magazine_cover_12_may_17.jpg

Anandalok Review

ভিলেন চিত্রনাট্য

মেরী পেয়ারী বিন্দু
meri-pyari-bindu-still
পরিচালনা: অক্ষয় রায়
অভিনয়: আয়ুষ্মান খুরানা, পরিণীতি চোপড়া, অপরাজিতা আঢ্য, রজতাভ দত্ত

সব ছিল ছবিটিতে। সুন্দর মিষ্টি একটি প্রেম, পুরনো দিনের রোম্যান্টিক হিট সব হিন্দি গান, পরিণীতির অসামান্য লুক এবং গায়কী, আয়ুষ্মানের অভিনয়… কিন্তু সবই ছবির ট্রেলরেই সীমাবদ্ধ থেকে গেল। বিশ্বাস করুন, ছবির যে ক’টি দুর্দান্ত মুহূর্ত, সব আপনি ট্রেলরেই দেখে ফেলেছেন। ফলে ছবিটির প্রতি হয়তো আগ্রহও সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু পরিচালক আকাশ রায় নিজের হাতে সেই আগ্রহে জল ঢেলেছেন। কারণ প্রায় দু’ ঘণ্টার এই সিনেমাতে বিন্দু (পরিণীতি) এবং বুবলার (আয়ুষ্মান) ‘মিষ্টি’ প্রেম জটিল ন্যারেটিভে পথ হারিয়েছে। ছোট্টবেলার প্রতিবেশী বিন্দুর প্রেমে হাবুডুবু খায় বুবলা। কিন্তু বিন্দু কখনওই সেই প্রেমকে বন্ধুত্বের উপরে জায়গা দেয় না। কেন দেয় না, এর উত্তর দেওযাটা কঠিন। কারণ বিন্দুর মনোজগতে কখনও সেইভাবে ঢোকেনই না পরিচালক। ফলে বুবলার প্রতি দুর্বলতা থাকা সত্ত্বেও, বিন্দু যে কেন অন্য সকলের সঙ্গে প্রেম করে যায়, বোধগম্য হয় না। অতীত থেকে বর্তমানে অবলীলায় চলাফেরা করে ছবির ন্যারেটিভ। আর এতই সহজ সেই আনাগোনা যে, মাঝে মাঝে সময়, স্থান, কালও খেই হারিয়ে যায়। ফলে কী করে যে বুবলার সঙ্গে প্রেম ভাঙার দু’বছরের মধ্যে বিন্দু নিজের সন্তানকে নিয়ে (সন্তানের বয়স অন্তত সাত বছর) পুরনো বাড়িতে ফিরে আসে, সেটা বুঝতে অসুবিধে হয়। আসলে ‘গল্পের মধ্যে গল্প’, এই স্ট্রাকচারে ছবিটিকে ফেলতে গিয়ে চিত্রনাট্যের জগাখিচুরি পাকিয়েছেন পরিচালক। তাতে নতুন একটি ন্যারেটিভ হিসেবে ‘মেরী পেয়ারী বিন্দু’র প্রশংসা করা গেলেও, ছবি হিসেবে করা যায় না। আয়ুষ্মান এই ছবিতে অসাধারণ। পাশের বাড়ির ছেলে হিসেবে তিনি জাস্ট ফাটিয়ে দিয়েছেন। পরিণীতিও ভাল, তাঁকে দেখতে সুন্দর লেগেছে, কিন্তু ছবিতে তাঁর চরিত্রটি অত্যন্ত ঘাঁটা। কিন্তু তিনি যেভাবে গান গেয়েছেন, তাতে পরিণীতির গান শোনার জন্য ভবিষ্যতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করা যেতেই পারে। অপরাজিতা এবং রজতাভর সঙ্গে আয়ুষ্মান এবং পরিণীতির কেমিস্ট্রি ভাল, তাঁদের বলা বাংলাগুলো একেবারেই কানে লাগে না, এতটাই সাবলীল। কিন্তু টুকরো কিছু ভাল লাগা দিয়ে তো গোটা ছবিটিকে ভাল বলা যায় না। এই ছবিরও সেই সমস্যাই হয়।