তবে, ছবির প্রথমার্ধ যতটা আশা জাগায়, দ্বিতীয়ার্ধে ক্লাইম্যাক্স যত এগিয়ে আসে তত অগোছালো হতে শুরু করে৷ শ্রেয়া আর রাজের অশান্তিটা আরেকটু বাস্তবসম্মত হলে ভাল হত। অরিন্দমকে যেন হঠাৎ করেই সরিয়ে দেওয়া হল। এরকম নানা ছোট্ট ছোট্ট অপ্রাপ্তি আরও বেড়ে যায় ক্লাইম্যাক্সে এসে৷ ক্লাইম্যাক্সটা আরেকটু অন্যরকম হলে মন্দ হত না৷

তবে, ঔৎসুক্য জাগায় পোস্ট ক্রেডিট সিনটি, তবে কি প্রতিশোধের খেলা সবে শুরু?
সবমিলিয়ে ‘নেটওয়ার্ক’ একটি টানটান থ্রিলার, যার নামের আগে ‘ওয়েলমেড’ শব্দটি বসানোই যায়।