magazine_cover_12_october_17.jpg

 

Home review detail চেনা রাস্তার সফর

চেনা রাস্তার সফর

জব হ্যারি মেট সেজল
Jab-Harry-met-Sejal-big

অভিনয়: শাহরুখ খান, অনুষ্কা শর্মা প্রমুখ
পরিচালনা: ইমতিয়াজ় আলি
……

ইমতিয়াজ় আলির ছবি মানেই নন-লিনিয়ার স্টোরি টেলিং, সুফি-প্রেম এবং শিকড়ের খোঁজ। নন-লিনিয়ার ন্যারেটিভ ছাড়া বাকি দু’টি উপকরণই মজুত ‘জব হ্যারি মেট সেজল’ ছবিতে। তবে কেন্দ্রীয় চরিত্র শাহরুখ খান এবং গল্পের জঁর প্রেম হলে যে তাতে ‘শাহরুখিজ়ম’ ভরপুর থাকবে, তা তো জানা কথা। হরিন্দর নেহরা ওরফে হ্যারি (শাহরুখ), ইউরোপের টুর গাইড, যে মহিলাঘটিত সমস্যায় জর্জরিত। নিজের ক্লায়েন্টদের সঙ্গে প্রায়শই জড়িয়ে পড়ে এবং চাকরি হারায়। কিছু ফ্ল্যামবয়েন্স বাদ দিলে খুব একটা ভাল লাগার মতো চরিত্র একেবারেই নয়। অন্যদিকে সেজল জ়াভেরি (অনুষ্কা), বিত্তশালী হিরে ব্যবসায়ীর নাক উঁচু মেয়ে, যে কিনা ‘সুইট এবং সিস্টার টাইপ’! বোকাসোকা মেয়ে, গুজরাতি অ্যাকসেন্টে ইংরেজি বলে, দুনিয়াদারি জানে না, নিজেকে ‘সেক্সি’ প্রমাণ করতে মরিয়া এবং পয়সা চেনে (স্বাভাবিকভাবেই!)। এনগেজমেন্ট রিং খুঁজতে সে একরকম জবরদস্তি জাঁকিয়েই বসে হ্যারির জীবনে। এরপর কী হয়, সেটা না বলাই ভাল। তবে না বললেও, গল্পের ভবিতব্য প্রথমার্ধ থেকেই দর্শক বুঝতে পারবেন। এতটাই চেনা রাস্তায় হাঁটে স্ক্রিপ্ট। প্রথমার্ধে ছবিটি রোম্যান্টিক কমেডি, যাতে বেশ সিচুয়েশনাল হাস্যরস এবং ভাল সংলাপ রয়েছে। রয়েছে কিছু মন ভাল করে দেওয়া প্রেমের দৃশ্য। ইমতিয়াজ় আলির ঘরানার ভিন্নধর্মী রোম্যান্স এবং শাহরুখের রোম্যান্স একসঙ্গে মিশলে যে ধরনের প্রেমের দৃশ্য হওয়া উচিত, ঠিক তেমনই। গোলমাল বাধে দ্বিতীয়ার্ধে। শাহরুখকে নিয়ে ছবি করছেন বলেই কি ইমতিয়াজ় আলি হঠাৎ করে ঠুসে-ঠুসে বলিউড মশলা গুঁজলেন? হঠাৎ করে একটি বিয়ের সিচুয়েশন তৈরি, সেখান থেকে অদ্ভুতভাবে দু’জনের প্রেমের উপলব্ধি, চিরাচরিত এয়ারপোর্ট ড্রামা… কী দরকার ছিল! চেনা গল্পকে বেশ তো স্মার্ট মেকিং দিয়ে ঢাকছিলেন! হিন্দি-পঞ্জাবি মেশানো গান ছাড়া এনআরআই টার্গেট অডিয়েন্সকে কি ছোঁয়া যায় না? এ ছবিতে আরও কয়েক প্যাকেট ইমতিয়াজ় আলি রয়েছে। হ্যারিও ‘তমাশা’র ‘বেদ’ বা ‘লভ আজ কল’-এর ‘জয়’-এর মতো শিকড় খোঁজে। সমাজের মূলস্রোতে ঢুকতে জোর করে এমন কাজ করে, যা জীবনবোধ থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। অন্যদিকে সেজল অপাপবিদ্ধ, একরকম তার রক্ষণাবেক্ষণই (পড়ুন বেবি সিটিং) করতে হয় হ্যারিকে। তথাকথিত ‘ভাল মেয়ে’র (এখনও আমাদের সমাজে একটু বোকাসোকা, শরীর নিয়ে ছুঁৎমার্গ থাকা মহিলাদেরই ‘ভাল’ বলা হয় কিনা!) বেপরোয়া হয়ে ওঠার আপ্রাণ চেষ্টা তার প্রতিটা আচরণে। একটি আদ্যন্ত রম-কম দ্বিতীয়ার্ধে হয়ে যায় প্যাচপেচে প্রেম বা বলা ভাল রোম্যান্স-ওভারডোজ়। ফলে মাঝেমধ্যে অ্যান্টাসিডের প্রয়োজন বোধ হয়। জমেনি ক্লাইম্যাক্সটিও। শাহরুখ এবং অনুষ্কার অভিনয় এ ছবির প্রাপ্তি। তবে দু’টি চরিত্রকে ঘাড় ধরে গুজরাতি এবং পঞ্জাবি বানানোর চেষ্টাটা বড্ড চোখে লাগে। মোটের উপর ছবিটি বিনোদন দিতে সক্ষম হলেও, না শাহরুখোচিত রোম্যান্স হয়ে উঠতে পেরেছে, না ইমতিয়াজ় আলির ভিন্নধর্মী অস্থিরতার চিত্র তুলে ধরতে পেরেছে।

পুনশ্চ: বঙ্গভাষী বিদেশী গুন্ডার বাংলা-বাংলা ইংরেজি এবং পঞ্জাবি পরে কিডন্যাপ করতে যাওয়ার ব্যাপারটাও বেশ ‘পুদিন হরা’ টাইপ হয়ে গেল (#প্রাদেশিকতা-অ্যালার্ট!)। ইমতিয়াজ় আলি যেখানে চরিত্রায়ণের সূক্ষ্মতার জন্য বিখ্যাত, সেখানে এমন মোটা দাগের স্টিরিয়োটাইপ সত্যিই গ্রহণযোগ্য নয়।