Anandalok Review

আর একটু বেশি আশা ছিল

গুডনাইট সিটি
Goodnight-City-still2

পরিচালক: কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায়
অভিনয়: শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়, ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, ঋত্বিক চক্রবর্তী, পায়েল সরকার, অরুণিমা ঘোষ

পরিচালক হিসেবে কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায়ের কাছ থেকে আমরা বিভিন্ন সময়ে পেয়েছি বিভিন্ন স্বাদের সিনেমা। তাই তাঁর সিনেমা থেকে সবসময়েই দর্শকের আশা থাকে, নতুন কোনও বিষয় উপহার পাওয়ার। সাম্প্রতিক সিনেমা ‘গুডনাইট সিটি’তে তিনি তুলে ধরেছেন মানব মনের আলো-আঁধারি দিকটাকে। একটা রাতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ পুরো সিনেমাটি। শহরের খ্যাতনামা মনোরোগ বিশেষজ্ঞ আভিরি চট্টোপাধ্যায়কে (ঋতুপর্ণা) একদিন অনেক রাতে ফোন করে অভিমন্যু (ঋত্বিক)। তার দাবি, সে নাকি কিছুক্ষণ আগেই তার বাবা ও প্রাক্তন প্রেমিকাকে খুন করেছে এবং এখন চায় আত্মহত্যা করতে। আভিরি তাকে একজন প্যারানয়েড স্কিৎজ়োফ্রেনিয়ার রোগী হিসেবে দেখলেও আভিরির স্বামী গোয়েন্দা দপ্তরের আধিকারিক ঋষি চট্টোপাধ্যায়ের (শাশ্বত) চোখে সে একজন অপরাধী। দু’জনের মধ্যে শুরু হয় এক অদ্ভুত টানাপড়েন। আভিরি চায় অভিমন্যুকে সারিয়ে তুলতে, আর ঋষি চায় মোবাইল নম্বর ট্র্যাক করে তাকে ধরতে। শেষে আদৌ তাকে ধরা যায় কি না, সেটা বরং সিনেমার জন্যই তোলা থাক। পরিচালক মনোরোগী ঋত্বিকের চরিত্রটি তুলে ধরেছেন খুব ভালভাবে। মনোরোগের কারণ হিসেবে বাবা-মা’র সম্পর্কের শীতলতা, ছোটবেলায় বাবার অত্যাচার, কলেজ জীবনে রাজনৈতিক আদর্শের স্বপ্নভঙ্গ ইত্যাদিও তুলে ধরা হয়েছে সুনিপুণভাবে, যার জন্য কোনও জায়গাতেই বিষয়টা আরোপিত মনে হয়নি। চরিত্রের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ঋত্বিকের ঘরের সাজসজ্জাও বেশ মানানসই। নতুন করে কিছুই বলার নেই ঋত্বিক চক্রবর্তীর অভিনয় সম্পর্কে। অভিমন্যুর চরিত্রটি আলাদা মাত্রা পেয়েছে তাঁর অভিনয়ের গুণেই। তাঁর চোখের চাহনি, আচার-আচরণে একজন মনোরোগীর ছাপ পাওয়া গিয়েছে পুরো মাত্রায়। যোগ্য সঙ্গত দিয়েছে ঋতুপর্ণা ও শাশ্বতর অভিনয়ের পরিমিতিবোধ। পায়েল, অরুণিমা ছাড়াও ছোট ও বড় পরদার একঝাঁক তারকার প্রত্যেকেই সীমা লঙ্ঘন না করে নিজেদের উপস্থিতি জানান দিয়েছেন। আবহসঙ্গীত ছবিটিকে অন্য মাত্রা দিয়েছে। তবে ততটা ভাল হয়নি গানগুলো। যাই হোক, যেভাবে ঘটনার জালটা বিস্তার করেছিলেন পরিচালক, সেটা যেন খুব তাড়াতাড়ি গুটিয়ে নেওয়া হল। কোথাও যেন ছবিটা একই জায়গায় আবদ্ধ রইল, পাওয়া গেল না কোনও উত্তরণের চিহ্ন। কোনও কোনও জায়গায় অভিমন্যুকে তুখোড় বুদ্ধিমান প্রমাণ করার জন্য ঋষিকে দিয়ে কিছু সাধারণ ভুল করানো হয়েছে, যা একজন দুঁদে পুলিশ অফিসারের কাছ থেকে আশাপ্রদ নয়। শেষেও যেন কোথাও একটা জোর করে সব এক জায়গায় মিলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। এছাড়া একজন অপ্রকৃতিস্থ, ময়লা জামাকাপড় পরা মানুষের বিভিন্ন থানার ওয়েটিং রুমে বসে ফোন করার ঘটনাটা কি বাস্তবসম্মত হল? এই ত্রুটিগুলোর জন্যই ভাল মশলা থাকা সত্ত্বেও সিনেমাটি সর্বাঙ্গ সুন্দর হল না।