magazine_cover_12_august_18.jpg

Anandalok Review

বর্ণময় কোলাজ

ক্রিসক্রস

criscross-still

পরিচালনা: বিরসা দাশগুপ্ত

অভিনয়ে: মিমি চক্রবর্তী, নুসরত জাহান, সোহিনী সরকার, প্রিয়ঙ্কা সরকার, জয়া আহসান

স্মরণজিৎ চক্রবর্তীর ‘ক্রিসক্রস’ যাঁরা পড়েছেন এবং ভাবছেন সেই অনুযায়ী ছবিটি দেখতে যাবেন, তা হলে বলে রাখি, উপন্যাসের সঙ্গে এই ছবির কোনও মিল নেই। পরিচালক শুধু ‘ক্রিসক্রস’ উপন্যাসের আধার এবং চরিত্রগুলোকে নিয়ে নিজের মতো করে সাজিয়ে নিয়েছেন। এবং তাতে ইরা, মেহের, মিস সেন, রুপালি এবং সুজ়িরা হয়ে উঠেছে স্বয়ংসম্পূর্ণ একটি ছবির চরিত্র। এবার যদি শুধু সিনেমার কথা বলেন, তা হলে বলা যায়, বেশ সুন্দর ফিল গুড একটি ছবি তৈরি করেছেন বিরসা। এই সময়ে দাঁড়িয়ে পাঁচটি ভিন্ন পরিবেশ এবং পরিস্থিতি থেকে উঠে আসা পাঁচটি মেয়ের একদিনের গল্পগুলো বেশ মজবুত সুতোয় বুনেছেন। ফলে প্রত্যেকটি চরিত্রের ক্রাইসিস সোজা দর্শকের মনে আঘাত করেছে। ছবির গল্প আলাদা করে কিছু বলার নেই। কারণ পাঁচটি ভিন্ন জীবনের গল্প… ফোটো-জার্নালিস্ট ইরা যেমন কাজের চাপে পড়েও ঠিক সময়ে বয়ফ্রেন্ডের পার্টিতে পৌঁছতে চায়, অভিনেত্রী হতে চাওয়া মেহের চায় একটা কাজ খুঁজে বাড়িভাড়ার টাকাটা দিতে। সিঙ্গল মাদাল সুজ়িরও ইচ্ছে, পরের দিন ছেলের স্কুলের মাইনে দেওয়া। অর্থনৈতিক এবং সামাজিকভাবে একেবারে দু’ প্রান্তে দাঁড়িয়ে থাকা রুপালি এবং মিস সেনেরও দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ার দশা। সেখান থেকে তারা জীবনের আনন্দে ফিরে আসে। কীরকম সেই যাত্রা, সেটাই প্রায় ১১৫ মিনিটে দেখিয়েছেন পরিচালক। বলতে বাধা নেই, ছবির স্ক্রিপ্ট বেশ গতিসম্পন্ন, কখনওই একঘেয়েমি গ্রাস করে না। ছোট-ছোট দৃশ্যে ভেঙে পাঁচজনের জীবনের কোলাজ বেশ ভালই তৈরি হয়েছে। তাতে রঙের বৈচিত্র্যও এসেছে। বিশেষ করে ছবির প্রথমার্ধ তো বেশ সুন্দর। তবে দ্বিতীয়ার্ধে এসে মনে হয়েছে পরিচালক একটু তাড়াহুড়ো করে ফেললেন। শেষে গিয়ে সকলকে একটা পার্টিতে মেলাতে হবে বলেই কি? হয়তো তাই। সেই কারণেই হঠাৎ করে বোধ হয় দেখা গেল ইরা আর রুপোলির! যাই হোক, তাতে বাধা নেই। কারণ জীবনের গল্প তো সব সময় মসৃণ হয় না। অভিনয়ে সকলে ভাল করেছেন। তা সে মিমিই হোন বা নুসরত, প্রিয়ঙ্কা। জয়াকে দেখতে যতটা ভাল লেগেছে, অভিনয় ততটা মন কাড়েনি। সংলাপ অনেক সময়ই বোঝা যাচ্ছিল না। তবে যাঁকে এই ছবির সম্পদ বলা যেতে পারে, তিনি সোহিনী। রুপালি চরিত্রটি যতটা দরদ দিয়ে তৈরি করা, ততটাই ভাল অভিনয় করেছেন সোহিনী। কিন্তু পছন্দের জামা কেনার দৃশ্যে তাঁর চুলের স্টাইল কী করে পাল্টে গেল, বোঝা গেল না। একদিনের গল্পে জয়জিৎ এবং নুসরতের ওয়েব সিরিজ় শুটের জায়গাটিও বেশ বেমানান। মিস সেনের অর্থনৈতিকভাবে ভেঙে পড়ার একটা আভাস দিলেও মন্দ হত না। তবে ওই… ছবির মাধ্যমে যে ফিলগুড ফ্যাক্টরটি দর্শকের মধ্যে সঞ্চারিত করতে চেয়েছেন পরিচালক, তাতে তিনি সফল। তবে এই সাফল্যে অনেকটা অনুঘটকের মতো কাজ করেছে ছবির সঙ্গীত। ‘জ্যাম এইট’-এর গানগুলি বেশ ভাল। অন্তত ছবির দৃশ্যগুলির সঙ্গে বেশ ভাল খাপ খেয়েছে। ফলে ‘ক্রিসক্রস’-কে আলাদা একটি সিনেমা হিসেবে দেখলে খারাপ লাগবে না।