magazine_cover_12_April_19.jpg

Anandalok Review

শেষে গিয়ে…

ফাইনালি ভালবাসা

finally-bhalobasha-still

পরিচালনা: অঞ্জন দত্ত

অভিনয়ে: অঞ্জন দত্ত, রাইমা সেন, অনির্বাণ ভট্টাচার্য, অর্জুন চক্রবর্তী, সৌরসেনী মৈত্র, সুপ্রভাত মুখোপাধ্যায়, অরিন্দম শীল, সৌরভ দাস

তিনটে আলাদা গল্পের শেষে গিয়ে ঘটছে ত্রিবেণী সঙ্গম, এমন ছবির ট্রেন্ড নতুন কিছু নয়। ‘ফাইনালি ভালবাসা’ সেই ট্রেন্ডে নতুন সংযোজন। ‘ইনসমনিয়া’, ‘আর্থরাইটিস’ এবং ‘এইচ আই ভি পজ়িটিভ’ নামক তিনটে আলাদা গল্প প্রথমার্ধে তাদের ডালপালা বিস্তার করে। শুরু করি, ‘ইনসমনিয়া’ দিয়ে। মালবিকা (রাইমা) বেশ দাপুটে এক ব্যবসায়ীর (অরিন্দম) স্ত্রী। অরিন্দম কী করেন জানা নেই, তবে সে যে প্রায়ই মানুষ খুন করতে পারে, তার কথা বারবার বলা হয়েছে। তার সহকারী বিবেক (অর্জুন)। তার সঙ্গে হঠাৎ করে মালবিকার কী সমীকরণ তৈরি হয় বোঝা যায় না। কোনওভাবেই প্রেমের সম্পর্ক সেটা নয়। যা-ই হোক, এই গল্পে কারও অভিনয়েরই জায়গা ছিল না। ‘আর্থরাইটিস’ গল্পটির দুই মুখ্য চরিত্র অঞ্জন এবং সৌরসেনী। গল্পটি নতুন না হলেও, গল্প বলার ধরনটি স্মার্ট। অঞ্জন দত্তকে এরকম চরিত্রে আগে বহুবার দেখা গিয়েছে। অভিনয়ে নতুনত্বও কিছু পাওয়া গেল না। তুলনায় অনেক বেশি নজরকাড়া সৌরসেনী। সাবলীল, বয়সোচিত, সংবেদনশীল। তবে সবাইকে ছাপিয়ে গিয়েছেন অনির্বাণ ভট্টাচার্য। ‘এইচ আই ভি পজ়িটিভ’ গল্পে তিনি এখনও অবধি নিজের সেরাটুকু দিয়েছেন। ব্যতিক্রমী একটি চরিত্রকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলেছেন। আর একটা ইঙ্গিত দিয়েছেন, চাইলে বিদূষকও হতে পারেন সমান পারদর্শিতার সঙ্গে। পরিচালকরা শুধু দেখে নিন। সুপ্রভাত মুখোপাধ্যায়ের অভিনয়ও প্রশংসার দাবিদার। ছবির শেষে তিনটে গল্পকে একসূত্রে বেঁধেছেন পরিচালক, যা অতিরিক্ত কসরত বলে মনে হয়। খুব প্রেডিক্টেবল একটা সমাপ্তি। অন্যদিকে, গল্পগুলোর এহেন নামকরণ কেন, প্রশ্ন উঠতেই পারে। তিনটে গল্পের মুখ্য চরিত্ররা শীর্ষকের রোগটিতে আক্রান্ত। তবে সেই ‘এইচ আই ভি পজ়িটিভ’ গল্পটি বাদে কোনও রোগেই গল্পের আলাদা মূল্যবৃদ্ধি করেনি। ফলে নামকরণ সার্থক হয়নি। নীল দত্তের সঙ্গীত তাঁর আগের কাজগুলোরই পুনরাবৃত্তির মতো শোনায়। তবে গৈরিক সরকারের ক্যামেরা এই ছবির অন্যতম চরিত্র।

এখন আপনার রিভিউ প্রকাশিত হতে পারে আনন্দলোক-এ। সিনেমা দেখে
চটপট লিখে ফেলুন রিভিউ আর ইমেল করুন

[email protected]