magazine_cover_12_november_19_00.jpg

Anandalok Review

উলটো পথে…

কবীর সিংহ
Kabir-Singh-still

পরিচালনা: সন্দীপ রেড্ডি ভঙ্গা
অভিনয়: শাহিদ কপূর, কিয়ারা আডবানি, অর্জন বাজওয়া, সোহম মজুমদার, সুরেশ ওবেরয়, কামিনী কৌশল

গ্লাস ভেঙে ফেলার ‘অপরাধে’ পরিচারিকার পিছনে ছুটছে কবীর সিংহ, কিংবা উলটোদিকের মেয়েটির অনুমতি ছাড়াই চুমু খেয়ে নিচ্ছে তার গালে, উত্তেজিত দর্শক ফেটে পড়ছে হাততালিতে! আজ্ঞে হ্যাঁ, এইটুকু যদি আপনি দেখেন, তা হলে নিঃসন্দেহে বলে দিতে পারেন যে সন্দীপ রেড্ডি ভঙ্গার নতুন সিনেমা ‘কবীর সিংহ’ দর্শকদের ভাল লেগেছে। হাততালি, দর্শকের উত্তেজনা একটা সিনেমা হিট হবে না ফ্লপ, দর্শক তাকে কীভাবে গ্রহণ করছে, সেসব ঠিক করে দিতে পারে বটে। কিন্তু তাতে ‘কবীর সিংহ’ কি সত্যিই ‘ভাল’ সিনেমার তকমা পেতে পারে? একটা ছেলে, সে ডাক্তারি পড়ে, মেডিকেল কলেজের টপার, সাংঘাতিক ব্রিলিয়ান্ট ছাত্র। ডাক্তারি পড়তে আসা নতুন ছাত্রদের কাছে তাকে উদাহরণ হিসেবে খাড়া করেন কলেজের ডিন। কিন্তু কিছুক্ষণ পরেই বোঝা যায়, ডাক্তারির ভাল ছাত্র হলেও সিরিয়াস সমস্যা আছে কবীরের (শাহিদ কপূর)। রাগ সামলানো, ডাক্তারি পরিভাষায় যাকে বলে ‘অ্যাঙ্গার ম্যানেজমেন্ট’, তাতে সে অপারগ! আর এই সমস্যার দোহাই দিয়েই এরপর প্রায় পৌনে তিন ঘণ্টা জুড়ে পরদায় ‘তাণ্ডব’ দেখিয়ে চলে সে। দিল্লির নামী কলেজে ডাক্তারি পড়তে আসা প্রথম বর্ষের ছাত্রী প্রীতি সিক্কাকে (কিয়ারা আডবানি) একঝলক দেখেই প্রেমে পড়ে যায় কবীর। ব্যস, তারপর গোটা কলেজ জুড়ে বলতে শুরু করে ‘ইয়ে মেরি বন্দি হ্যায়’। গার্লস হস্টেলে গিয়ে প্রীতিকে সকলের সামনে চুমু খাওয়া থেকে শুরু করে হোলির দিন প্রীতিকে রং মাখানোর জন্য অন্য কলেজের ছাত্রদের মেরে আসা, আপাতভাবে এই কবীরকে ‘কুল’ মনে হলেও তার ওই ‘কুলনেস’-এর মধ্যেই লুকিয়ে আছে এ সিনেমার সবচেয়ে বড় ভুল। তার পুরুষতান্ত্রিকতা। নিজের দীর্ঘদিনের প্রেমিকাকে বিয়ে করতে না পেরে মদ-গাঁজা খেয়ে নেশা করতে শুরু করে কবীর। মজার ব্যাপার, সেই প্রেম যখন শুরু হয়, তখন কবীরকে একবারও মেয়েটির সম্মতি নিতে দেখা যায় না। শুরুর দিকে কবীর-প্রীতির প্রেমে প্রীতি শুধুই নীরব দর্শক, ফলে অনায়াসে তাকে নিজের সম্পত্তি বলে ঘোষণা করে কবীর আস্ফালন করতে পারে নিজের ‘বন্দি’ বলে। এমনকী, কবীরকে কিছু বলতেও ভয় পায় সে, তাকে অনুমতি নিতে হয় ‘তুমি রাগ করবে না…’ বলে! এ সিনেমায় রেগে গেলেই শুধু সাতখুন মাফ। তখন পার্টনারের গায়ে অনায়াসে হাতও তোলা যায়, দর্শকের হাততালি আদায় করা যায় ‘অ্যাঙ্গার ম্যানেজমেন্ট’-এর দোহাই দিয়ে! ২০১৯ সালে জাতপাত নিয়ে প্রশ্ন তোলেন পরিচালক, কিন্তু সেই একই পরিচালক গুলিয়ে ফেলেন যে, ২০১৯ সালে পুরুষতন্ত্রের দাদাগিরি, গোঁজামিল চলে না, চলতে পারে না!
কবীর সিংহের নামভূমিকায় শাহিদ কপূর অভিনয়টা মন্দ করেননি। এ ধরনের একটি চরিত্রকে পরদায় ফুটিয়ে তুলতে যথেষ্ট বেগ পেতে হয়। তবে বেশ কিছু জায়গায় তাঁর অভিনয়ে অতিনাটকীয়তা লক্ষ্যণীয়। প্রীতির চরিত্রে কিয়ারা আডবানির বিশেষ কিছুই করার ছিল না। তবে শেষের দিকে তিনি তাও কিছুটা সুযোগ পেয়েছেন। ইমোশনাল জায়গায় খানিক দুর্বল লাগলেও তাঁকে খারাপ লাগে না। কবীরের দাদার চরিত্রে অর্জন বাজওয়াকে বেশ ভাল লাগে। কবীরের বন্ধু শিবার চরিত্রে সোহম মজুমদারও যথাযথ। মন্দ লাগে না ছবির গানগুলিও। তবে এই সিনেমাটি বানানোর জন্য পরিচালক এত কষ্ট করলেন কেন বোঝা গেল না! কারণ মূল তেলুগু ছবি ‘অর্জুন রেড্ডি’র প্রায় হুবহু কপি করেছেন তিনি। ফলে সর্বভারতীয় দর্শকের কাছে পৌঁছতে চাইলে হিন্দি ডাবিংয়ের মাধ্যমেও সেটা করতে পারতেন! শেষে বলার, একবিংশ শতকে দাঁড়িয়ে এমন ‘রিগ্রেসিভ’, ‘পুরুষতান্ত্রিক’ ছবি বলিউডে বানানোটা কি খুব দরকার ছিল?