magazine_cover_12_March_19.jpg

Anandalok Review

দিন বদলের গান

মুখার্জীদার বউ

mukherjee-da-r-bou-still

পরিচালনা: পৃথা চক্রবর্তী

অভিনয়ে: অনুসূয়া মজুমদার, কনীনিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, বিশ্বনাথ বসু

চেনা পৃথিবীর গল্পটা এখানে অন্যরকম। এখানে মেয়েরা মেয়েদের হিংসে করে, পথের কাঁটা হয়ে দাঁড়ায়, আবার সেই মেয়েরাই মেয়েদের বন্ধু হয় (এমনটা দেখা যায় নাকি), একাকীত্ব কাটায়। অদিতি (কনীনিকা) শোভারানির (অনুসূয়া) পুত্রবধূ। দু’জনের মধ্যে ঝগড়া লেগেই থাকে। সেই ঝগড়ায় কখনও বেচারি ছেলে শাশ্বত (বিশ্বনাথ) দোষী হয়, কখনও অদিতির ছয় বছরের মেয়ে ইচ্ছে আঘাত পায়। বাকি পরিবারের মতো এঁরা সমস্যায় জারিত হন না। আধুনিক মনস্কতার পরিচয় দিয়ে পৌঁছন এক সাইকোলজিস্টের কাছে। সেখানে তাঁরা আবিস্কার করেন, দু’জনেই একা। দু’জনেই নিজেদের নাম ভুলে ‘মুখার্জীদার বউ’ হয়ে গিয়েছেন। এই সমস্যা থেকে বেরতে পরস্পরের পাশে তাঁদেরই দাঁড়াতে হবে। মেয়েদের লড়াইটা মেয়েদেরই লড়তে হবে। অভিনয়ে কনীনিকা এবং অনুসূয়া অনবদ্য। ছোট-ছোট অসূয়া, না পাওয়ার বেদনা, অসহায়তা দু’জনেই ফুটিয়ে তুলেছেন। ভাল লাগে, শাশুড়ি বা বউমা কাউকেই দোষী করেননি পরিচালক। সমাজের চিত্রটা তুলে ধরেছেন। সত্যিই তো মানুষ কি দোষী হয়? শাশুড়ি তাঁর শাশুড়ির কাছ থেকে বাসি রুটি পেয়েছেন বলেই তো বউমাকে সবচেয়ে ছোট মাছের টুকরোটা দেন। নিজের অপ্রাপ্তি অন্যজনকে ঢেলে দিতে চান। কিন্তু এই গল্প ব্যতিক্রমের গান শোনায়। তাই তো যে শাশুড়ি একদিন বউমার চাকরির কাগজ লুকিয়ে রেখেছিলেন, তিনিই আবার বাঙাল বউমাকে খোসাবাটা করে খাওয়ান। বিশ্বনাথও বেশ ভাল। তাঁর অভিনয়টা অভিনয় বললে নিন্দে হবে। মধ্যবিত্ত বাঙালি পুরুষ তো এমনই হয়। ছোট এবং প্রাসঙ্গিক চরিত্রে অপরাজিতা দারুণ। সত্যি ‘পুতুল’-এর মতো মেয়েরাও তো হয়। যাঁরা একমাত্র সংসারের টানেই বরের দেওয়া অপমান সহ্য করে নেয়। ‘সোনার খাঁচা’কেও ভাল লাগে তাঁদের। ছোট্ট চরিত্রে ঋতুপর্ণা অসাধারণ। শিক্ষণীয়… সুযোগ থাকলেও নিজে ব্যাকফুটে গিয়ে বাকিদের এগিয়ে দিয়েছেন। গানগুলো বেশ ভাল। তবে আলাদা করে প্রশংসা করতে হয় নবাগত পরিচালক পৃথার। সুন্দরভাবে নারী জীবনের দুঃখগুলোকে তুলে ধরেছেন। নারী চরিত্রগুলির আত্মপ্রকাশে সাহায্য করেছেন। তবে ছবির দৈর্ঘ্য কমালে আরও আঁটোসাঁটো হত গল্পটি। ক্লাইম্যাক্সে বড্ড আরোপিত লাগে শোভারানির বক্তব্যটি। তবু ভাল লাগে সমস্যা থেকে সমাধানের রাস্তাটি। স্বপ্ন দেখতে ইচ্ছে করে। আশা জাগে, ভবিষ্যতে ‘ইচ্ছে’রা এমন দিনই পাবে, অদিতি আর শোভারানির জন্যই, মুখার্জীদার বউয়ের জন্য নয়।