magazine_cover_27_july_17_a.jpg

Anandalok Review

মহারাজা, তোমাকে সেলাম

জগ্গা জাসুস
Jagga-Jasoos-still

অভিনয়: রণবীর কপূর, শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়, ক্যাটরিনা কাইফ, সৌরভ শুক্ল, রজতাভ দত্ত
পরিচালনা: অনুরাগ বসু
……

ক্রাইম থ্রিলার, কমেডি, যুদ্ধবিরোধী ছবি, ডিজ়নি-স্টাইল মিউজ়িক্যাল, নস্ট্যালজিক, ‘ট্রিবিউট’… এ ছবিকে কোনও একটি জঁরে বেঁধে ফেলার চেষ্টা অপ্রতুলই হবে এবং তা উচিতও না। বোকামি বললেই ভাল হয়। কারণটি খুব সহজ। পরিচালক অনুরাগ বসু জঁর-ধর্মী দেখনদারিতে বিশ্বাস করে এ ছবি তৈরিই করেননি। ফলে ছবিটি সোজা বুকে গিয়ে লাগে। আর বলতে বাধা নেই, এ ছবি বাঙালির জন্য অবশ্য-দ্রষ্টব্য। ছবির সমালোচনায় স্পয়লার দেওয়া ঠিক নয়, জানি। কিন্তু আগে-ভাগেই বলে রাখলাম, কিছু স্পয়লার দিতে বাধ্য হচ্ছি। মনে বড্ড বেশি আবেগ জমে আছে। গোড়ার কথায় আসি। ছোটদের জনপ্রিয় গল্প-সিরিজ়ের মুখ্য চরিত্র জগ্গা কি আসল? এই প্রশ্ন থেকেই ছবিতে জগ্গার কাহিনি বলা শুরু হচ্ছে। ও হো না! তার আগেই বিশেষত বাঙালি দর্শককে ছবির সঙ্গে বেঁধে ফেলে পুরুলিয়া অস্ত্রবর্ষণ। একটি চরিত্রের ভুলে কীভাবে অস্ত্র-বর্ষণকারী প্লেন ভুল জায়গায় অস্ত্র ফেলে যায়… সে গল্প বলা হয়েছে। যাক গে। ডুয়ার্সের ময়নাগুড়িতে থাকে একটি অত্যন্ত মিষ্টি ছেলে, জগ্গা। সে তোতলা, ফলে কথাই বলে না। একদিন তার জীবনে আসে ‘টুটিফুটি’ (শাশ্বত)। জগ্গাকে শেখায়, গান গেয়ে কথা বললে তার জিভের জড়তা আর কোনও সমস্যাই হবে না। সে-ই হয়ে ওঠে জগ্গার বাবা। তারপর একদিন পুলিশ খুঁজতে শুরু করে টুটিফুটিকে। জগ্গাকে উখরুলের একটি স্কুলে রেখে টুটিফুটি নিরুদ্দেশ হয়। তারপর? স্কুলে পড়তে-পড়তেই জগ্গা (রণবীর) হয়ে ওঠে গোয়েন্দা। Jagga-Jasoos-still2 কঠিন সব রহস্যর কিনারা করে। এরপর… জগ্গার জীবনে টুটিফুটির কার্বন কপি শ্রুতি (ক্যাটরিনা) এসে উপস্থিত হয়। দু’জনে মিলে কিনারা করে একটি বিরাট অস্ত্র-চোরাচালানকারী চক্রের। সেই একই কিনারার খোঁজে তারা বের করে ‘টুটিফুটি’কেও। সুন্দর সোজা গল্প তরতরিয়ে এগিয়েছে, মণিপুর থেকে বাংলা থেকে মোম্বাকা, ছুটে বেরিয়েছে ক্যানভাস। গানের সুরে, অপেরার স্টাইলে ছবি এগিয়ে গিয়েছে। ইতিহাস নিয়ে খেলা হয়েছে, তোলা হয়েছে জরুরি অনেক প্রশ্নও। পেট ফাটিয়ে, মন খুলে হাসা গিয়েছে। তবে শুধুমাত্র বাঙালি দর্শকের কাছে যা সবচেয়ে কাছের, তা হল সত্যজিৎ রায় নামক নস্ট্যালজিয়া (মোম্বাকার হোটেলের নাম ‘আগাপাস্তলা’, সে কথা তো ছেড়েই দিলাম।)। জগ্গা ফেলুদা পড়ে আর এ ছবির ছত্রে-ছত্রে রয়েছে ‘গুগাবাবা’। সত্যিই তো, যুদ্ধবিরোধী ছবি হলে ‘গুপি গাইন…’-এর চেয়ে ভাল মডেল কই? তাই জগ্গা-শ্রুতি যাচ্ছে শুন্ডিতে, ব্যাকগ্রাউন্ডে বেজে উঠছে চেনা সুর, ট্রেনের কামরায় ঢুকে পড়ে সম্মুখীন হচ্ছে বাঘের। অস্ত্র বিজ্ঞাপনের সময় ‘হাল্লা চলেছে যুদ্ধে’র সিকোয়েন্স যেমন স্পষ্ট, তেমনই দুর্দান্ত হল শেষে অস্ত্রর বদলে আকাশপথে কেক-মিষ্টি পড়ার দৃশ্য। যথেষ্ট বলা হল কি? হয়নি। কারণ রণবীর কপূরের অভিনয়ের কথা না বললে কিছুই বলা হয় না। কথা না বলতে পারার অসহায়তা এবং কষ্ট থেকে শুরু করে সরল চোখে বুদ্ধির ঝলক… প্রতিটি দৃশ্যে রণবীর অসাধারণ। সমানে-সমানে পাল্লা দিয়েছেন শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়। নেগেটিভ চরিত্রে সৌরভ শুক্ল দুর্দান্ত। রজতাভও মন জয় করে নেন। ক্যাটরিনাকে খুব সুন্দর দেখাচ্ছে। এছাড়া খুব বেশি বলার নেই। রবি বর্মার ক্যামেরার কাজ, অমিতাভ ভট্টাচার্যর কথা, প্রিতমের সঙ্গীত, শামক দভরের কোরিয়োগ্রাফি… কোনটি ছেড়ে কোনটির অসাধারণত্বর কথা বলব! ছবিটি একটু লম্বা, ফার্স্ট হাফে কিছুটা ধীর। কিছু-কিচু জাম্প কাট একটু চোখে লাগে। সেসব থাক। ‘জগ্গা জাসুস’-এ চেষ্টার আন্তরিকতার জন্য পরিচালককে সেলাম না জানিয়ে পারা যাচ্ছে না।