magazine_cover_12_november_18.jpg

Anandalok Review

হয়েও যেন হল না

ফিদা

fida-still

পরিচালনা: পথিকৃৎ বসু

অভিনয়ে: যশ, সঞ্জনা

প্রেম বনাম ইগো – এই দন্দ্ব নিয়েই পথিকৃৎ বসু পরিচালিত ছবি ‘ফিদা’। ছবিতে দুই ভিন্ন প্রকৃতির মানুষকে দেখি আমরা। একদিকে ঈশান (যশ) যে স্বভাবতই অত্যন্ত আবেগপ্রবণ ও বেপরোয়া। সে গোটা জীবনটাকেই চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখে। মদ নিয়ে ট্রেনে ওঠা থেকে মনের মেয়েটির মুখ থেকে সেই তিনটি শব্দ বার করার জন্য তাকে মাসের পর মাস ধাওয়া করা – কোনও চ্যালেঞ্জ থেকেই সে পিছপা হয় না। অপরদিকে খুশি ( সঞ্জনা) যে অনেক বাস্তববাদী ও বিচক্ষণ। সম্পূর্ণ ভিন্ন ধাতুর মানুষ হয়েও তারা অবিলম্বেই প্রেমে পড়ে। কিন্তু দু’জনের ভিন্ন প্রকৃতি ও কিছু ভুল বোঝাবুঝির দরুন প্রেমে দাঁড়িও পড়ে। দীর্ঘ ছ’বছর পর পরিস্থিতির ফেরে তারা আবার মুখোমুখি হয় লন্ডনে। আবার কি তারা মিলিত হবে? এই গল্প নিয়েই এগোয় ছবি।

গল্পে তেমন নতুনত্ব কিছু নেই। থোড় ব়ড়ি খাড়া, খাড়া বড়ি থোড়। এই বছরেই মুক্তি পাওয়া তেলেগু ছবি ‘থোলি প্রেমা’র সঙ্গে আশ্চর্যরকম সাদৃশ্য আছে এই ছবির। সে থাক। টলিউডে দক্ষিণী সিনেমা থেকে ‘ইনস্পায়ার্ড’ ছবি এই প্রথম বা শেষ নয়। তা সত্ত্বেও ছবির প্রথম দিকে ঈশান ও খুশির প্রেম পর্ব বেশ মজারই লাগে। আবেগপ্রবণ ও রগচটা ঈশানের রোলে টলিউডের আ্যংগ্রি ইয়ং ম্যান যশকে ভালই লেগেছে। প্রেম নিবেদন থেকে মারপিটে ভিলেনদের কুপোকাত করা প্রায় সব দৃশ্যেই তিনি সাবলীল। যদিও কোনও-কোনও দৃশ্য ধারাবাহিকে তাঁর বিখ্যাত ভূমিকা অরণ্য সিংহরায়ের কথা মনে করিয়ে দেয়। নবাগতা সঞ্জনা বেশ সুন্দরী। তবে ক্যামেরার সামনে এখনও স্বতঃস্ফূর্ত নন। অভিনয় বা নাচ দুটোতেই জড়তা স্পষ্ট। ঈশানের বন্ধুদের রোলে অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায় ও সৌরতি বন্দ্যোপাধ্যায় যথাযথ। সৌভিক বসুর দক্ষ সিনেমাটোগ্যাফির দৌলতে লন্ডন দর্শন একটা বাড়তি পাওনা।

সমস্যা হয় দ্বিতীয় অর্ধে এসে। ইন্টারমিশনের পর, দুর্বল চিত্র সম্পাদনার দরুন গল্প খেই হারিয়ে ফেলে। অগুন্তি ফ্ল্যাশব্যাক এবং বেশ কিছু অপ্রোয়জনীয় দৃশ্য, বর্ণ-বৈষম্যের সাব-প্লট ইত্যাদি মিলিয়ে দ্বিতীয় পর্বটি দর্শককে ক্লান্ত করে। অরিন্দম চট্টোপাধ্যায় এর আগে ‘বোঝে না সে বোঝে না’, ‘ওয়ান’ ইত্যাদি ছবিতে চিত্তাকর্ষক সুর দিলেও – এই ছবিতে কোনও মনে রাখার মতো গান দিতে পারেননি।

‘পয়সা-উসুল’ ছবির সমস্ত উপকরণ থাকলেও কিছু ত্রুটির জন্য ‘ফিদা’-তে ফিদা হওয়া হল না।