magazine_cover_27_september_17_2.jpg

Anandalok Review

ধন্যবাদ দেব

চ্যাম্প
chaamp-still

অভিনয়: দেব, রুক্মিনী, চিরঞ্জিত, প্রিয়ঙ্কা
পরিচালনা: রাজ চক্রবর্তী
……
ছবি সমালোচনার শুরুতেই একটা কথা না বলে উপায় নেই। এই ছবি দেবের। এতদিন স্টারডম দিয়ে ছবিকে নিজের করতেন তিনি। আর এবার অভিনয় এবং প্রযোজনা দিয়ে করেছেন। এই ছবি আপনার যেমনই লাগুক, কিন্তু দেবকে ধন্যবাদ, প্রযোজক হিসেবে প্রথম ছবিতেই এরকম একটা রিস্ক নেও়য়ার জন্য। বাংলায় স্পোর্টস মুভি তো সেরকমভাবে নেই, তা-ও আবার বক্সিং! ফলে রিমেকের লোভ ছেড়ে দেব সেই চেষ্টাটুকু অন্তত করলেন, এর জন্য তাঁকে কুর্নিশ না জানিয়ে উপায় নেই।

‘চ্যাম্প’ একটা স্বপ্ন তৈরি এবং তা যাপনের গল্প। অত্যন্ত দরিদ্র ঘরে মানুষ শিবাজী ছোটবেলায় জানতই না বক্সিং জিনিসটা কী। কিন্তু একদিন একটি আস্তাকুঁড়ে একজোড়া ছেঁড়া গ্লাভস পাওয়ার পর এবং টিভিতে বক্সিং দেখার পর থেকে খেলাটার প্রতি ঝোঁক বাড়তে থাকে তার। একদিন রাস্তায় তাকে বক্সিং করতে দেখেন এক বুড়োদা (চিরঞ্জিত)। তিনিই শিবাজীর মধ্যে স্পার্ক দেখে তাকে কোচিং করাতে চান। মা’কে রাজি করিয়ে শিবাজী নেমে পড়ে বক্সিংয়ের রিংয়ে। তুলনায় ছবির দ্বিতীয়ার্ধ বেশি সুন্দর, গতিময়। কারণ ততক্ষণে শিবাজীর স্ট্রাগল শুরু হয়ে গিয়েছে। আসলে কোনও সাধারণ স্পোর্টস ফিল্মের বেসিক খাঁচাটা মোটামুটি একই রকম থাকে। হিরোর উত্থান, পতন এবং বাধা পেরিয়ে ফের উত্থান। ‘চ্যাম্প’-এর গল্পও এর ব্যতিক্রম নয়। ফলে আমরা আর গল্পের দিকে না গিয়ে সোজা অন্যান্য বিভাগের সমালোচনায় আসি। এই ছবির সম্পদ অভিনয়। আর দেব সেটা দুর্দান্তভাবে পালন করেছেন। দেব যে ক্রমশ উন্নতি করছেন, ‘চ্যাম্প’ তার জ্বলজ্যান্ত প্রমাণ হয়ে থাকবে। ‘শিবাজী’কে আত্মস্থ করেছেন তিনি। বক্সিং রিংয়ে তো বটেই, শিবাজীর দম্ভ, এমনকী, স্ট্রাগলের সময়টাকেও ফুটিয়ে তুলেছেন ভালভাবে। চিরঞ্জিতকে কখনও ভীষণ স্মার্ট লেগেছে, কখনও আবার ওভার দ্য টপ। কিন্তু আলাদা করে যে দু’জনের কথা বলতেই হয়, তাঁরা হলেন প্রিয়ঙ্কা এবং রুক্মিনী। প্রিয়ঙ্কার অভিনয় প্রতিভা নিয়ে আলাদা করে কিছু বলার নেই। তিনি অনবদ্য। শুধু আশা করব, এরপর যেন আরও বেশি করে অভিনয় করেন। আর রুক্মিনী প্রথম ছবিতেই তাক লাগিয়ে দেওয়ার মতো অভিনয় করেছেন। শিবাজীর স্ত্রী হিসেবে জয়ার ভাল লাগা, কষ্ট, স্ট্রাগল… রুক্মিনীকে ধন্যবাদ, অভিনয় দিয়ে প্রমাণ করার জন্য যে, টলিউডে নতুন একজন নায়িকার আবির্ভাব হয়ে গিয়েছে! সুপ্রিয় দত্তও স্বল্প পরিসরে অসাধারণ। জিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গীতও মনে রেশ রেখে যায়। অবশেষে চিত্রনাট্য এবং পরিচালনা। গল্পের গতি বেশ ভালই। গোটা ছবিটি যেভাবে শুট করা হয়েছে, তা প্রশংসাযোগ্য, বিশেষ করে বক্সিংয়ের দৃশ্যগুলি। কিন্তু তাও কিছু অভিযোগ না করে পারা যাচ্ছে না। ইন্টারভ্যালের ঠিক আগের দৃশ্য। পাঁজরে আঘাত খেয়ে হাসপাতালের বেডে শুয়ে ‘চ্যাম্প’ ওরফে শিবাজী সান্যাল… ডাক্তার বলছেন, চ্যাম্প ইজ় ফিনিশড। বাইরে তখন আবেগে, শঙ্কায় অনুরাগীদের চোখে জল। তাও কেন, শিবাজীর সঙ্গে সেভাবে একাত্ম হবে না মন? ‘চ্যাম্প’-এর প্রথমার্ধের গল্প একটু উপর-উপর এবং সব ঘটনা পরম্পরা পরপর ঘটলেও, কোনও এক এক্স ফ্যাক্টরের অনুপস্থিতির জন্য সেভাবে দানা বাঁধে না। এর জন্য চিত্রনাট্যের দুর্বলতাকে দায়ী করা যেতেই পারে। আর চ্যাম্প-এর লড়াইগুলোর পরিস্থিতি একটু সহজ হয়ে গেল না? চ্যাম্প তো অতি সহজেই বক্সিংয়ের বিভিন্ন ধাপ, এমনকী, ওয়র্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপও খেলে ফেলল! পরিচালক রাজ আর কবে সিনেম্যাটিক ক্লিশেগুলো ছাড়বেন? বাড়িতে লোক ঢুকে জিনিসপত্র টেনে নিচ্ছে, ডাক্তার এসে চোখের সামনে মায়ের বডি রেখে দিচ্ছে, একটা বাস্তবধর্মী ছবিতে জিনিসগুলো একটু চোখে লাগে। তবে ‘চ্যাম্প’ দ্বিতীয়ার্ধে যেরকম গতি নেয়, তাতে এই ভুলগুলো ছেড়ে দেওয়াই যায়। আর একটা কথা হলফ করে বলা যায়, দেব ‘চ্যাম্প’-এর মাধ্যমে যে প্রচেষ্টাটি করলেন, তা ইন্ডাস্ট্রিকে নতুন করে ভাবতে শেখাবে।