magazine_cover_27_november_17_02.jpg

Anandalok Review

ভিলেন বাজেট

যকের ধন
joker-dhon-still

অভিনয়: সব্যসাচী চক্রবর্তী, পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়, কৌশিক সেন, রাহুল, প্রিয়ঙ্কা সরকার
পরিচালনা: সায়ন্তন ঘোষাল
……

প্রথমেই সাধুবাদ পরিচালককে। নিজের প্রথম ছবিতেই সাহস করে হেমেন্দ্রকুমার রায়ের ‘যকের ধন’-কে আধুনিক সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে নিজের মতো করে রূপ দেওয়ার জন্য। বলতে বাধা নেই, এই ছবিতে মূল সাহিত্য থেকে অনেকটা বেরিয়ে এসেছেন পরিচালক। স্মার্টফোন আছে, ডিমনিটাইজ়েশন আছে, তুখোড় বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে হেঁয়ালির সমাধান আছে কিন্তু তাতে মূল গল্পের কখনও রসভঙ্গ হয়নি। গল্পটা ছোট করে বলতে গেলে, কুমার (রাহুল) হঠাৎ করে উত্তরাধিকারসূত্রে তার বড় ঠাকুরদার কাছ থেকে একটি বাক্স পায়। তার মধ্যে একটি তিব্বতি খুলি, মাথায় বাংলা সংখ্যা বসানো। গবেষক বন্ধু বিমলের (পরমব্রত) সাহায্য নেয় সে। অন্যদিকে করালি (সব্যসাচী) নামে এক ভদ্রলোক শুরু করেন আরও বহুপ্রাচীন কিছু হরফের রহস্যভেদ। এই দুইয়ের মধ্যে কি কোনও যোগসূত্র আছে? খুব ছোট পরিসরে বেশ সুন্দর একটি স্ক্রিপ্ট লিখেছেন সায়ন্তন। বিশেষ করে যেভাবে অক্ষাংশ, দ্রাঘিমাংশের রহস্য ভেদ করা হয়, তা দেখতে ভাল লাগে। সকলের অভিনয়ই বেশ ভাল। তা সে পরমব্রতই হোন, রাহুল বা সব্যসাচী। কৌশিক সেনের কথা আলাদা করে বলতে হয়। তাঁর সারল্যমিশ্রিত বুদ্ধি মনকাড়া। কিন্তু কিডন্যাপড হওয়ার পরও তাঁর চোখেমুখে তেমন টেনশন ধরা পড়ে না কেন? নেওড়া ভ্যালির প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে বেশ মুন্সিয়ানার সঙ্গেই গল্পে মিশিয়েছেন পরিচালক। তা-ও কিছু খারাপ লাগা… ক্লাইম্যাক্সের দৃশ্যে যেভাবে মন্দির ভেঙে পড়া দেখিয়েছেন পরিচালক, তাতে বাজেটের কমতি খুব বেশি করে চোখে পড়ে। এরকম একটা ছবির প্রয়োগের জন্য বাজেট যে কতটা দরকারি, সেটা বেশ বোঝা যাচ্ছিল। পরিচালক স্রেফ ক্যামেরা কাঁপিয়ে একটা অসাধ্যসাধনের চেষ্টা করেছেন। ছবিতে সত্যজিৎ, সুকুমারের রেফারেন্সের ছ়ড়াছড়ি। সেখােন প্রিয়ঙ্কার মাধ্যমে ‘শোলে’র বাসন্তীর রেফারেন্স টানা ছবির গভীরতাকে আঘাত করেছে। ‘যকের ধন’ মোটেই সর্বাঙ্গসুন্দর ছবি নয়, কিন্তু পরিচালক যে তা-ও একটা দুর্দান্ত চেষ্টা চালিয়েছেন, তার জন্য ধন্যবাদ।