magazine_cover_12_may_18_3.jpg

 

Home review detail প্রতিহিংসার আর এক রূপ

প্রতিহিংসার আর এক রূপ

হেট স্টোরি ৪

অভিনয়: ঊর্বশী রৌতেলা, করণ ওয়াহী, বিবান ভতেনা, ইহানা ধিলোঁ, গুলশন গ্রোভর
পরিচালনা: বিশাল পাণ্ডে
……

‘This is not a love story, it’s a hate story and the game has just began’… ট্রেলরেই এই ধরনের সংলাপের ব্যবহারে বোঝা যায় সিনেমাটি কোনওভাবেই প্রেম-ভালবাসার ছবি নয়, বরং প্রতিহিংসা, লোভ ,ঘৃণা ইত্যাদি হয়ে উঠবে আলোচনার কেন্দ্রীয় বিষয়বস্তু। ছবির নামও তো তেমনটাই। কিন্তু এক্ষেত্রে প্রতিহিংসার প্রয়োগ অত্যধিক বেশি পরিমাণেই যেন প্রকাশিত।

কাহিনির শুরুতেই খুনের দৃশ্য! বুঝে নিতে অসুবিধা হয় না যে কাহিনির গতিধারা ঠিক কোন পথে এগোবে। বলার অপেক্ষা রাখে না, ঘটনা-পরম্পরায় শরীরী আকর্ষণ বিষয়টিই কেন্দ্রীয় হয়ে উঠেছে। কিন্তু সমস্যা এই যে পাঠককে কেবলই সুড়সুড়ি দেওয়ার তাগিদে, কাহিনিটিই পিছনে সরে যায়, হয়ে ওঠে অনেক বেশি স্থূল। তাশা (ঊর্বশী) একজন বার ডান্সার, সুপারস্টার হওয়ার স্বপ্ন সে দেখে। তার স্বপ্নপূরণের মাধ্যম হয়ে ওঠে লন্ডনের বিখ্যাত খুরানা পরিবারের ছোট ছেলে রাজবীর (করণ)। করণ একজন প্রফেশনাল ফোটোগ্রাফারও বটে। একদিকে রাজবীর যেমন তাশার রূপ, সৌন্দর্য এবং শরীরী আকর্ষণে মুগ্ধ, ঠিক তেমনই রাজবীরের দাদা আরইয়ান (বিবান) তাশাকে ভোগ করতে চায়। সিনেমার প্রথম অংশ জুড়ে এই স্থূল ইচ্ছে অত্যন্ত স্পষ্ট ভাবেই দেখানো হয়েছে। তাশার ছবি দেখার পর থেকে আরইয়ানের এই যৌনইচ্ছা সিনেমাতে স্পষ্ট। ঘটনাচক্রে এইপ্রকার সম্পর্কের কথা আরইয়ানের বাগদত্তা রেশমার (ইহানা) কানে পৌঁছয় এবং সম্পর্কের জটিলতা ও প্রতিহিংসার কারণে আরইয়ানের হাতে রেশমা খুন হয়। সিনেমার প্রথম অংশ এই চেনা গতিতে এগোলেও, দ্বিতীয় অংশ থেকে রয়েছে কাহিনির প্লট পরিবর্তন, নানা মোচড়। পূর্বকৃত ঘটনা-পরম্পরা কীভাবে কাহিনির প্রতিটি চরিত্রকে কাহিনির দ্বিতীয় অংশ জুড়ে নিয়ন্ত্রণ করে যাবে, সেটিই এক্ষেত্রে দেখার বিষয়। শেষ দৃশ্যেও রয়েছে অপ্রত্যাশিত চমক।

বিশাল পাণ্ডে পরিচালিত ‘হেট স্টোরি ৪’–এ রয়েছে অনেকগুলি বিষয়… খ্যাতি, লাইমলাইটে থাকার লড়াই, লোভ, শরীরী আকর্ষণ, প্রতিহিংসা, সর্বোপরি রয়েছে একধরণের সামাজিক সমস্যা। সবমিলিয়ে সিনেমাটি অন্যরকম হতে পারত। কিন্তু মূল অংশে অত্যধিক পরিমাণে এরোটিক সংলাপ, ইন্দ্রিয়লিপ্সা-র প্রয়োগ, এরোটিক গান-চুম্বন দৃশ্যের বাহুল্য কোথাও না কোথাও মূল প্লট থেকে দর্শককে নিয়ে যায় অনেক দূরে। সিনেমার প্রথম অংশের অনেক দৃশ্যই বোধহয় রুচিহীনতার মাপকাঠিকে অতিক্রম করে যায়। তবে দ্বিতীয় অংশে মোটামুটিভাবে কাহিনির নির্যাস খুঁজে পাওয়া যায়।
এত বিপুল পরিমাণ সেনশুয়াল বিষয়ের কি আদতে কোনও প্রয়োজন ছিল? ক্যামেরায় নায়িকাদের দেহ-বিভঙ্গকে বারবার অত্যন্ত স্থূলভাবেই দেখানো হয়েছে। যার কারণে ছবির মূল কথাটি দর্শক মনে পৌঁছলই না!