magazine_cover_12_october_17.jpg

Anandalok Review

একটি বিপজ্জনক সফর

ককপিট
cockpit-গু

অভিনয়: দেব, কোয়েল, রুক্মিণী, প্রিয়ঙ্কা
পরিচালনা: কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায়
……

বিমানসফরকে মোটামুটি নিরাপদ বলেই ধরি আমরা। কিন্তু হাওয়ায় বিপদ ঘটলে? ভাগ্য ও পাইলট ছাড়া কারও কিছু করার থাকে না! এ ছবির ফ্লাইটে আবার যাবতীয় বিপদ একসঙ্গে। প্লেন চালাচ্ছেন বিখ্যাত চালক দিব্যেন্দু রক্ষিত (দেব)। বাবা প্রয়াত বিমানচালক। বাড়িতে দিব্যেন্দুর স্ত্রী রিয়া চিন্তায়, কলকাতার আবহাওয়া ভাল না। মুম্বই থেকে প্লেন ঠিকমতো আসতে পারবে তো? বিমানে আবার দিব্যেন্দুর পুরনো বান্ধবী বিমানসেবিকা কৃতি তার শেষ ফ্লাইট নিচ্ছে। কিন্তু আকাশে ওড়ার সঙ্গে সঙ্গে একের পর এক বিপর্যয়। খারাপ আবহাওয়া, ইঞ্জিন বন্ধ, এয়ার প্রেশার কমে যাওয়া, জ্বালানি শেষ… এরই মধ্যে বিমানের বিভিন্ন যাত্রীর সঙ্গে আমরা পরিচিত হই। দিব্যেন্দু কি পারবেন এতগুলি মানুষের প্রাণ বাঁচাতে?

এমন একটি বিষয় নিয়ে ছবি আগে বাংলায় হয়নি। ভাবেনওনি বিশেষ কেউ। সেদিক থেকে যথেষ্ট সাহস দেখিয়েছেন প্রযোজক দেব। অর্থব্যয়ের ব্যাপারেও কোনওরকম কার্পণ্য করেননি। মাঝ-আকাশে অভিনব প্রোমোশন প্ল্যান করেছেন। এমনটাও তো আগে কখনও হয়নি। শুধু তো এটুকুই নয়, বড় প্রযোজনা সংস্থার সঙ্গে যুদ্ধে নেমেছেন তিনি। বড় প্রেক্ষাগৃহের চেনে তাঁর ছবির টাইমিং দেখিয়েও বদলে দেওয়া হয়েছে। এই কঠিন লড়াইয়েও দেব যা স্পিরিট দেখাচ্ছেন, তার জন্য তাঁকে কুর্নিশ। শুধু এটুকুর জন্যই ছবিটি একবার অন্তত দেখা যেতে পারে। তবে…

কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায়ের খ্যাতি আছে যত্নশীল পরিচালক হিসেবে, সেই ছাপ টাইটেল কার্ডের গ্রাফিক্সেই স্পষ্ট। কিন্তু এ ছবিতে তাঁর আরও বেশি যত্নশীল হওয়া উচিত ছিল। একে তো বড্ড লম্বা ও বোরিং এই যাত্রা, বিশেষত প্রধম অর্ধে। বড় হঠাৎ-হঠাৎ সবকিছু যেন ঘটে যায়। কীভাবে যে প্লেন অর্ধেক সমস্যা থেকে মুক্তি পেল, বোঝা গেল না! দ্বিতীয়ার্ধে অবশ্য বেশ টানটান হয়ে ওঠে ছবি। কিন্তু পরিচালক থামতে না জানলে যা হয়, থ্রিলটা যেন কোথায় হারিয়ে যায়… অভিনয়ে দেব, কৃতির চরিত্রে রুক্মিণী, তার বন্ধুর চরিত্রে রোজ়া এবং দেবের স্ত্রীর চরিত্রে কোয়েল বেশ ভাল। একটু অতিনাটক মনে হলেও সবচেয়ে মানানসই লেগেছে রুক্মিণীকেই। পাইলট হিসেবে দেবকে মানিয়েছে চমৎকার। অরিন্দমের সংগীত মন্দ নয়, বিশেষত অরিজিৎ সিংহের কণ্ঠে গানটি দিব্যি। এয়ারপোর্ট কন্ট্রোল চিফের চরিত্রে শতাফ ফিগার এবং ছোট চরিত্রে প্রিয়ঙ্কা সরকার ও অম্বরীশ ভট্টাচার্য ছাপ রেখে গিয়েছেন। বিমানের রহস্যগুলির মতোই আর একটি প্রশ্ন, কৃতি ও স্ত্রী রিয়াকে প্রায় একই রকম দেখতে পেনডেন্ট কেন দেয় দিব্যেন্দু? শেষে কৃতি তা ফেরতই বা দেয় কেন? প্রেম ব্যর্থ হলে কি উপহার ফেরত দিতে হয়? শেষে বলার, এই ছবির সম্ভাবনা ছিল আরও। বিশেষত বিষয়বস্তু সেই ব্যবস্থা করে দিয়েছিল। পরিচালক যদি আর একটু যত্নবান হতেন…