magazine_cover_12_november_18.jpg

Anandalok Review

নস্ট্যালজিক ‘হামি’!

হামি
hami-still

পরিচালক: শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়, নন্দিতা রায়
অভিনয়: ব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, তিয়াশা পাল, অভিরাজ, শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়, গার্গী রায়চৌধুরী, চূর্ণী গঙ্গোপাধ্যায়, খরাজ মুখোপাধ্যায়, কনীনিকা বন্দ্যোপাধ্যায়

ধন্যবাদ জানাই, শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় এবং নন্দিতা রায়কে, এমন একটি অস্থির সময়ে ‘হামি’ উপহার দেওয়ার জন্য। এমন একটি সময়, যেখানে সন্তানের বাবা-মা, শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সম্পর্ক ক্রমাগত প্রশ্ন উঠছে। কথা হচ্ছে, সেফটি সার্কল, দুষ্টু লোক, অভিভাবকত্বের কাউন্সেলিং নিয়ে। আসলে এই ছবি যতটা না ভুটু এবং চিনির নিষ্পাপ বন্ধুত্ব এবং বিচ্ছেদের গল্প, তার চেয়েও বেশি ভুটু-চিনির বাবা-মা লাল্টু-মিতালি এবং সৃঞ্জয়-রিনার গল্প। প্রশ্ন একটাই, ছেলে-মেয়ের নিরাপত্তা রক্ষা করতে গিয়ে তাঁরা ওভার প্রোটেক্টেড হয়ে যাচ্ছেন না কি?

hami-still2

খুব সহজ-সরল ভঙ্গিতে সমাজে ঘটে যাওয়া কিছু ঘটনাকে প্রকাশ করেন শিবপ্রসাদ-নন্দিতা। ‘হামি’-তেও তার ব্যতিক্রম নেই। হামি এবং চুমুর মধ্যের পার্থক্যটা বোঝানোর মাধ্যমে পরিচালকদ্বয় তাঁদের মূল বক্তব্যটুকু বলে ফেলেছেন। ‘দুষ্টু’ লোক চাচাজানের গল্প, ছেলের হাতে বাবা-মায়ের স্মার্টফোন তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত, স্কুলে সিসিটিভি বসানোর যৌক্তিকতা বা সন্তানের প্রতি বাবা মায়ের ব্যবহার, ‘নিষিদ্ধ’ প্রশ্নের উত্তর … বলতে গেলে, দর্শকমন জয় করার যা –যা উপাদান থাকা দরকার, তার সব এখানে আছে। শিবু-নন্দিতা ‘রামধনু’ ছবিতে শিশুদের স্কুলে ভর্তি করার সমস্যার গল্প বলেছিলেন। ‘হামি’ তার পরের গল্পটা বলে। অবশ্য সিকোয়েল হিসেবে নয়। তবে লাল্টু-মিতালি চরিত্র ফিরে এসেছে, জনপ্রিয়তার কথা মাথায় রেখে। আর বলতে বাধা নেই, তাতে লাভ হয়েছে বেশ। এই ছবিতে লাল্টুর চরিত্রে দুর্দান্ত অভিনয় করেছেন শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। এই ছবির সম্পদ তিনি। তাঁর সঙ্গে ‘মিতালি’ হিসেবে গার্গীর অভিনয়ও বেশ মানানসই। ভাল লেগেছে কনিনীকা, চূর্ণী বা খরাজ, এমনকী, তনুশ্রীশঙ্করকেও। তবে আলাদা করে বলতে হয়, অপরাজিতা আঢ্যর কথা। স্কুল শিক্ষিকা হিসেবে অপরাজিতা এখানে বেশ অন্যরকম। আর খুদে শিল্পীরা তো প্রশংসার দাবি রাখেনই। ‘চিনি’ হিসেবে তিয়াশা, ‘অজাতশত্রু’ অভিরাজ বেশ সাবলীল। ‘ভুটু’ হিসেবে ব্রতও ভাল। স্মার্ট। কিন্তু হালকা অতি অভিনয়ের শিকার। তবে খারাপ লাগে না। ‘হামি’র গানগুলো ছবির সঙ্গে পরতে পরতে মিশে গিয়েছে। ফলে একটা মোহমায়ার সৃষ্টি হয়। কিন্তু প্রশ্ন জাগে, শিবু-নন্দিতা এমন সংবেদনশীল কিছু বিষয়কে ছবির মাধ্যমে তুলে ধরতে গিয়ে, চিত্রনাট্যের দিকে একটু খেয়াল রাখলেন না কেন। ছবির শেষে মিতালি কি না ঝগড়া করতে গিয়ে তুই-তোকারি করলেন? এত নিচু সামাজিক অবস্থান তো তাঁর দেখানো হয়নি! ফলে যা হয়, একটু আরোপিত লেগেছে। আরোপিত লেগেছে কিছু বার্তাও। ভাল লাগত, শিক্ষক এবং অভিভাবকদের মিটিংয়ের জায়গাটা আর একটু বিস্তারিত হলে। কেমন যেন খাপে খাপ গোছের হয়ে গেল বলে মনে হল। ফলে একটু অন্য রকম ট্রিটমেন্ট আমরা আশা করতেই পারতাম। আর একটু ছোটও হতে পারত ছবিটি। তবে হ্যাঁ, এ সবই সমালোচনার খাতিরে। কারণ এটা স্বীকার করতেই হয়, শিবু-নন্দিতা যে সততা এবং পরিস্থিতি থেকে ছবিটির জন্ম দিয়েছেন, তা অত্যন্ত দরকার ছিল। এই সময়ে ‘চুমু’ এবং ‘হামি’র পার্থক্য বোঝাটা যে বড্ড জরুরি… সকলের।