magazine_cover_12_mayl_19.jpg

Anandalok Review

গড়পড়তা প্রেমের গল্প…

কে তুমি নন্দিনী

পরিচালনা: পথিকৃৎ বসু
অভিনয়: বনি সেনগুপ্ত, রূপসা মুখোপাধ্যায়, সৌরভ দাস, গৌরব চট্টোপাধ্যায়, অপরাজিতা আঢ্য, রুদ্রনীল ঘোষ, সায়নী ঘোষ, সায়ন্তনী গুহঠাকুরতা, শঙ্কর চক্রবর্তী, পুষ্পিতা মুখোপাধ্যায়, সুভদ্রা চক্রবর্তী

একটা মেয়ে একটা ছেলেকে ভালবাসে। ছেলেটাও কি তা হলে মেয়েটাকে ভালবাসে? সেটা অবিশ্যি বোঝা যায় গল্পের এক্কেবারে শেষে। সিনেমার ‘টুইস্ট’ বলতে আপাতত এটুকুই। এবং দু’ ঘণ্টা ১৮ মিনিট ধরে পরিচালক দর্শককে পরদার সামনে বসিয়ে রাখেন শুধুমাত্র এই একটা প্রশ্নের উত্তর জানানোর জন্যই! আজ্ঞে হ্যাঁ, একদম গড়পড়তা প্রেমের সিনেমা বলতে যা বোঝায়, পথিকৃৎ বসুর ‘কে তুমি নন্দিনী’ সেটাই। সেখানে প্রেম আছে, হৃদয় ভাঙা আছে, বন্ধুত্ব আছে, ন্যাকামি আছে, আর এই সব খিচুড়ির মধ্যেই যেন হারিয়ে গিয়েছে গোটা গল্পটাই। গল্পের মূল চরিত্র নন্দিনী (রূপসা মুখোপাধ্যায়)। নন্দিনী বাইক চালায় (স্কুটি নয় কিন্তু), শিস দেয়, সরস্বতী পুজোয় শাড়ি পরে মস্তানদের সঙ্গে একাই টক্কর নিতে যায়। এহেন ডানপিটে নন্দিনীকে তার পুতুলমাসি (অপরাজিতা আঢ্য) একদিন বলে, সে বড় হয়ে গিয়েছে, ফলে তার এখন উচিত ‘মনের মানুষ’ খোঁজা। ব্যস, অমনি নন্দিনী কুর্তি সালোয়ার পরে ‘টমবয়’ থেকে ‘মেয়ে’ হয়ে ওঠে। এমন সময় তার দেখা হয় আবিরের (বনি সেনগুপ্ত) সঙ্গে। পরোপকারী আবিরকে দেখা মাত্রই ধপ করে প্রেমে পড়ে যায় নন্দিনী। কিন্তু আবির? সেটা জানতে হলে সিনেমা দেখা ছাড়া গতি নেই।
‘কে তুমি নন্দিনী’র সবচেয়ে বড় ত্রুটি যে, এই গল্পে কোনও চমক নেই। ফলে দু’ ঘণ্টা ১৮ মিনিটের সিনেমাটি খানিকক্ষণ পরেই ক্লান্তিকর ও একঘেয়ে হয়ে ওঠে। শুধু নন্দিনী-আবিরের প্রেমই নয়, তার মধ্যে আরও নানা চরিত্রকে এনেছেন পরিচালক। সারাজীবন বিয়ে না করা পুতুলমাসিরও যে এক প্রেম ছিল (রুদ্রনীল ঘোষ অভিনীত প্রকাশক স্নেহাশিস), কিংবা রাজা (সৌরভ দাস) ও তার বান্ধবীর প্রেম-পালানো গল্প গুঁজে বিষয়টি অহেতুক বাড়িয়েই গিয়েছেন তিনি। যে-মেয়ে কিছুক্ষম আগেই বলে বিয়ে করবে না, সে পুতুলমাসির পরামর্শে হঠাৎ করেই উঠে-পড়ে ‘মনের মানুষ’ খুঁজতে লেগে যায়। এমনকী তার জন্য পালটে ফেলে নিজেকেও! বেশ কিছু জায়গায় গল্প একরৈখিক ও পুরুষতান্ত্রিক হয়ে পড়ে। আবিরের চরিত্রে বনিকে মাঝে-মাঝে অভিব্যক্তিহীন মনে হলেও নবাগতা রূপসা মুখোপাধ্যায়কে খারাপ লাগে না। ডাক্তার আকাশের চরিত্রে গৌরব চট্টোপাধ্যায় ও বাকি চরিত্রে সৌরভ দাস, সায়নী ঘোষ, সায়ন্তনী গুহঠাকুরতাকেও মানিয়ে যায়। নন্দিনীর বাবা ও মায়ের চরিত্রে শঙ্কর চক্রবর্তী ও পুষ্পিতা মুখোপাধ্যায় যথাযথ। তবে চিত্রনাট্য বেশ দুর্বল, ফলে বেশ কিছু জায়গা অসংলগ্ন। আর একটা-দুটো গান কমিয়ে দিলেই বা কী এমন খারাপ হত!

এখন আপনার রিভিউ প্রকাশিত হতে পারে আনন্দলোক-এ। সিনেমা দেখে
চটপট লিখে ফেলুন রিভিউ আর ইমেল করুন

[email protected]