magazine_cover_12_december_19.jpg

Anandalok Review

নিত্যময় জীবনে এক অনিত্য মানুষ!

কেদারা
review-kedara-still

পরিচালনা: ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্ত
অভিনয়: কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়, রুদ্রনীল ঘোষ, বিদীপ্তা চট্টোপাধ্যায়

একটি মানুষ একা, তাঁর সঙ্গী কয়েকটি কণ্ঠ। কোনওটাই তাঁর নিজের নয় আবার নিজেরও! নরসিংহ (কৌশিক) পেশায় একজন হরবোলা। স্বভাবে অত্যন্ত শান্ত, সাত চড়ে রা না কাড়া এক ব্যক্তি। পাড়ায় ছেলেদের দ্বারা প্রতি মূহূর্তে অপমানিত হন। বাড়িতে একা থাকেন। স্ত্রী ছেড়ে চলে গিয়েছেন। তাঁর কণ্ঠ থেকে কখনও বেরোয় মৃত ঠাকুরমার কথা, কখনওবা বিনু মাসির। এভাবেই অতীতযাপন করে চলেন তিনি। বর্তমানে থাবা বসায় অতীত। তাঁর একঘেয়ে জীবনে ব্যতিক্রম আনে এক জমিদারি কেদারা। কেষ্ট (রুদ্রনীল) ভাঙা জিনিস, ফেলে দেওয়া জিনিস বিক্রি করে। একদিন কেষ্ট ভেঙে পড়া জমিদার বাড়ি থেকে নিয়ে আসে এক কেদারা। সেটি কেষ্ট দেয় নরসিংহকে। কেদারায় বসে মেজাজ পরিবর্তন হয়ে যায় শান্ত মানুষটির। অনেক না বলা কথা, অপমানের জবাব দিতে পারেন তিনি। কিন্তু সেখানে হাজির হয় এক বিপদ। সেই বিপদ তাঁকে টেনে নিয়ে যায় এক অপ্রীতিকর ভবিষ্যতের দিকে।

অভিনয়ে কৌশিক বেশ ভাল। অবসাদে ডুবে থাকা মানুষ, মোড়ানো মেরুদণ্ড থেকে সোজা হয়ে দাঁড়ানো মানুষ, প্রতিটি রূপেই তিনি অসাধারণ। নরসিংহের চরিত্রে তিনি ডুবে গিয়েছেন এবং প্রতিটি মুহূর্তে নরসিংহ হয়েই বেঁচেছেন ছবিতে। দর্শককে বাধ্য করেছেন এমন এক মানুষের অস্তিত্বতে বিশ্বাস করতে। হয়তো দর্শকের ব্যস্ত জীবনের আশেপাশে এমন মানুষরাও হেলাফেলায় ছড়িয়ে আছে। কৌশিক তাঁদের খুঁজে দিয়েছেন। রুদ্রনীল একটু হতাশই করেছেন। তাঁর অভিনয়ে কেমন একটা একঘেয়েমি এসে গিয়েছে। ম্যানারিজ়ম না ভাঙতে পারলে যে বৈচিত্রের অভাব হবে, তা এবার বুঝতে হবে তাঁকে। পরিচালক ইন্দ্রদীপ আমাদের নতুন ধরনের এক গল্প উপহার দিতে চেয়েছেন, সেক্ষেত্রে তিনি সফলও। একা মানুষ কীভাবে মানুষ খোঁজে… সেই খোঁজ দিয়েছেন তিনি। কিন্তু বড্ড ধীর লয়ে ছবিটি এগোয়। যা কিনা মাঝে-মাঝে বিরক্তির কারণ সৃষ্টি করে। কিছু অনাবশ্যক দৃশ্য বড় কঠিন করে দেয় ছবিটিকে। নরসিংহকে জটিল করে তোলে। ছবির শেষের দৃশ্যে পরিচালক প্রশ্নের সুতো ছেড়ে যান। মানুষ নিজেকে ত্যাগ করবেন না মেজাজকে? উত্তর দর্শক খুঁজে নেবে।