magazine_cover_12_july_18.jpg

Anandalok Review

রংগুলো ফিকে থেকে গেল…

কালার্স অফ লাইফ

colours-of-life-big

পরিচালকঃ প্রকাশ ভরদ্বাজ

অভিনয়েঃ ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, প্রিয়াংশু চট্টোপাধ্যায়, কৌশিক সেন, পায়েল রায়

পুরো ছবি জুড়ে দর্শককে কাঁদাতেই চেয়েছিলেন পরিচালক। কিন্তু চোখের জলও বেরোতে গিয়ে বোর হয়ে আবার ফিরে গেল। যে কোনও দৃশ্য, তা সে যতই স্পর্শকাতর হোক না কেন, বেশিক্ষণ টানলে কি আর ভাল লাগে? ইমোশনাল দৃশ্যগুলির সংলাপ থেকে শুরু করে হাঁটাচলা, সবই এত ধীর গতির যে, ছবি দেখতে-দে‌খতে মনে হয় নিজেই উঠে গিয়ে দৃশ্যটা শেষ করে দিয়ে আসি। তার উপর যেটা বোঝা গেল না সেটা হল, পরিচালক এটাকে ইংরেজি ছবি কেন করতে গেলেন? বাঙালি মধ্যবিত্ত পরিবার, তারা পাঁচটা বাংলা বাক্যের মধ্যে একটা ইংরেজি বাক্য বলতেই পারে, কিন্তু উলটোটা হয় কি? বিশেষ করে ছবির কোনও অভিনেতা-অভিনেত্রীর ইংরেজি উচ্চারণই যখন নির্ভুল নয়! না, ছবির সব কিছু মোটেই খারাপ নয়। ভালতেও আসছি। আগে গল্পটা একটু দেখে নেওয়া যাক।

বাবা-মা-মেয়ের সুখের সংসারে একদিন হঠাৎ নেমে আসে দুর্যোগ। চন্দ্রিমার (ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত) স্বামী (প্রিয়াংশু চট্টোপাধ্যায়) মারা যায় একটি গাড়ি দুর্ঘটনায়। মেয়ে এষার (পায়েল রায়) বয়স তখন ১০। সেই থেকে চন্দ্রিমার লড়াই শুরু, নিজে বেঁচে থাকার, মেয়েকে বড় করার, এবং সিঙ্গল পেরেন্টের পাহাড়প্রমাণ দায়িত্ব মাথায় নেওয়ার। ফলে যা হওয়ার তাই হয়, মেয়ের ব্যাপারে ভীষণরকম ওভার প্রোটেকটিভ হয়ে যায় চন্দ্রিমা। বেড়ে ওঠার সময়টায় কোনওদিন নিজের মত প্রকাশ করতে দেওয়া হয় না এষাকে। তাই বাইরের পৃথিবীটা কেমন, কেমন করেই বা সেখানে বেঁচে থাকতে হয়, সেই শিক্ষার অভাব থেকে যায় এষার জীবনে। এবং বাবার প্রিয় ছোট্ট মেয়েটা অতিরিক্ত শাসনের ফলে ক্রমে মনে-মনে দুরে সরতে থাকে মায়ের থেকে। তারপর একদিন সেই মেয়ে বড় হয়, এবং জীবন তাকে দাঁড় করিয়ে দেয় কলেজের দোরগোড়ায়। এই প্রথম মুক্তি! কিন্তু ছোটবেলা থেকে যে মেয়েটা কোনওদিন নিজের মতো থাকতে পারেনি, এই হঠাৎ পাওয়া স্বাধীনতার কতটা ভাল আর কতটা খারাপ, সেটা সে বুঝতে পারবে কি? বাকিটা হলে গিয়ে দেখবেন।

ছবিটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল ডিপ্রেশনের মতো মানসিক (সামাজিকও) সমস্যাকে বেশ দায়িত্ব নিয়ে দেখানো। এ ছাড়া ছবিটির বিশেষ প্রাপ্তি অভিনয়। একদিকে মেয়েকে কড়া শাসনে রাখা ও অন্যদিকে মেয়ের জীবনে আছড়ে পড়া ভয়ঙ্কর ঝড়ে নিজের জীবনও ওলটপালট হয়ে যাওয়া চন্দ্রিমার ভূমিকায় ঋতুপর্ণা একেবারে যথাযথ। এষার বাবার ভূমিকায় স্বল্প দৈর্ঘ্যের চরিত্রে, বাবা-মেয়ের মিষ্টি সম্পর্ককে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলেছেন প্রিয়াংশু। ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে কৌশিক সেনও ভাল। তবে বছর কুড়ির এষার সঙ্গে মধ্যবয়সী সাইকোলজিস্ট অরুণাংশুর কথোপকথন ও সম্পর্কের মধ্যে ভীষণভাবেই দেখা যায় ‘ডিয়ার জ়িন্দগী’ ছবির আলিয়া-শাহরুখের ছায়া। আলাদা করে বলতে হয় এষার ভূমিকায় পায়েলের কথা। একদিকে লাগামছাড়া বাইরের জীবন, অন্যদিকে ভীষণ নরম মনের একটা মেয়ে… এককথায় পায়েল অনবদ্য। জীবনের এবং চরিত্রের বিভিন্ন রং সার্থকভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন পায়েলই। অভিনেতারা যথাসাধ্য চেষ্টা করেছেন। শুধু স্ক্রিপ্ট এবং গল্প বলার ধরন যদি আরও ভাল হত, তবে নিঃসন্দেহে দর্শকের মনে দাগ কাটত ছবিটি। তবে গল্পের শেষটায় ওরকম মেলোড্রামার বন্যা বইয়ে না দিলেও চলত!