magazine_cover_12_october_19.jpg

Anandalok Review

সবার উপর মানুষ সত্য…

গোত্র
gotro-still

পরিচালনা: নন্দিতা রায়-শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়
অভিনয়: অনসূয়া মজুমদার, নাইজেল আক্কারা, মানালি দে

শিবপ্রসাদ-নন্দিতার জুটি বরাবরই আজ-কাল-পরশুর সমস্যা নিয়ে কাজ করতে ভালবাসেন। তাঁদের ছবিতে কখনও চাকুরীজীবী বাবা-মায়ের সন্তান প্রতিপালনের সমস্যা কখনও বা শিশুর উপর হওয়া যৌন নির্যাতনের ঘটনা উঠে এসেছে। এখানেও উঠে এসেছে ধর্মের প্রশ্ন, মানবতার প্রশ্ন। ছবিটি দাঁড়িয়ে আছে দুটি বিষয়ের উপর। এক, হিন্দু-মুসলিম সম্পর্ক আর দুই, একাকী বৃদ্ধার বিশাল বাড়ির দিকে প্রোমোটারের লোলুপ দৃষ্টি। আজকের দিনে এই দুই সমস্যাই অপদেবতার মতো আমাদের জীবনে চেপে বসেছে। মুক্তিদেবী (অনসূয়া) বাগানঘেরা বাড়িতে একা থাকেন। একমাত্র ছেলে বিদেশে। ছেলে মায়ের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত অথচ মা কোনও কেয়ারটেকারও রাখতে দেবেন না। অবশেষে ছেলে তাঁর পুলিশ বন্ধুর সহায়তায় ন বছরের জেল খাটা আসামী তারেক আলিকে (নাইজেল) বাড়িতে রাখেন। কিন্তু মায়ের ভয়ে তারেক হয়ে যায় ‘তারক’। বাড়িতে তারক আর মুক্তিদেবী ছাড়া আছে ঝুমা( মানালি)। তবে সে থাকে না। যাতায়াত করে। আস্তে-আস্তে তারক আর মুক্তিদেবীর মধ্যে সেই সম্পর্ক গড়ে ওঠে, যা কিনা শাশ্বত, পবিত্র। তারক ‘মা’ সম্বোধন করেন মুক্তিদেবীকে। মুক্তিদেবী তারকের আসল পরিচয় জেনেও কাছে টেনে নেন। জেলখাটা আসামী তারকই তাঁকে রক্ষা করে প্রোমোটারের হাত থেকে। অভিনয়ে অনসূয়া, নাইজেল আর মানালি তুলনাহীন। তাঁরা তিনজন চরিত্রের সঙ্গে খাপে খাপ বসে গিয়েছেন। চোখের অভিনয়ে একে অপরকে পাল্লা দিয়েছেন। ‘বাপিদা’ নামক স্থানীয় গুণ্ডা দলের নেতা হিসেবে খরাজ বেশ ভাল। তবে প্রতিটি পার্শ্ব চরিত্রই একটু অতিনাটকীয় দোষে দুষ্ট। বড্ড চোখে লাগে ক্রোমায় শুট করা মানালি আর নাইজেলের বাইক দৃশ্যটি। স্বনামধন্য পরিচালকদের কাছ থেকে এই টেকনিক্যাল ভুল আশা করা যায় না। যেমন যায় না, জোর করে মানুষের মাথার মধ্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ব্যাপারটি ঢোকানোয়। ধর্মের উপর মানবতা, মনুষ্যত্ব তা একাধিকবার একাধিকভাবে এই ছবিতে বোঝানো হয়েছে, কিন্তু লেবু বারবার কচলালে যে তেতো হয়ে যায়, পরিচালকদ্বয় এটা কেন বুঝলেন না? হিন্দু বৃদ্ধা মুসলিম ব্যক্তিকে নিজের ছেলে হিসেবে মেনে নিচ্ছেন, তাঁকে দিয়ে রাধাগোবিন্দর প্রসাদ বিতরণ করছেন, এরপরই কি শেষ দৃশ্যে মন্দির-মসজিদ-গির্জা দেখানোর দরকার ছিল? শেষ দৃশ্যটি বড্ড অপ্রয়োজনীয় লাগে। বড্ড স্থুল লাগে! পরিচালকদ্বয় কেন দর্শককে এত বালখিল্য ভাবলেন? কখনও-কখনও নীরবতাও অনেক কিছু বলে দেয় এটা বোঝা দরকার। তবে গল্পের সারল্য মন ভাল করে দেয়। নিখাদ বাঙালিয়ানায় মোড়া এই সারল্যই আমার-আপনার গল্প হয়ে উঠতে পারে। তাই কোথাও গিয়ে বড্ড আপন লাগে চরিত্রগুলিকে। ইচ্ছে করে মুক্তিদেবীকে পাড়ার জেঠিমা হিসেবে ভাবতে। বিশ্বাস করতে ইচ্ছে করে সমাজের সব শ্রেণীর মানুষকে। ছবিতে সম্প্রীতির বিষয়টি এক সরলভাবে প্রকাশ করা হয়েছে যে মনে হয় বাস্তবে এমন হলে, দেশটাই স্বপ্নরাজ্যে পরিণত হত। ছবির গানও বেশ ভাল। উপস্থাপনাও মন কাড়ে। শিবপ্রসাদ-নন্দিতার আটপৌরে ভঙ্গিটি এতদিন দর্শক পছন্দ করে এসেছে, সেই ভঙ্গি এখানেও বর্তমান। অতএব…

এখন আপনার রিভিউ প্রকাশিত হতে পারে আনন্দলোক-এ। সিনেমা দেখে
চটপট লিখে ফেলুন রিভিউ আর ইমেল করুন

anandalok.m[email protected]