magazine_cover_12_April_19.jpg

Anandalok Review

এত স্লো কেন?

কিয়া অ্যান্ড কসমস

Kia-and-Kosmos-big

পরিচালনা: সুদীপ্ত রায়

অভিনয়ে: ঋত্বিকা পাল, জয় সেনগুপ্ত, জ়াহিদ হোসেন

রোজকার সাধারণ পথচলতি চেনা ছকের গণ্ডিতে চলতে-চলতে আচমকাই যদি পথ বেঁকে যায়? যদি হঠাৎই বদলে যায় চেনা চারপাশ, খুব কাছের মানুষই ধরা দেয় অন্যরকম ভাবে? ‘কিয়া অ্যান্ড কসমস’ আসলে সেই বেঁকে যাওয়া পথেরই গল্প শোনাতে চায় দর্শকদের। এ গল্পের কেন্দ্রে আছে এক অটিস্টিক কিশোরী, কিয়া (ঋত্বিকা পাল)। কিয়া শুধু অটিস্টিক নয়, সে একাও বটে। আর একা বলেই পথ চলতে-চলতে সে নিজের মনেই কথা বলে নিজের সঙ্গে, মায়ের চেয়ে তার আরও বেশি কাছের হয়ে ওঠে স্কুলের বন্ধু শৌভিক (জ়াহিদ হোসেন) আর ডায়েরির পাতা। কিয়া অটিস্টিক বটে, কিন্তু আশপাশের মানুষদের থেকে সে বড্ড আলাদা, আরও বেশি করে সংবেদনশীল। তাই যখন সে জানতে পারে তার প্রিয় সঙ্গী বি়ড়াল কসমসকে কে যেন বিষ খাইয়ে মেরে ফেলেছে, তখন সে খুঁজতে চায় কসমসের খুনিকে। কারণ কসমস যে অন্তঃসত্ত্বাও ছিল! প্রচলিত অর্থে সমাজ যাকে ‘স্বাভাবিক’ বলে ভেবে নেয়, সেই স্বাভাবিকতার গণ্ডিতে কিয়া আঁটে না। মা দিয়া তাকে বোঝায়, বেড়ালের খুনিকে খোঁজা নিছক পাগলামিরই সামিল! কিয়া অবশ্য হার মানে না, গোয়েন্দা গল্পের পোকা অটিস্টিক কিশোরী আস্তে-আস্তে খুদে গোয়েন্দা হয়ে ওঠে। বের করে ফেলে কসমসের খুনি আসলে তার মা! পুরনো চিঠি ঘাঁটতে-ঘাঁটতে বের করে ফেলে যে, তার বাবা কবীর (জয় সেনগুপ্ত) আদতে মারাই যাননি!

কিয়ার চরিত্রে ঋত্বিকা পাল অসাধারণ। শরীরী ভাষায়, কথাবার্তা, অভিব্যক্তিতে তিনি এতটাই সাবলীল যে, তাঁর অভিনয়কে আলাদা করে অভিনয় বলে বোঝাই যায় না। বাকি চরিত্রদের শক্তিশালী অভিনয়ের পাশে কিয়ার বাবার চরিত্রে জয় সেনগুপ্তকে যেন বেশিই সাধারণ লাগে।
ছবির দৈর্ঘ্য বেশি হওয়ার কারণে মাঝে-মাঝে একঘেয়েও লাগে। গতিও বেশ ধীর। চোখে পড়ে বেশ কিছু খামতিও। রাতের অন্ধকারে এক অটিস্টিক কিশোরীর পক্ষে কীভাবে রিকশা করে প্রিন্সেপ ঘাট যাওয়া সম্ভব? তাছাড়া কীভাবেই বা সে কলকাতা থেকে ট্রেন ধরে একাই চলে যেতে পারে কালিম্প‌ং? তবে নানা খামতি থাকলেও পরিচালক সুদীপ্ত রায়কে ধন্যবাদ এমন একটা ছবি দর্শককে উপহার দেওয়ার জন্য।

এখন আপনার রিভিউ প্রকাশিত হতে পারে আনন্দলোক-এ। সিনেমা দেখে
চটপট লিখে ফেলুন রিভিউ আর ইমেল করুন

[email protected]