magazine_cover_12_mayl_19.jpg

Anandalok Review

নতুনভাবে সময় চেনায়

মহালয়া

mahalaya-still

পরিচালনা: সৌমিক সেন

অভিনয়ে: যিশু সেনগুপ্ত, শুভাশিস মুখোপাধ্যায়, সপ্তর্ষি রায়, শুভময় চট্টোপাধ্যায়, কাঞ্চন মল্লিক, ভাস্বর চট্টোপাধ্যায় প্রমুখ

বাণীকুমারের রচনা, পঙ্কজ মল্লিকের সঙ্গীত এবং বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের স্তোত্রপাঠ সেই ১৯৩১ থেকে বাঙালির পিতৃপক্ষের সমাপ্তি ঘোষণা করে আসছে। মহালয়ার প্রত্যুষে আকাশবাণীর মহিষাসুরমর্দিনী ছাড়া বাঙালির দুর্গাপুজো যেন শুরুই হয় না। কিন্তু এই পরম্পরাকে রাজনৈতিক নির্দেশে তথাকথিত আধুনকীকরণের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছিল বইকী! ১৯৭৬- এ এমার্জেন্সির দুর্দিনে সংস্কৃতি এবং শিল্পীদের নিয়ে একরকম ছিনিমিনি খেলেছে সরকার, যার কোপ পড়েছিল মহালয়ার অনুষ্ঠানেও। গোটা অনুষ্ঠানটা নতুন করে সাজানো হয়েছিল, হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গীত আর মহানায়ক উত্তমকুমারের পাঠে মহিষাসুরমর্দিনী হয়েছিল দুর্গতিহারিণী। এই গোটা ঘটনা নিয়ে ‘ মহালয়া ‘ ছবি। একে চলচ্চিত্রের ডকু- ফিচার ধারায় ফেলা যথাযথ। একটা সময়, তার চরিত্র, ঘটনাপ্রবাহ… তুলে ধরা হয়েছে এই ছবিতে, যা থেকে যাবে দলিল হিসেবে।

বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের চরিত্রের থেকে অভিনেতা শুভাশিসকে আলাদা করা যায় না। সময়ের কাছে হার স্বীকার করা, বিনয়ী, নবপ্রজন্মের প্রতি সহৃদয় অথচ ব্যাক্তিগতভাবে নিজের সময়কে আঁকড়ে পড়ে থাকা এই মানুষটিকে দেখলে মায়া হয়। পূর্বপুরুষদের প্রতি মাথা নত হয়ে আসে। যীশু দিনদিন আরও পরিণত হচ্ছেন। মহানায়ক উত্তমকুমারের ফ্লাম্বয়েন্স, ক্যারিশমা, অতুল্য ব্যাক্তিত্বর পাশাপাশি সাবেকী পরম্পরার প্রতি আনুগত্য, দ্বিধা, দোলাচল সবই তিনি ফুটিয়ে তুলেছেন দক্ষতার সঙ্গে। দাপুটে পঙ্কজ মল্লিকের ভূমিকায় শুভময় চট্টোপাধ্যায়, হেমন্তের চরিত্রে সপ্তর্ষি, আকাশবাণীর আধিকারিকের চরিত্রে কাঞ্চন, সকলকেই সময়োপযোগী লেগেছে এবং ন্যারেটিভ এগিয়ে নিয়ে গিয়েছে এঁদের ঝরঝরে অভিনয়। উত্তম- বীরেন্দ্রর সাক্ষাৎ, পঙ্কজ – হেমন্তের কথোপকথন, পঙ্কজের সঙ্গে এক ধর্মীয় অনুশাসনের ধ্বজাধারী নেতার বিবাদের দৃশ্যগুলো নতুন প্রজন্মকে ফেলে আসা সময় বা বাঙালির পারস্পরিক সম্মনপ্রদর্শনের রীতিকে চিনতে সাহায্য করবে। ‘দিনের শেষে’ বা ‘বাজল তোমার আলোর বেণু’ গানগুলো ছবিতে সুন্দরভাবে ব্যবহার করা হয়েছে। একটি ক্যামিও চরিত্রে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় এই ছবিতে চক্ষুদান করেছেন বলাই যায়।

কিছু কিছু জায়গায় দৃশ্যগুলো বেশ দীর্ঘায়িত করার ফলে ছবির গতি শ্লথ হয়েছে, সংলাপ আরও ছোট করা যেত। তবে এই ছবি যে সময়ের কথা বলে, তার গতিও যে ছিল মন্থর! তাই ছবির সঙ্গে খাপ খেয়ে যায় সম্পাদনার সহৃদয় কাঁচি। চলচ্চিত্র হিসেবে নয়, একটা ইতিহাসের সংরক্ষণ হিসেবে এই ছবি তৈরির প্রয়োজনীয়তা ছিল। তাই এমন একটি বিষয় নির্বাচন এবং তা সাফল্যের সঙ্গে উপস্থাপনের জন্যে পরিচালক সৌমিক সেনের সাধুবাদ প্রাপ্য।