magazine_cover_12_november_17.jpg

 

Home review detail ডুব দিয়ে মন…

ডুব দিয়ে মন…

ডুব
doob-still

অভিনয়: ইরফান খান, পার্নো মিত্র, নুসরত ইমরোস তৃষা, রোকেয়া প্রাচী
পরিচালনা: মোস্তাফা সরওয়ার ফারুকি
……

কথাটা কানাঘুষোয় শোনা যাচ্ছে, ‘ডুব’-এর ‘জাভেদ হাসান’ চরিত্রটি নাকি লেখক হুমায়ুদ আহমেদকে মাথায় রেখে তৈরি করা হয়েছে। এবং হুমায়ুনের জীবনের ঝলক পাওয়া যাচ্ছে জাভেদের জীবনে। না, আমাদের কোনওরকম বিতর্কে ঢোকার ইচ্ছে নেই। আমাদের উদ্দেশ্য ছবিটির বিশ্লেষণ এবং গল্পটির সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়া। বাংলাদেশের চিত্র পরিচালক জাভেদ হাসান সাহেব (ইরফান খান) দুই সন্তান (একটি মেয়ে এবং একটি ছেলে) এবং স্ত্রীকে নিয়ে সুখে জীবনযাপন করছিলেন। হঠাৎ-ই খবরকাগজের শিরোনামে উঠে আসে জাভেদ সাহেব নাকি মেয়ে সাবেরির (নুসরত ইমরোস তৃষা) সহপাঠিনী নিতুর (পার্নো মিত্র) সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছেন। জাভেদ এই সম্পর্ক স্বীকার করতে চাননি। তারপর খানিকটা স্ত্রীর মায়ার সঙ্গে দূরত্ব বাড়ার কারণে এবং খানিকটা নিতুর নাছোড় মনোভাবের কাছে হার মেনে, পরিবারের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যান তিনি। নিতুর সঙ্গে ঘর বাধেন। সিনেমা শেষ হয় জাভেদের মৃত্যুর মাধ্যমে। কিন্তু কিছু প্রশ্ন অধরাই থেকে যায়। যেমন, পরিচালক পুরো ছবিটায় কী দেখাতে চেয়েছেন? দুই সহপাঠিনীর মধ্যে প্রতিযোগিতা? যদি তাই হয়, তাহলে সেই প্রতিযোগিতা নিয়ে একপক্ষ কেন সরব হল? কেনই বা প্রতিযোগিতা শুরু হল, তা বোঝা গেল না। যেমন বোঝা গেল না, জাভেদ ঠিক কী চাইছেন? দীর্ঘ বিবাহিত জীবন কাটানোর ফলে তাঁর এবং স্ত্রী মায়ার (রোকেয়া) সম্পর্কে শীতলতা এসেছিল, এটা সত্যি, কিন্তু তিনি তো সেটা কাটাতেই চাইছিলেন, হঠাৎ করে হাল ছেড়ে দিলেন কেন? স্ত্রীর দিক থেকেও কোনও ইতিবাচক সাড়া কেন মিলল না? এমনকী, সুখী পরিবারের চিহ্ন হিসেবে দেওয়ালে ঝোলানো ছবিগুলিতে কোথাও মায়া এবং জাভেদের, দু’জনের ছবি খুঁজে পেলাম না। তাহলে কি প্রেম অনেকদিন আগেই তাঁদের ছেড়ে চলে গিয়েছিল? তাহলে নিতু আর সাবেরির প্রতিযোগিতাটা এখানে মিথ্যে হয়ে যায়। কারণ, নিতু না থাকলেও হয়তো সংসারটা ভাঙতই। জাভেদের সন্তানদের কাছে পাওয়ার আকুতি চোখে পড়ে, কিন্তু সিনেমা জুড়ে স্ত্রীর প্রতি সামান্য দুর্বলতাও চোখে পড়ে না। ইরফানের অভিনয় নিয়ে কথা বলা উচিত হবে না। প্রতিবারের মতোই তিনি এলেন, দেখলেন এবং জয় করলেন। কিন্তু তাঁর বাংলা উচ্চারণ বড্ড কানে লাগে। ওপার বাংলার টান তো দূরের কথা এপার বাংলার কথ্যভাষাতেও হিন্দির টান স্পষ্ট (জানিয়ে রাখি, বাংলাদেশে বাংলা কথার একটা আলাদা টান পাওয়া যায়। যা পশ্চিমবঙ্গে থাকে না। ইরফানের কথায় সেই টান উধাও)। বাকি সংলাপ ইংলিশে বলে কুল রক্ষা করেছেন তিনি। পার্নোর যতটুকু দায়িত্ব ছিল, তিনি তা পালন করেছেন। নুসরতের অভিনয় বেশ ভাল। কিছু-কিছু দৃশ্যে অনবদ্য (জাভেদকে জলের গ্লাস এগিয়ে দেওয়ার সময় তাঁর মুখের অভিব্যক্তি) তিনি। বরং রোকেয়া বড্ড কাঠ-কাঠ। তাঁর অভিনয় আরও পেলব এবং সাবলীল হওয়া দরকার ছিল। ফলে ইরফান এবং তাঁর দৃশ্যগুলি ভাল হওয়ার সব উপাদান মজুত থাকলেও হতে পারল না। সিনেমাটোগ্রাফি অসাধারণ। রিসর্টের দৃশ্যগুলি অনবদ্য (পরিচালককে আলাদা করে ধন্যবাদ, সুন্দর জায়গা দেখানোর জন্য। প্রতিটি অ্যাঙ্গেল প্রশংসনীয়। কিন্তু কখনও-কখনও এডিটিংয়ের দোষে ক্যামেরাও দুষ্ট হয়ে পড়েছে। কিছু দৃশ্য অকারণে দীর্ঘ। আর হ্যাঁ মেকআপের ব্যাপারে একটু যত্মশীল হওয়া প্রয়োজন ছিল। যদিও অনেক প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যাচ্ছে না (এটা পরিচালকের দায়িত্ব)। তবে শেষ দৃশ্যটি ভাল লাগে। বিশেষত মৃত্যুর হাত ধরে স্ত্রী আর মেয়ের কাছে জাভেদের ফিরে আসাটা। তাহলে কি জাভেদ ফিরতেই চেয়েছিলেন? ডুব দিতে চেয়েছিলেন অতীতের সুখস্মৃতিতে?