magazine_cover_12_april_18.jpg

Anandalok Review

দেবের সেরা

কবীর
KABIR-still

পরিচালক: অনিকেত চট্টোপাধ্যায়
অভিনয়: দেব, রুক্মিণি, প্রিয়ঙ্কা সরকার, শতফ ফিগার

দেবের অভিনয় নিয়ে এতদিন যাঁরা সমালোচনা করেছেন, এবার তাঁদের মুখ বন্ধ করার পালা। উচ্চারণ, অভিনয়, ডায়লগ ডেলিভারি–এসব নিয়ে এতদিন কম সমালোচনা সহ্য করেননি দেব! তাঁর নামে হরেকরকম মিম-ও তৈরি হয়েছে| এদিকে নিজের প্রোডাকশন হাউজ খোলার পর, ইন্ডাস্ট্রির অন্য বড় প্রোডাকশন হাউজগুলো এক ইঞ্চি জমিও ছেড়ে দেয়নি! তাও নিজের মতো করে দাঁতে দাঁত চেপে লড়ে যাচ্ছেন দেব| ‘কবীর’-এর হাত ধরে সেই লড়াই সার্থকতা লাভ করল| এই ছবিতে দেব নিজের মুখেই বলেছেন যে বাঙালি হয়েও তাঁর বাঙলা মোটেও ভাল না| কিন্তু বাঙালি হয়ে তিনি যা করে দেখিয়েছেন, তা অনেকেই পারতেন না| পারা তো দূরের কথা! কল্পনাও করতে পারতেন না| নিজের প্রোডাকশন হাউজ থেকে সবসময়ই একটু অন্যরকম কাজ করেছেন দেব| ‘কবীর’ দেখে বলতে হয়, সন্ত্রাসবাদ নিয়ে এরকম সিনেমা বাংলাতে হয়নি| এই ছবি বলিউডকেও কম্পিটিশন দেওয়ার ক্ষমতা রাখে|

ছবির গল্প একটি ট্রেন জার্নির| সেখানে মুখ্য দুই চরিত্র কবীর (দেব) ও ইয়াসমিন খাতুন (রুক্মিণী)| দুরন্ত এক্সপ্রেসে মুম্বই থেকে কলকাতা ফিরছে তারা| সেদিন সাতটা বিস্ফোরণে কেঁপেছে মুম্বই| গল্প এগোতে থাকলে জানা যায় যে কবীর একজন জেহাদি| তার বন্দুকধারী লোকেরা ইয়াসমিনের বাবাকে তাদের বাড়িতে ঘিরে রেখেছে| কিন্তু কেন? ইয়াসমিনের কাছে কী চায় কবীর? ‘ইমতিয়াজ কোথায়’–ইয়াসমিনের মুখ থেকে এটাই জানতে চায় কবীর| কে এই ইমতিয়াজ? কেনই বা কবীর তাকে খুঁজছে? ইয়াসমিনের সঙ্গে তার কী সম্পর্ক? এইসব প্রশ্নের উত্তর বরং প্রেক্ষাগৃহের জন্যই তোলা থাক! গল্পে শেষের দিকে একটা টুইস্ট আছে| লস্কর-ই-তৈবার বোমা বিশেষজ্ঞ আব্দুল করিম টুন্ডা, ইন্ডিয়ান মুজাহিদিন জঙ্গি ইয়াসিন ভটকল, স্পেশাল টাস্ক ফোর্স…অনেককিছুই আছে এই জমজমাট গল্পে| ছবি মুক্তির আগে একটা কথা সকলের মুখেই ঘোরাফেরা করছিল| এরকম সিরিয়াস বিষয়ের সফল উপস্থাপন করতে পারবেন তো পরিচালক? কারণ এর আগে হালকা মেজাজের কমেডি ছবি বানিয়েছেন অনিকেত| তবে এই ছবি দেখে বলতেই হচ্ছে অনিকেতই ‘ক্যাপ্টেন অফ দ্য শিপ’| গোটা ছবিজুড়ে একটা স্মার্টনেস আছে| তার ছাপ ক্লাইম্যাক্সেও রয়েছে| এছাড়া ছবির এডিটিং দুর্দান্ত| এক মিনিটও একঘেয়ে লাগে না| ইন্দ্রদীপ দাসগুপ্তর আবহসংগীতও দারুণ লাগে শুনতে| এবার আসা যাক অভিনয় প্রসঙ্গে| অভিনেতা দেবের এখনও পর্যন্ত এটাই সেরা কাজ| তাঁর ডায়লগ ডেলিভারি থেকে শুরু করে শরীরী ভাষা–এককথায় অনবদ্য| এছাড়া এই ছবির সম্পদ রুক্মিণী| শুধু সুন্দরীই নন, তিনি যে অভিনয়টাও পারেন তা এই ছবিতেই বুঝিয়ে দিয়েছেন| থিয়েটার আর্টিস্ট কৃষ্ণেন্দু দেওয়ানজি ও অর্ণ মুখোপাধ্যায় বেশ ভাল| শতফ ফিগারকেও দারুণ মানিয়েছে| তবে প্রিয়ঙ্কা সরকারের মতো অভিনেত্রী এই চরিত্রটি করতে গেলেন কেন বোঝা গেল না! এছাড়া আরও কিছু ত্রুটিবিচ্যুতি থাকলেও তা এড়িয়ে যাওয়াই যায়| এরকম ছবি করার সাহস দেখানোর জন্য দেব ও অনিকেতকে ফুল মার্কস দেওয়া যেতেই পারে| রিসার্চ ওয়র্ক থেকে ছবির প্রোমোশন…দেব যে এই ছবি নিয়ে প্রচুর খেটেছেন তা প্রমাণিত| সবমিলিয়ে কবীর বাংলা ছবির ইতিহাসে এক উল্লেখযোগ্য কাজ হিসেবে থেকে যাবে| টিম কবীর-কে হ্যাটস অফ!

এখন আপনার রিভিউ প্রকাশিত হতে পারে আনন্দলোক-এ। সিনেমা দেখে
চটপট লিখে ফেলুন রিভিউ আর ইমেল করুন

[email protected]