magazine_cover_12_january_20.jpg

Anandalok Review

আতঙ্ক এবং আশার সহাবস্থান

ছপাক

chhapak-still

পরিচালনা: মেঘনা গুলজ়ার
অভিনয়: দীপিকা পাড়ুকোন, বিক্রান্ত মাসে

‘ছপাক’ শব্দটা হিন্দি ভাষায় জল বা রং ছেটানোর সঙ্গে কী সুন্দর মজার ছলে জুড়ে যায়। বিশেষত, গুলজ়ারের লেখা গানে তো এই শব্দটা বহুলব্যবহৃত। কিন্তু তাঁরই মেয়ে, মেঘনা গুলজ়ার পরিচালিত ‘ছপাক’ ছবিটি দেখার পর বোধহয় ‘মজার ছলে’ এই শব্দটি ব্যবহার করতে জিভ জড়িয়ে আসবে। অ্যাসিড অ্যাটাক নিয়ে কতটা তাপোত্তাপহীন ভারতীয় আইনি ব্যবস্থা, অ্যাসিডের বিক্রিতে নিয়ন্ত্রণ থাকা সত্ত্বেও এখনও বিনা প্রশ্নে বিক্রি হয় অ্যাসিড… অ্যাসিড অ্যাটাক বেড়েই চলেছে প্রতি বছর! কত তুচ্ছ কারণে, কত সহজে এবং ‘সস্তায়’ এক বোতল অ্যাসিড ছিটিয়ে একটি মেয়েকে ‘শিক্ষা’ দেয় আমাদের সমাজ, ‘ছপাক’-এ খুব সরলভাবে দেখানো হয়েছে। জটিলতা নেই এই ছবিতে। কোনও আবডাল ছাড়া সরলভাবে কঠিন সত্য দেখালে তা সোজা মনে আঘাত করে, এই ছবিও তা-ই করেছে।
পারিবারিক বন্ধু বশির খানের প্রেমের প্রস্তাব খারিজ করে দেওয়ার অপরাধে ১৯ বছরের মালতী অগরওয়ালের মুখে অ্যাসিড ছোড়ে বশিরের বোন পরভীন! ধন্যবাদ পরিচালককে, হিংসার যে কোনও ধর্ম এবং লিঙ্গ হয় না, সেটা দেখানোর জন্য। মালতী ভাগ্যবতী, তার পিছনে দাঁড়ানোর মতো উচ্চবিত্ত শিক্ষিত সমাজের সদস্যরা ছিল (যে পরিবারের বাবুর্চি ছিলেন মালতীর বাবা)। ফলে ভাল হাসপাতালে সাতটি সার্জারি করে তৈরি করা গিয়েছিল তার কান, নাক, চোখ। তাই সে পাশে দাঁড়ায় সেই অ্যাসিড সারভাইভারদের, যারা একটা সার্জারির টাকাও জোগাড় করে উঠতে পারে না। ২০০৫ থেকে যে লড়াই সে লড়ছিল, অ্যাসিড অ্যাটাককে ইন্ডিয়ান পিনাল কোডে একটি আলাদা সেকশনের অন্তর্ভুক্ত করার জন্য এবং অ্যাসিড বিক্রিতে নিয়ন্ত্রণ আরোপের জন্য, তা আইনত স্বীকৃতি পেয়েছে ঠিকই, তবে তাতে মহিলাদের উপর অ্যাসিড হামলা কমেনি। কী করে কমবে, সেই উত্তরও অজানা। এবং সেটিই আতঙ্কের কারণ।

মালতীর ভূমিকায় দীপিকা পাড়ুকোন অসাধারণ। সার্জারির আগে নিজের অ্যাসিডে ঝলসানো মুখ দেখে তাঁর আর্ত চিৎকার, অন্তরাত্মা কাঁপিয়ে দেয়। খুবই ভাল লাগে আলোক দ্বিবেদীর চরিত্রটি। সে একজন প্যাশনেট এনজিও কর্মী, যে কিনা বছরের পর বছর অ্যাসিড সারভাইভারদের জন্য লড়াই করছে, খিটখিটে, আইনি শিথিলতা দেখে-দেখে নৈরাশ্যবাদী। আলোকের চরিত্রে বিক্রান্ত মাসে আলাদা প্রশংসার দাবিদার। দীপিকার যোগ্য ফয়েল হিসেবে ছবির হাল ধরেছেন তিনি। প্রতিটি পার্শ্বচরিত্র তাদের কম-বেশি ক্ষুদ্র পরিসরে মনে দাগ কেটে যেতে বাধ্য। তবে এরকম একটি ছবিতে সিরিয়াস দৃশ্যে ব্যাকগ্রাউন্ডে এত গান কেন? আবহ সঙ্গীত যেখানে এত ভাল, সেখানে গান যেন সুর কেটে দেয়। এরকম ছবিতে চাবকে জ্ঞান দেওয়ার প্রবণতা থাকে। পরিচালক ক্ষুব সন্তর্পনে সেই রাস্তা থেকে চিত্রনাট্যকে সরিয়ে এনেছেন। আলোয় আলোয় লক্ষ্মীর লড়াইয়ের সাফল্য দেখিয়ে ছবিটি শেষ না করে তিনি অ্যাসিডের জ্বালাতেই শেষ করেছেন ছবিটি। অর্থাৎ দিল্লি এখনও দূর অস্ত। শেষ অ্যাসিড অ্যাটাক হয়েছে ডিসেম্বরের ২৪ তারিখই!

এখন আপনার রিভিউ প্রকাশিত হতে পারে আনন্দলোক-এ। সিনেমা দেখে
চটপট লিখে ফেলুন রিভিউ আর ইমেল করুন

[email protected]